August 28, 2017

পবিত্র নগরীর খোঁজে...

পবিত্র নগরীর খোঁজে...

This British film was made about Canadian historian Dan Gibson, who has uncovered startling new archaeological evidence that Mecca was not the original Holy City of Islam.

August 1, 2017

ওবায়দুল কাদের রাজনৈতিক বেশ‌্যাবৃত্বিক দলের বড় পদে অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক বেশ্যা মাত্র - অবাক হবার কি আছে?



বেশ আগের কথা, বাংলাদেশের একটি বিভাগীয় শহরের আওয়ামীলিগ এর প্রেসিডেন্ট, সারা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ মহলে প্রচন্ড ক্লিন ইমেজধারী এবং এলাকার সাধারনের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় লোকটি খুন হয়ে যান, সেখানে শেখ হাসিনা স্বয়ং আসেন শোকগ্রস্থ পরিবারটিকে শান্তনা দিতে।

তবে শেখ হাসিনার সাথে আসা ঐ শহরেরই কয়েকজন রাজনীতিবিদকে দেখে খুন হয়ে যাওয়া ভদ্রলোকটির দুই ছেলেই তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন, সরাসরিই প্রশ্ন করে বসেন, "আপনি কেন বাবার খুনীদের নিয়ে এখানে এসেছেন?" অনেক আশ্বাস দিয়ে তাদেে সেদিন থামিয়েছিলেন, সেইসব আশ্বাস হালে পানি পায়নি, বরং বর্তমান আওয়ামীলিগ এমপি লিস্ট-এ সেই সব খুনিরাই নির্বাচিত - বিচার হয় নি, সেটা বলা বাহুল্য।

সেই একই শহরে, বিএনপির কোন এক শাখা দলের এক নেতা ছিলো, মানে ক'বছর আগেও বিএনপির সেই শাখা দলে ছিলো আর কি। হর সন্ধ্যে বাংলা গিলে শেখ হাসিনাকে "বেশ্যা/খানকি/মাগী" ইত্যাদি গাল পাড়তো, বছর কয়েক আগে সেই লোক রাতারাতি ভোল পাল্টে মুজিবের একনিষ্ঠ সৈনিক হয়েছে, রাতারাতি এবারে আওয়ামীলিগের এক শাখা দলের বড় পদে অধিষ্ঠিত।

গণজাগরন মঞ্চের সময়ে জাতীয় দৈনিকেই খবর এসেছিল, পুলিশ রাজাকার গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলে আওয়ামীলিগ নেতা কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে জামিন করায়, আওয়ামী নেতা পিটিয়ে মুক্তিযোদ্ধার হাড় ভাঙে, সম্পদ দখল করে।

যে কোন শহরে গিয়ে খোঁজ নিলেই পাওয়া যাবে, ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে আওয়ামী-বিএনপি-জামাত এখন বেয়াই-বেয়াই। আর জামাতের নেতারা আওয়ামীলিগে যোগ দিলে তাদের বুকে টেনে নিয়ে ফুল দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয় - পত্রিকায় নজর দিলে এরকমটাই দেখি সচিত্র।

ফেসবুকে সুশান্তদা'র পোস্টেই দেখেছি, ছাত্রলীগের পান্ডাগুলো এসে সরাসরি বলে যায় ছাত্রলীগ নিয়ে কিছু বলার আগে তাদের সভাপতি-সাধারন সম্পাদকের পারমিশন নেওয়া বাধ্যতামূলক মনে করে তারা।

অনেকেরই অপ্রিয় প্রসঙ্গঃ জামাতের সাথে জোট বাঁধার পরে শেখ হাসিানরই বক্তব্য ছিল, তিনি জোটের নেত্রী হিসাবে জামাতেরও নেত্রী!

