September 20, 2018

একদলীয় ধনতান্ত্রিক পুলিশি রাস্ট্র বাংলাদেশে আপনাকে স্বাগতম



"ডিজিটাল কালাকানুন" ৫৭ ধারা বাতিল করে সেখানে "ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন" পাস করেছে বাংলাদেশ সরকার, ঘটনা সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮।

সরকারী দলের পোষা বিরোধীদল মিনমিন করে কিছু আপত্তি জানিয়েছিল বটে, সেটা লোক-দেখানো বলে ধরে নিচ্ছি।

মজার বিষয় হচ্ছে, এই আইনটিতেই বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশকে পরোয়ানা এবং কারও অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, এই আইনে ঢোকানো হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের সমালোচিত আইন ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’।

অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অনুসারেঃ
১. সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ কোনো সংস্থায় গিয়ে কেউ দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে পারবেন না।
 ২. ঘুষ-দুর্নীতির কোনো দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারবেন না।
 ৩. এসব অবৈধ কাজের কোনো ভিডিও বা অডিও করতে পারবেন না।
 ৪. কোনো ডকুমেন্ট, ভিডিও, অডিও সংগ্রহ বা ধারণ করলেও তা প্রকাশ করতে পারবেন না।

আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অ-জামিনযোগ্য। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এই আইন লঙ্ঘন হয়, এমন অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে। অনধিক চৌদ্দ বছর এবং ন্যূনতম সাত বৎসর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান থাকছে এ আইনে।

অর্থাৎ, দুর্নীতিকারী সরকারী অফিসার/কর্মচারীর কাছে আগে থেকে আপনাকে অনুমতি নিতে হবে, "জনাব, আমি আপনার দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করছি, আপনি/আপনারা কিভাবে কত রেটে ঘুষ নেন, কেন ঘুষ নেন ইত্যাদি আমাকে জানিয়ে বাধিত করুন"!

বিজয়ের ফেরীওলা, বিশিষ্ট টেকনোলজিকাল ভাঁড় মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বেশ গায়ের জোরেই জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এই আইনটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক আইন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে গণমাধ্যমে সমালোচনার সুযোগ নেই।" অর্থাৎ, এখনই পেশীশক্তি দেখিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, "বাংলাদেশে এমন এক গণতন্ত্র চলছে যাতে সমালোচনা এবং প্রতিবাদের ফলাফল হবে জেল/জরিমানা'র শাস্তি"।

সকলকে স্বাগতম জানাই বর্তমান সরকারের এই কালাকানুন এবং পুলিশী রাস্ট্রের নাগরিক হিসাবে। আপনি এখন একটি একদলীয় ধনতান্ত্রিক পুলিশি রাস্ট্রের নাগরিক। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আপনাকে পরাধীনতার নাগপাশে বেঁধে ফেলেছে।

প্রশ্ন একটাই - আমরা জানি দেশে বিরোধীদল নামক কোন শক্তির অস্তিত্ব নেই, তবে স্বৈরাচারকেও আমরা পদ ছাড়তে বাধ্য হতে দেখেছি এই বাংলাদেশেই। - এই কালাকানুন আপনারা নিজেরাও কি এড়াতে পারবেন, হে মহামাণ্য সরকার?

September 9, 2018

ডায়েরী ০৯-০৯-২০১৮

নাৎসি নেতা ও হিটলারের প্রচারমন্ত্রী যোসেফ গোয়েবলস বলেছিলেন, "একটা মিথ্যাকে বার বার বলতে থাকাকুন,  জনগন তা সত্য বলে বিশ্বাস করে নেবে, এমনি আপনি নিজেও একসময় সেই মিথ্যাটাকেই সত্যজ্ঞান করবেন।"



আজকাল মিডিয়া-সোশাল মিডিয়া-নিউজ মিডিয়া এমনকি পথে ঘাটেও এমনসব মিথ্যা বারংবার শুনছি, আসলেই ভয় লাগছে আমাদের ভবিষ্যতের কতাহ ভেবে।

তেল-গ্যাস রক্ষা আন্দোলনের সময় সরকারপক্ষের এক ছাত্রনেতা সামনাসামনি বলেছিলেন, তেল-গ্যাস মাটির নীচে থাকলে পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। সাহস করে প্রশ্ন করতে পারিনি, "আপনার মগজটা পঁচে নষ্ট হয়ে উবে গেল কবে?"