অতি অল্প কিছু উদাহরন - নিজের পাশে খোঁজ নিন পাঠক, এরকম কোটি উদাহরন পাবেন নিজের পাশেই।

আর ওবায়দুল কাদের? সেই একই রাজনৈতিক বেশ‌্যাবৃত্বিক দলের বড় পদে অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক বেশ্যা মাত্র। তার দল যখন রাজাকার পুনর্বাসনে ব্যাস্ত, সে কিভাবে দলদাসত্ব ছেড়ে প্রতিবাদ করবে? তাই সে গলা ছেড়ে ববিনা দ্বিধায় জামাত নেতার ছেলে-মেয়েদের পক্ষে সাফাই গায়।

বরং আজকের বেশ্যাবৃত্বিক রাজনীতিতে ছাত্রলীগের ঐ বহিষ্কৃত ৫ টা ছেলেই আসলে রাম ছাগল। ওদের এটা মেনে নিয়ে সরেই যাওয়া উচিৎ, সারা দেশে ছাত্রলীগ যখন অদম্য সন্ত্রাসী-ধর্ষক-খুনি-চাঁদাবাজ-দখলবাজ এবং ধর্মান্ধ হিসাবে নিজেদের সফল ভাবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে, তখন সেই সিস্টেমের ভেতরে বসে অক্ষম প্রতিবাদ না করে নিজের নিজের জীবন নিয়ে সরে থাকাই ভালো, ভবিষ্যতে ঐ পাঁচটা ছেলে নিজের সন্তানের সামনে নিজেকে ছোটো হতে দেখবে ন।

আর আওয়ামীলিগ? - বর্তমানে এই দলটি যেভাবে রাজাকার-জংগীদের বুকে টেনে নেওয়া আর নিজেদের জনশত্রু হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার নীতি নিয়ে এগোচ্ছে - পরিনতিটা কি হবে তা সহজেই অনুমেয়।

June 11, 2017

জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্যকারীরা তাদের আল্লার কথাতেই আল্লার বিরুদ্ধাচারণ করে করে

জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্যকারীরা তাদের আল্লার কথাতেই আল্লার বিরুদ্ধাচারণ করে করে। তাইলে তারা কিভাবে নিজেদের ধার্মিক মুসলিম দাবী করে? আর সুরা ইউনুস ১০:১০০ এর হিসাবে জোরপূর্ব ধর্মপালনে বাধ্যকরা মানেই সরাসরি আল্লার বিপক্ষে যাওয়া - তাই নয় কি?

তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য? [ সুরা ইউনুস ১০:৯৯ ]
আর কারো ঈমান আনা হতে পারে না, যতক্ষণ না আল্লাহর হুকুম হয়। পক্ষান্তরে তিনি অপবিত্রতা আরোপ করেন যারা বুদ্ধি প্রয়োগ করে না তাদের উপর। [ সুরা ইউনুস ১০:১০০ ]

May 26, 2017

ধর্মীয় অধিকারের ধমকিতে বিপন্ন গণতান্ত্রিক অধিকার


বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে মেজরিটিতে আছে মুসলিমেরা। নিয়মিত অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ভিটে জ্বালিয়ে, কুপিয়ে খুন করে, জবাই করে, বাচ্চা মেয়েদের ধর্ষনের (পূর্নিমা থেকে পূজা দাস, আছে আরও) মতন বিভিন্ন ধর্মীয় অধিকার পালন করে থাকে কিছু ধর্মানুরাগী মুসলিমেরা তা খবরের কাগজে নজর বোলালেই পাবেন। গুলশান হত্যাকান্ডের কৃতিত্বও তাদেরই, সাথে থাকছে ব্লগারদের তালিকা প্রকাশ করে খুনের মতন ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রকাশের শান্তিপূর্ন (!) কর্মসুচীও।

ঠিক যেমন গতকাল রাতের আঁধারে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে বিচারদেবী থেমিসের ভাস্কর্য সরিয়ে নিয়েছে সরকার মৌলবাদীদের চাপের মুখে আর প্রতিবাদী নাগরিকেরা শিকার হয়েছে পুলিশের টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ আর হয়রানির। এখন সেই মৌলবাদীরাই দাবী করছে সারা বাংলাদেশ থেকে সকল  ভাস্কর্য সরিয়ে নিতে হবে মর্মে।


প্রতিবারই রোজার মাস এলে ঈমানে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে রেস্তোঁরা বন্ধ করার মতন আবদার করে বসে, মাঝে মাঝে রোজার মাসে কিছু রেস্তোঁরায় হামলাও হয়।

এই মেজরিটিদের ধর্মীয় অধিকারের ধমকিতে বিপন্ন হয়ে পড়ে মাইনরিটির গনতান্ত্রিক অধিকার - খাদ্য।