August 15, 2018

অগাস্ট ১৫, ২০১৮ - ধোপার গাধার অনিয়মিত ডায়েরী



এখন যেমন আওয়ামিলীগ সরকার এবং তার চামচারা সবকিছুতেই "শিবির দেখে", একসময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামাত জোটও সব কিছুতে "আওয়ামিলীগ", "র এজেন্ট" খুঁজে পেত। তখন ঘরের খেয়ে ব্লগে ব্লগে যারা অনলাইনে ইউনিকোডে বাংলাদেশের ইতিহাস ছড়িয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ, ১৫ই অগাস্ট, বুদ্ধিজীবি হত্যা ইত্যাদি নিয়ে লিখছে, তৎকালীন সরকারপক্ষের পেটোয়া ফৌজ এর কু-যুক্তি আর ইতিহাস বিকৃতির বিপক্ষে লড়েছে যথেষ্ট পরিমান ঝুঁকি নিয়ে - সেই ছেলেগুলো এখন অপংতেয়, তাদের সব কিছুতেই আওয়ামিলীগ আর ছাত্রলীগ এখন "শিবির" আর "ষড়যন্ত্র" খুঁজে পায়!

আজকে এমন অনেককেই "হায় মুজিব", "হায় বঙ্গবন্ধু" বলে মাতম ছড়াতে দেখছি, শেখ হাসিনার জন্যে "জান কবুল" বলতে দেখছি - ঠিক ৬/৭ বছর আগেও তারা ঠিক উল্টোটা বলতো।

আমরা আসলে সেই ধোপার গাধা - না ঘরের না ঘাটের - যাস্ট গাধা।তখন শিবিরের শুয়োরের কামড়ে রগ কাটার হুমকি ছিল, এখন আওয়ামিলীগের পোষা উর্দীওলা শুয়োরের রিমান্ডের হুমকি। লাইফ ইজ রিয়েলি বিউটিফুল!

(পিনোকীয় বিষয়ক ঝামেলায় ফেসবুক ৩ দিনের ব্যান দিয়ে ভালোই হলো, অনেকদিন পরে নিজের ব্লগে লিখলাম)।

March 21, 2018

গাজী রাকায়েত-নামা ১


গাজী রাকায়েত এর বিষয়ে অভিযোগটা অনেকদিনেরই এবং অনেকেরই, ফেসবুকে মেয়েদেরকে সেক্সুয়াল এবিউজমূলক এগ্রেসিভ আচরন করা। সেদিন এক মেয়ে কিছু ইনবক্স এর কিছু স্ক্রীনশট শেয়ার করে একটা ক্লোজড মেয়েদের গ্রুপে, সেখান থেকে স্ক্রীনশটগুলি নিয়ে অনেকেই ঘটনার বিচার দাবি করেন। এদের মধ্যে একজন অপরাজিতা সঙ্গীতা
এর পরে গাজী রাকায়েত তার আরেকটি ফেসবুক আইডি থেকে জানায়, তার একাধিক আইডি আছে এবং ঐ নির্দিষ্ট আইডিটি হ্যাক হয়েছিল। আরেক স্থানে জানায় তার ফেসবুকের পাসওয়র্ড তার বাসার কাজের ছেলে জানে এবং কান্ডটি সেই ঘটিয়েছে, আবার আরেক স্থানে গাজী রাকায়েত এর বক্তব্য অনুসারে তার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড তার ছাত্র ও পরিচিতজনসহ ৫/৬ জনের কাছে ছিল, তারাই এই কুকান্ড ঘটিয়েছে।
হ্যাক হতেই পারে, তাই তাকে বেনিফিট অব ডাউট দিতে আপস-মীমাংসার চেষ্টায় শিল্পী সমিতি, প্রযোজক সমিতি এবং ডিরেক্টরস গিল্ড নামে নাট্যজগতের তিন সংগঠনের নেতারা অভিযোগকারীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজধানীর নিকেতনে আলোচনায় বসে। অথচ এরপরেই জানা যায়, লম্পট গাজী রাকায়েত গোপনে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় (জামিন অযোগ্য) উল্টো প্রতিবাদকারী অপরাজিতা সঙ্গীতার নামেই চুপি চুপি মামলা ঠুকেছে!
কে বা কারা হ্যাক করেছিল তা তদন্তের জন্য গাজী রাকায়েত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য নিতে পারত, বিষয়টা ওপরে বলা আপস-মীমাংসায় রফা হতে পারত | অথচ, গাজী রাকায়েত হ্যাকারকে না খুজে সেইসব স্কিনশট প্রকাশের দায়ে উল্টো সঙ্গীতার নামে আইসিটি এক্টের ৫৭ ধারায় মামলা করল!
এখন সে যৌন হয়রানির কথা যেই নারী প্রকাশ করেছেন তাঁর নামে বিতর্কিত ৫৭ ধারায় মামলা করায় এখন বুঝতে বাকি নেই কুকান্ডটা গাজী রাকায়েতই করেছে।
পাঠক যাস্ট এটুকুই ভাবুন, আপনার কন্যা বা বোনকে কেউ ফেসবুকে ইনবক্স করে আবদার জুড়ে দেবে যৌনাংগ দেখাবার আর সেটা মেনেও নিতে হবে, কারন প্রতিবাদ করলে পাল্টা যামিন অযোগ্য বিতর্কিত কালা কানুনের মামলা খাবে সে! চমৎকার না?
লেখার সাথে আরিফ জেবতিকের ফেসবুক পোস্ট সংযুক্ত করা হলো।



March 12, 2018

পিরিয়ড বা ঋতুশ্রাব নিয়ে সচেতনতা

পিরিয়ড বা ঋতুশ্রাব নিয়ে সচেতনতা - মাত্র ৪ মিনিটের একটা দারুন ভিডিও

December 27, 2017

Atheist Bangladesh ফেসবুক গ্রুপ বিষয়ক

আজ এথিস্ট বাংলাদেশ ফেসবুক গ্রুপে একটা পোস্ট পেলাম মিথিলা আক্তার মৌ নামের একজ নতুন সদস্য গ্রুপমেম্বারদের কাছে প্রশ্ন চাইছে "আমার এক ফ্রেন্ড আজকে নাকি লজিক দিয়ে প্রুভ করে দিবে Allah/God আছেন। আপনারা সবাই আপনাদের লজিক্যাল কোয়েশ্চিন গুলো কমেন্টে দিন। আপনাদের সেই প্রশ্নগগুলো আজ আমি তাকে করব। দেখি সে কিভাবে সবগুলোর লজিক্যাল উত্তর দেয়।" লিখে।
 


খানিক পরে তাড়া আসছে কমেন্ট আকারে


"আমাদের আলোচনা চলছে। সবাই তাড়াতাড়ি প্রশ্ন করুন । আমি আমার প্রশ্নের সাথে আপনাদের প্রশ্নগুলিও করব তাকে।"

বিষয়টা হলো, সে প্রশ্ন কালেক্ট করছে অথচ সেই প্রশ্ন গুলির কোন জবাবেরই আপডেট নেই! এই অবস্থায় তার সেই বন্ধুকে ফেসবুকের গ্রুপে আনতে বলার পর ওভার একটিভ হলো "Saikat Mondol "। ব্যাপারটা এমন, আপনি প্রশ্ন করলেন একজনকে আর জবাবী লড়াই শুরু করল আরেকজন এবং পিছলানির সাথে!