তোমার রোজা থাকবার দরকার তুমি মুখে চোখে পট্টি বেঁধে রাখো, কে রোজা রাখবে আর কে রাখবে না - সেটা তাদেরই ঠিক করতে দাও না! নন-মুসলিমের কথা বাদ দিচ্ছি। বয়ষ্ক অসুস্থ মুসলিম, একেবারে বাচ্চা আর ঋতুমতী মেয়ের ওপরেও কি তোমার রোজা ফরজ?  - না ফরজ নয়। তবে কেন এই ফালতু গায়ের জোর দেখিয়ে মানবিক অধিকার হরণ করা?



ভিডিওটি পাঠালো এক ছোটভাই, আজ সন্ধ্যায়।

February 28, 2017

ঔষধ স্ট্রিপ - মেয়াদ বিহীন

এই ছবিটা অস্ট্রেলিয়ান একটি ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া


এই ছবিটা ভারতীয় একটি ঔষধের (ওয়েব থেকে নেওয়া)


আর এই ছবিটা আজকেই সন্ধেয় কেনা বাংলাদেশী ঔষধের, যার স্ট্রিপের কোথাও কোন উল্লেখ নেই এর মেয়াদের।



রোগীদের পক্ষে প্রতিটা ঔষধ কেনবার সময় বিক্রেতার কাছে কার্টন দেখতে চাওয়া পসিবল নয়, যেখানে আবার ঔষধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কোর্টে প্রমানিত অভিযোগই আছে মেয়াদ উত্তীর্ন এবং জাল ঔষধ বিক্রি করার, যেখানে সেই কার্টন দেখতে চাইলেও যে  অরিজিনাল কার্টনে জাল ঔষধ রেখে বিক্রি করা হবে না তার গ্যারান্টি নেই কোন।

ল এনফোর্সারেরা কোন জাতের ঘাস খায় তা ভাবছি বসে বসে।

October 24, 2016

Five-year-old raped girl unconscious for 4 days

A five-year-old raped girl is undergoing treatment at Rangpur Medical College Hospital, still consciousness from injuries due to the brutality four days ago.

"My daughter went missing from near our house at Jamirhat village in Parbatipur upazila of Dinajpur on Tuesday evening. Next morning, villagers found her at a turmeric field, unconscious and in blood," said the victim's mother.

The girl suffered massive bleeding and trauma due to rape, said Dr Bikash Majumder, paediatrician of the hospital.

The girl's father filed a rape case with Parbatipur Police Station on Thursday accusing Saiful Islam and Afzal Hossain of Jamirhat village.

The accused went into hiding, said Mahmudul Alam, OC of Parbatipur Police Station.




The Daily Stat

পূজা দাশ নামে ৫ বছরের নিষ্পাপ এই শিশুর ছবিগুলো যতোবার দেখছি ততোবারই দুই চোখের জল আটকাতে পারছিনা। আজ যারা শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারনে এই শিশুর ধর্ষণের বিচারে নীরব ভূমিকা পালন করছেন, আপনাদের ইতিহাস কখনো ক্ষমা করবেনা। আর যেসব হিন্দুরা সাম্প্রদায়িক ট্যাগ খাওয়ার ভয়ে এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে চুপ রয়েছেন, মনে রাখবেন ইতিহাসের দায় একদিন আপনাদেরও মিটাতে হবে। পূজার ধর্ষক সাইফুলের ফাঁসি চাই।।

July 20, 2016

বোধোদয়ঃ হোক শুরু



রওশন বলেন, “যখন ব্লগার মারা হল তখন তো আমরা গোড়া খুঁজতে যাইনি, গুরুত্ব দিইনি। আমরা ডেপথে চিন্তা করি না। সবকিছু ভাসাভাসা দেখি।” - যাক, রওশন এরশাদ কিছুটা আঁচ পাচ্ছেন

আমার ব্লগ জীবন খুবই ছোটো, মাত্র সেদিন, ২০০৬ থেকে শুরু হয়েছিলো। সেই সময় থেকেই দেখছি, বারংবার বলা  হয়েছে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি দেশকে ধ্বংসের পথে নেবে একদিন, লাভ হয়নি। উল্টো গালি জুটেছে। বাকস্বাধীনতার ধুঁয়ো তুলে এইসব এক্সট্রিমিস্ট জংগীদের ফিউচার ব্রিডিং ফিল্ড তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই না, ২০১৩ সালে, শাহবাগ আপরাইজিং এর সময়টাতে আমাদের গনহারে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেসী খেতাব দিয়ে রাজীবকে দিয়ে শুরু হয়েছে খুনের উৎসব। এই নিরিহ ৮৪টি মানুষকে ফাঁসি দিতে লক্ষ-লক্ষ উগ্র সমর্থক সারা বাংলার স্থানে স্থানে মহড়া দিয়েছে, ঢাকা অচল করে দিয়েছে হেফাজত-এ-ইসলাম। সেসময় কি করেনি তারা? ভাংচুর-আগুন দেওয়া-সাংবাদিক মহিলাকে পেটানো, এমনকি আপনাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ "কোরান"ও পুড়িয়েছে এই ইসলামের সৈনিকেরা!

সে সময়টাতে নিরাপত্তাহীনতার আবেদন জানালে পুলিশ যা আচরন করেছে তাতে স্পষ্টই বুঝেছি, আমরা আসলে "ওপেন-সীজন" ঘোষনার স্বীকার হয়ে গেছি সরকারীভাবেই - একটা করে খুন হবে, কয়েকদিন পত্রিকায় আসবে, পুলিশ জানাবে ধরে ফেলবো, কখনো কখনো জনতা ধরে দেবে খুনি, সেইখুনি আবার জামিনে মুক্তি পেয়ে পালাবে অস্ট্রেলিয়ার মতন দেশে, প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্নে হবার সুবাদে। ধরাপড়া খুনি হাটহাজারী মাদ্রাসার "বড় হুজুর" এর আদেশ এর কথা জানালেও সেই হাঠাজারী গং সরকারী ভাবে ৩২ কোটি টাকার রেলের সম্পত্তি জমি বরাদ্দ পাবে জংগী উৎপাদন কারখানা সম্প্রসারে।

আর আমরা, কপালে "ছিল" মেরে দেওয়া ব্লগার আর একটিভিস্টরা চাকরী-ব্যাবসা ছেড়ে, মধ্যবিত্বের শেষ সঞ্চয় খুঁদ-কুঁড়ো ভাঙবো সংসার চালাতে, ঘর-সংসার-মা-বৌ-বাচ্চা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াবো নিরাপত্তার খোঁজে।

ওরা আমাদের মেরেছে, খুন করতে শিখেছে প্রাক্টিক্যালি। এরপর বিচ্ছিন্ন ভাবে বিদেশি-হিন্দু সেবায়েত মেরে শিখেছে গেরিলা পদ্ধতিতে টার্গেট কিলিং এবং এসকেপ। এরপর ঘটেছে গুলশান ম্যাসাকার আর শোলাকিয়া হামলা। আপনারাও টার্গেট হবেন, হে মহামাণ্য রাজনীতিবিদগন, হয়তো অদূর ভবিষ্যতেই। জংগী ঘাঁটি থেকে উদ্ধার হওয়া অত্যাধুনিক এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেল আর সেনাবাহিনীর মেজরের ইউনিফর্ম - এগুলো ঠিক সাধারন কোনো নিরিহ মানুষ মারতে বা দু'চারটে বাস পুড়িয়ে, বোমাবাজী করে আতংক ছড়াতে ব্যাবহৃত হবে সেটা ভেবে বসে থাকলে পস্তাবেন।

আজ আপনার বোধোদয় হলো, শুরু হোক অন্যদেরও।

July 19, 2016

জংগী এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিষয়ক আবজাবনামা ১৯-০৭-২০১৬



ব্রান্ডিং এর ক্ষেত্রে আইএস সফল। তারা তাদের "ছহিহ ইসলামি খেলাফাৎ" এর প্রসারে এতই সফল যে এখন যে কেউ যা খুশি তাই নিয়ে যেখানে খুশি হামলে পড়ছে, মানুষ মারছে মধ্যযুগীয় ভাবে, আর আইএস সেটার ক্রেডিট নিজেদের ঝুলিতে পুরছে। ধর্মের নামে এভাবে মানুষ মারতে পারে যারা তারা কখনোই "জানোয়ার" নয় - "জানোয়ার" এত খারাপ না, বিশ্বাস না হলে প্রকৃতিতে নজর বুলিয়ে দেখুন।