আরও মজা, Saikat Mondol জ্ঞান দিতে আগ্রহী হলেন, আবার আমি সেই জ্ঞান নিতে সম্মত হলে উল্টো প্রশ্ন! অবশ্য শেষমেষ তিনি কিছু জ্ঞান দিয়েছেন। এই পর্যায়ে মিথিলা আক্তার মৌ এর ফেসবুক ইউআরএল এ রতন দাস দেখে সেখানেই জানতে চাইলাম ঘটনা কি, জবাবে পেলাম কিছু বুলশিট।


এমনিতেই বাংলাদেশে অবস্থানকারী নাস্তিকদের পেছনে লেগে আছে সরকার আর সরকারী কালাকানুন ৫৭ ধারা। যাস্ট ১ দিন আগে এয়ারপোর্ট থেকে এরেস্ট হয়েছে আসাদ নূর - সতর্ক হওয়াই বাঞ্ছনীয় - তাই গ্রুপে পোস্ট করলাম সন্দেহের কথা, গ্রুপের মডারেশন অনুসারে সেই পোস্ট পেন্ডিং থাকল ঘন্টা খানেক, তারপর সেই পোস্ট পেন্ডিং থেকে উধাও!



এর মানে একটাই, যে গ্রুপে পোস্ট এডমিন/মডারেটরের পারমিশন ছাড়া পাবলিশ হয় না সেখানে এমন একখানা সন্দেহ জনক আইডির এলোপাথাড়ি ডাটা কালেকশন পোস্ট পাবলিশ হয় কিভাবে! আবার সন্দেহজনক রিপোর্ট পোস্টও মডারেশনে পড়ে গায়েব!




এথিস্ট বাংলাদেশ গ্রুপের এডমিন খুব সম্ভবতঃ হিটখোরী কৈরা এই ১ দিনের মেম্বার গুলারে মাথায় তুলতাছে, এতে তার/তাদের কিছু হিট/ট্রাফিক আসতে পারে, দিনশেষে ক্ষতি নাস্তিকদেরই।


মিথিলা আক্তার মৌ ওরফে রতন দাস/সৈকত মন্ডল (সবগুলাই ফেক প্রফাইল)


October 6, 2017

৯৯৯ ইমার্জেন্সী হেল্প লাইন অভিজ্ঞতা


999 National Emergency Service


একটু আগে একটা হাঁটুরে মার দেখলাম। এক কিশোরকে পেটানো হচ্ছে, হিজাব-বোরকা এবং কড়া মেকআপধারী এক কিশোরী পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে, এক ট্রাফিক পুলিশ জটলার ঠিক পেছনের সারিতে দাঁড়ানো। ছেলেটা কোনমতে ছুটে ট্রাফিক পুলিশের কাছে আসলো, পেটানো পার্টি তাকে আবার নিয়ে মনের সুখে পেটানো শুরু করলো। আমি ৯৯৯ এ কল করে ফোন কানে দিয়ে বসে থাকলাম (লম্বা সময় ধরে মোট ৩ বার ফোন করলাম ৯৯৯ এ, শেষবারের রেকর্ডিং আপলোড করে দিচ্ছি, কারন ৩ বারেই একই রেজাল্ট পেয়েছি)।

চেঁচামেচির মাঝে টুকরাটাকরা যা বুঝলাম তা হলো, মেয়েটার কোন "গোপন ছবি" ছেলেটার কাছে আছে এবং মেয়েটার বক্তব্য সে নাকি "ছেলেটাকে চিনে না" "কোনদিন দেখে নাই" "ছেলেটা ফেসবুকে ডিসটাব করে" "দুই একদিন ফোনে কথা হৈছে" ইত্যাদি।

মেয়েটা ছেলেটাকে সন্ধায় ফোন করে ডেকে আনছে, এখন মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড এবং তার বন্ধুরা হাতের সুখ করে নিচ্ছে পিটিয়ে। অলরেডি গায়ের পাঞ্জাবী ফাঁড়া শেষ।