কথায় ফিরি, সমস্যাটা তৈরী করছে আইএস সমর্থকদের এই "গেরিলা" টাইপ আক্রমন, "হিট এন্ড রান" পদ্ধতি এখন হয়ে গেছে "হিট এন্ড শাহাদা" - আচমকা কিছু নিরীহ অপ্রস্তুত মানুষের ওপর স্বশস্ত্র হামলা - যারা প্রতিরোধ করবার মতন মনের জোর রাখে না, তারপর উদ্ধারে আসা আইন-শৃংখলা রক্ষীদের সাথে গোলাগুলিতে "শাহাদা" বা শহীদ হওয়া। ওরা কিন্তু বেঁচে ফিরে যাবার জন্য আসে না, আসে লড়াইয়ে মরে শহীদ হতে। তাতে লাভ, এই জনমের সকল কিছু মাফ, (আইএস বা সমর্থক দলের কাছ থেকে হয়তো পরিবার কিছু আর্থিক ভাবে লাভবান হয়, এখনো প্রমানিত নয়) - আর ওপারে বেহেশতে বিনা-হিসাবে চির-যৌবনের নিরোগ জীবন, অট্টালিকা, ৭২ উদ্ভিন্ন এবং চির চৌবনা হুর, কচি বালক গেলমানের দল, অফুরন্ত আহার, বেহেশতি শরাব, যার তুলনা নাকি দুনিয়ায় নেই।

রাসূল বলেছেন, আল্লাহর নিকট শহীদদের জন্যে ছয়টি পুরস্কার রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে :
ক) প্রথম রক্ত বিন্দু ঝরতেই তাকে মাফ করে দেয়া হয় এবং জান্নাত যে তার আবাসস্থল তা চক্ষুস দেখানো হয়।
খ) তাকে কবরের আজাব থেকে রেহাই দেয়া হয়।
গ) সে ভয়ানক আতঙ্ক থেকে নিরাপদ থাকে।
ঘ) তাকে সম্মানের টুপি পরিয়ে দেয়া হবে, যার এক একটি ‘ইয়াকুত’ পৃথিবী এবং পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকেও উত্তম।
ঙ) তাকে উপঢৌকন স্বরূপ আয়ত নয়না হূর প্রদান করা হবে।
চ) তাকে সত্তর জন আত্মীয় স্বজনের জন্যে সুপারিশ করার মতা প্রদান করা হবে। (মূল আর্টিকেলটি)

এই উন্মাদনার ধর্মীয় ভাইরাস এখন সর্বত্র - আগে দেখা যেত কিছু অশিক্ষিত, দরিদ্র পরিবারের ছেলেরাই এসব জংগীপনা করতো, কিন্তু এখন? ধর্মের হাইক্লাস ফেরীওলা জাকির নাইকের মতন ফেরীওলাদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই বাড়ছে উচ্চবিত্ত ঘরের ছেলেদের এই ধর্মীয় জংগীপনার ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়াও। কেনো এবং কি কারনে? - এ প্রশ্ন নিয়ে কোনো গবেষনা হয়েছে বলে জানি না। ঠিক কি কারনে এই সুন্দর পৃথিবীটা হঠাৎ ওদের কাছে পানসে হয়ে যাচ্ছে আর কল্পিত পরকাল এমন ভাবে জীবনের চাইতেও বেশী প্রিয় হয়ে উঠছে - সেটা নিয়ে ফুলস্কেল গবেষনা হওয়াটা খুব প্রয়োজন, বিশেষ করে মানসিক দিকটা।

বাংলাদেশে রোজার সময়ে টিভিতে এবং বিভিন্ন এফএম স্টেশনে সাধারনতঃ বিকেলের দিকে আগে শুনতাম "ইসলামী সাওয়াল-জবাব" টাইপ অনুষ্ঠান, যাতে দর্শক এবং শ্রোতারা ফোন করে প্রশ্ন করে। মাঝে মাঝেই শুনতাম কিছু টেম্প্লেট প্রশ্ন, যেমন, অফিসে সবাই ইফতার করে, সহকর্মীদের মাঝে একজন বা দুজন অন্য ধর্মের, তাই একসাথে বসে ইফতারী করাটা হালাল হবে কি না - এই টাইপ প্রশ্ন। হাসছেন? হাসবেন না, কারন এই টাইপ প্রশ্নকারীরা কেউই অশিক্ষিত নন, পড়াশুনো পারেন, অনেকেই অনেক বড় পদে কর্মরত।

জামাত এর সংগঠন শিবির দেখেছি আমাদের ছোটোবেলায় ট্যালেন্ট হান্ট করতো, হাইস্কুল লাইফের কথা বলছি। ক্লাসের এক থেকে দশ পর্যন্ত ছেলেগুলোর পেছনে হন্যএ হয়ে ঘুরতো মুখে মিষ্টি জবান নিয়ে। কিশোর কন্ঠ, ফুল-কুঁড়ির আসর, ইসলামী গানের দল (সাইমুম টাইপ), প্রতিদিন ভালো কাজ করার ডায়েরী - সর্বশেষ, নিয়মিত ছেলেকেই শুধু নয়, ছেলের বাপকেও তাগাদা দেওয়া, ছেলেকে নামাজ পড়তে মসজিদে যেতে। বাপ-মা এইসব বড়ভাইদের কথায় গলে যেতেন মোস্টলি, কারন ছেলে সাহিত্য, সাংস্কৃতি, গান এসবতো পাচ্ছেই, বড় ভাইয়ের সাথে নিয়মিত মসজিদে গিয়ে ফ্যামিলির জন্য বেহেশতের জায়গাও পাকা করে রাখছে।

এরপর হিজবুত-তাহরীর - এখানের যতগুলো কর্মী দেখেছি, সব গুলোই তুখোড়, আসলেই তুখোড়, অন্ততঃ পড়াশুনোর দিক থেকে। সেটা একডেমিক পড়াশুনো নয়, সবকিছুতেই। শিবিরের ছেলেগুলোর জ্ঞান শুধু কুরান-হাদিস আর নেতাদের গৎ বাঁধা ওহাবী বুলিতেই সীমাবদ্ধ থাকে, হিজবুত-তাহরীর কর্মী ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপ চালিয়ে যেতে পারে ধর্ম-দর্শন-সাহিত্য-রাজনীতি-পৃথিবী - সবকিছু নিয়েই।

না, হিজবুত-তাহরীর এর প্রশংসা করছি না, যাষ্ট বলছি, জামাত-শিবিরের অনেক পরে সংগঠিত এই দলটা জমাত-শিবির থেকেও কৌশলী, শিক্ষিত এবং চৌকষ। আর আইএস তো আরো মারাত্মক - আপনার ঘরের লাজুক মুখচোরা ছেলেটা কখন যে পার্সোনালিটি বদলে নৃশংস হত্যাকারী হয়ে উঠবে, বুঝতেও পারবেন না। আপনার কিশোরী লাজুক মেয়েটি কখন যে যৌন জেহাদে রওনা হবে -  জানতে পারবেন সে আপনার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবার পরে।

ধর্মীয় উন্মাদনা এবং ধর্মীয় জংগীপনার এই ভাইরাস এখন তার পার্ফমেন্সের তুংগে, ঠেকাবার মতন এন্টিবায়োটিক না পেয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করছেন “তারা এখন বেহেস্তের হুর পরী পাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, এর কী যৌক্তিকতা? কারা তাদের পেছন থেকে উসকাচ্ছে?” র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ঘোষনা দিচ্ছেন, "জঙ্গিজীবন থেকে ফিরে এসে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে", স্বরাস্ট্র মন্ত্রীর কথা আর বলতে যাচ্ছি না, তিনি এখন একজন মুর্তিমান বিনোদন।

মধ্যযুগে খ্রিস্টান ধর্মের বিরোধীদের ওপর জিজ্ঞাসাবাদের নামে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হত। এই ভয়াবহ পদ্ধতিটিকে বলা হয় "ইনকুইজিশন"(এ বিষয়ে প্রয়াত ব্লগার ইমন জুবায়ের এর লেখাটির লিংক)। আইএস যা করছে, আর তার পরিনামে যা হতে চলছে, আইএস পন্থীদের হাত ধরে দেশে শরীয়া আইন আসলে তার পরিনাম "ইনকুইজিশন" এর চাইতেও ভয়াবহ হতে পারে।