  1. "ছেলেটাকে চিনে না"
  2. "কোনদিন দেখে নাই"
  3. "ছেলেটা ফেসবুকে ডিসটাব করে"
  4. "দুই একদিন ফোনে কথা হৈছে"

  • তাইলে সো-কল্ড গোপন ছবি ছেলের কাছে যায় ক্যাম্নে?
  • "চিনে না এবং কোনদিন দেখে নাই" - তাইলে ফোনে দুই-একদিন কথা হয় ক্যাম্নে?
  •  ঐ মেয়ের কোন যমজ বোন আছে, নাইলে ঐ একই চেহারার মেয়েরে ঐ মাইর খাওয়া ছেলের সাথে বেশ কয়েকদিন ক্যাফেতে বাকুম-বাকুম করতে দেখলাম ক্যাম্নে?
  • এই রেকর্ডিং অনুসারে, ইমার্জেন্সী সার্ভিসটা আসলে কি টাইপ ইমার্জেন্সী সার্ভিস দেয়? (৩ বার কল করেছি, রেজাল্ট সেইম)

৯৯৯ ইমার্জেন্সী হেল্প লাইন রেকর্ডিং

August 28, 2017

পবিত্র নগরীর খোঁজে...

পবিত্র নগরীর খোঁজে...

This British film was made about Canadian historian Dan Gibson, who has uncovered startling new archaeological evidence that Mecca was not the original Holy City of Islam.

August 1, 2017

ওবায়দুল কাদের রাজনৈতিক বেশ‌্যাবৃত্বিক দলের বড় পদে অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক বেশ্যা মাত্র - অবাক হবার কি আছে?



বেশ আগের কথা, বাংলাদেশের একটি বিভাগীয় শহরের আওয়ামীলিগ এর প্রেসিডেন্ট, সারা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ মহলে প্রচন্ড ক্লিন ইমেজধারী এবং এলাকার সাধারনের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় লোকটি খুন হয়ে যান, সেখানে শেখ হাসিনা স্বয়ং আসেন শোকগ্রস্থ পরিবারটিকে শান্তনা দিতে।

তবে শেখ হাসিনার সাথে আসা ঐ শহরেরই কয়েকজন রাজনীতিবিদকে দেখে খুন হয়ে যাওয়া ভদ্রলোকটির দুই ছেলেই তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন, সরাসরিই প্রশ্ন করে বসেন, "আপনি কেন বাবার খুনীদের নিয়ে এখানে এসেছেন?" অনেক আশ্বাস দিয়ে তাদেে সেদিন থামিয়েছিলেন, সেইসব আশ্বাস হালে পানি পায়নি, বরং বর্তমান আওয়ামীলিগ এমপি লিস্ট-এ সেই সব খুনিরাই নির্বাচিত - বিচার হয় নি, সেটা বলা বাহুল্য।

সেই একই শহরে, বিএনপির কোন এক শাখা দলের এক নেতা ছিলো, মানে ক'বছর আগেও বিএনপির সেই শাখা দলে ছিলো আর কি। হর সন্ধ্যে বাংলা গিলে শেখ হাসিনাকে "বেশ্যা/খানকি/মাগী" ইত্যাদি গাল পাড়তো, বছর কয়েক আগে সেই লোক রাতারাতি ভোল পাল্টে মুজিবের একনিষ্ঠ সৈনিক হয়েছে, রাতারাতি এবারে আওয়ামীলিগের এক শাখা দলের বড় পদে অধিষ্ঠিত।

গণজাগরন মঞ্চের সময়ে জাতীয় দৈনিকেই খবর এসেছিল, পুলিশ রাজাকার গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলে আওয়ামীলিগ নেতা কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে জামিন করায়, আওয়ামী নেতা পিটিয়ে মুক্তিযোদ্ধার হাড় ভাঙে, সম্পদ দখল করে।