আশংকা করছি, দেশে হয়তো "ছহিহ মুসলিম" আর "জালি বা সন্ত্রাসী মুসলিম" ভাগ করতে গিয়ে ক্ষমতাবানেরা "উইচ-হান্ট" শুরু করে দেবে অচিরেই। তখন দেখবেন আপনার হাঁটা-চলার ভাব পছন্দ হয় নাই কোনো নেতার- আপনি প্যাঁচে পড়ে যাবেন, নিজের একমাত্র জমিটুকু বেঁচতে চাইছেন না ডেভলপারের কাছে, ডেভলপারের পার্টনার কোনো নেতা আপনাকে ফাঁসিয়ে দেবে, মন্ত্রীর ডান হাতের তালতো ভাইয়ের মেজ শালীর প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ডের উড়নচন্ডী মাস্তান ছেলে আপনার মেয়ে কে বিয়ে করতে আগ্রহী - আপনি মত না দিলে ফেঁসে যাবেন, আরো কত কি! অদূর ভবিষ্যতে কি হতে পারে সে নিয়ে আর বাড়তি বলে ৫৭ ধারায় জেলে পঁচে মরতে চইছিনা - সেটা আন্দাজ করার মতন বুদ্ধিমত্তা পাঠকের আছে বলে জানি।

খুবসম্ভবতঃ আর কিছুদিন পরে অন্য ধর্মের নাগরিকেরাতো বটেই, একজন সাধারন শান্তিপ্রীয় ধর্মভীরু মুসলিমও হার্ট এটাকের শিকার হবেন আশেপাশে হটাৎ করে "আল্লাহু আকবার" শ্লোগান শুনলে - আইএস হামলার ভয়ে।

এই অন্ধকার আমাদের সুন্দর সবুজ দেশটাকে ঢেকে ফেলবার আগেই থামানো দরকার, খুব দরকার।

July 9, 2016

বাংলাদেশে ঢুকে লাপাত্তা হাজার পাকিস্তানি - লুকিয়ে থাকাদের মধ্যে আহলে সুন্নতপন্থী মাদানী তাবলীগ জামায়াতে আসা উঠতি বয়সী পাকিস্তানির সংখ্যাই বেশী




বাংলাদেশে ঢোকার সময় ইমিগ্রেশনে দেয়া তথ্যে তারা স্থানীয় যে ঠিকানায় থাকার কথা বলেছেন, সেখানে গিয়েও তাদের খুঁজে পায়নি পুলিশ। এর মধ্যে অনেকে আবার খোদ পাকিস্তান দূতাবাসের ঠিকানাও ব্যবহার করেছেন। এদের খুঁজতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলশানে সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে আটক হন পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তা আবরার আহমেদ খান। ওই সময় ইসলামাবাদে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে কয়েক ঘন্টা নিখোঁজ করে রাখা হয়। তারও আগে গত বছরের শেষের দিকে পাকিস্তান দূতাবাসের কূটনীতিক ফারিনা আরশাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি ‘যোগসাজশের’ অভিযোগ ওঠে।

এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় পাকিস্তানের তৎকালীন ডেপুটি হাইকমিশনার ইরফান রাজাকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো।

গত বছরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর উত্তরা থেকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দুই পাকিস্তানিসহ জেএমবির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিলো গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে কিছু জিহাদি বই, বিদেশি মুদ্রা, পাসপোর্ট  এবং একটি ‘স্পাই-মোবাইল’ ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশ তখন বলেছিলো, ‘স্পাই-মোবাইল’ ফোনটি পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তার।  এ ঘটনায় আটক পাকিস্তানি নাগরিক ইদ্রিস শেখের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিলো দেশটির বাংলাদেশস্থ দূতাবাসের নারী কর্মকর্তা ফারিনা আরশাদের।

এই কী পয়েন্ট গুলি ছাড়াও আরো কিছু জরুরী তথ্য আছে এখানে (নিউজ নেক্সট বিডি)

Disqus for Simple thoughts...