যে কোন শহরে গিয়ে খোঁজ নিলেই পাওয়া যাবে, ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে আওয়ামী-বিএনপি-জামাত এখন বেয়াই-বেয়াই। আর জামাতের নেতারা আওয়ামীলিগে যোগ দিলে তাদের বুকে টেনে নিয়ে ফুল দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয় - পত্রিকায় নজর দিলে এরকমটাই দেখি সচিত্র।

ফেসবুকে সুশান্তদা'র পোস্টেই দেখেছি, ছাত্রলীগের পান্ডাগুলো এসে সরাসরি বলে যায় ছাত্রলীগ নিয়ে কিছু বলার আগে তাদের সভাপতি-সাধারন সম্পাদকের পারমিশন নেওয়া বাধ্যতামূলক মনে করে তারা।

অনেকেরই অপ্রিয় প্রসঙ্গঃ জামাতের সাথে জোট বাঁধার পরে শেখ হাসিানরই বক্তব্য ছিল, তিনি জোটের নেত্রী হিসাবে জামাতেরও নেত্রী!

অতি অল্প কিছু উদাহরন - নিজের পাশে খোঁজ নিন পাঠক, এরকম কোটি উদাহরন পাবেন নিজের পাশেই।

আর ওবায়দুল কাদের? সেই একই রাজনৈতিক বেশ‌্যাবৃত্বিক দলের বড় পদে অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক বেশ্যা মাত্র। তার দল যখন রাজাকার পুনর্বাসনে ব্যাস্ত, সে কিভাবে দলদাসত্ব ছেড়ে প্রতিবাদ করবে? তাই সে গলা ছেড়ে ববিনা দ্বিধায় জামাত নেতার ছেলে-মেয়েদের পক্ষে সাফাই গায়।

বরং আজকের বেশ্যাবৃত্বিক রাজনীতিতে ছাত্রলীগের ঐ বহিষ্কৃত ৫ টা ছেলেই আসলে রাম ছাগল। ওদের এটা মেনে নিয়ে সরেই যাওয়া উচিৎ, সারা দেশে ছাত্রলীগ যখন অদম্য সন্ত্রাসী-ধর্ষক-খুনি-চাঁদাবাজ-দখলবাজ এবং ধর্মান্ধ হিসাবে নিজেদের সফল ভাবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে, তখন সেই সিস্টেমের ভেতরে বসে অক্ষম প্রতিবাদ না করে নিজের নিজের জীবন নিয়ে সরে থাকাই ভালো, ভবিষ্যতে ঐ পাঁচটা ছেলে নিজের সন্তানের সামনে নিজেকে ছোটো হতে দেখবে ন।

আর আওয়ামীলিগ? - বর্তমানে এই দলটি যেভাবে রাজাকার-জংগীদের বুকে টেনে নেওয়া আর নিজেদের জনশত্রু হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার নীতি নিয়ে এগোচ্ছে - পরিনতিটা কি হবে তা সহজেই অনুমেয়।

June 11, 2017

জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্যকারীরা তাদের আল্লার কথাতেই আল্লার বিরুদ্ধাচারণ করে করে

জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্যকারীরা তাদের আল্লার কথাতেই আল্লার বিরুদ্ধাচারণ করে করে। তাইলে তারা কিভাবে নিজেদের ধার্মিক মুসলিম দাবী করে? আর সুরা ইউনুস ১০:১০০ এর হিসাবে জোরপূর্ব ধর্মপালনে বাধ্যকরা মানেই সরাসরি আল্লার বিপক্ষে যাওয়া - তাই নয় কি?

তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য? [ সুরা ইউনুস ১০:৯৯ ]
আর কারো ঈমান আনা হতে পারে না, যতক্ষণ না আল্লাহর হুকুম হয়। পক্ষান্তরে তিনি অপবিত্রতা আরোপ করেন যারা বুদ্ধি প্রয়োগ করে না তাদের উপর। [ সুরা ইউনুস ১০:১০০ ]

Disqus for Simple thoughts...