বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনির হাতে নির্মম ভাবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর উলংগ করে পুলিশ ভ্যানে তুলে অবহেলায় ফেলে রাখায় মৃত্যু হয় লিমনের।
January 30, 2012
সরকার, জবাব চাইছি, এ দায় কার?
বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনির হাতে নির্মম ভাবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর উলংগ করে পুলিশ ভ্যানে তুলে অবহেলায় ফেলে রাখায় মৃত্যু হয় লিমনের।
Labels:
শুয়োরের বাচ্চা পুলিশ
| Reactions: |
January 25, 2012
লা-জওয়াব প্রশ্নমালা
* ফেলানী কেনো মরে?
* হাবিবুর রহমান কেন বিএসএফ এর অমানুষিক প্যাঁদানি খায়?
* মানুষ কেন বর্ডার পার করতে গিয়ে লাশ হয়?
* কেন ওরা দেশে পেটের ভাতের যোগাড় পায় না?
* কেন আমরা প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা দেই ভারতকে ওদের বোগাস আর সেমি-পর্ন সংস্কৃতি আমাদের গেলাবার জন্য?
* কেন আমরা এখনো কৃষিতে আর শিল্পে এত পিছিয়ে যে বাজারের সিংহভাগ ভারতের পন্যে ভর্তি?
* কেন আমরা দেশের ডাক্তারদের ফেলে ভারতে যাই চিকিৎসা নিতে?
* কেন আমাদের সরকার দেশের মানুষের দুটো ভাতের যোগাড়ে মনযোগী নয়?
* কেন আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এত মেরুদন্ডহীন?
* কেন আমাদের মন্ত্রী-আমলা-রাজনৈতিক নেতা-বুদ্ধিজীবি আর মিডিয়ার বিগশটরা ভারতের এসব "দাদাগিরী" নিয়ে মুখে হয় কুলুপ আঁটেন অথবা রাম-ছাগলের মতন সিলি জোক টাইপ কথা বলেন?
এসব প্রশ্নের জবাব আছে কারো কাছে?
| Reactions: |
January 22, 2012
শিরোনামহীন –১২ …
১৯৯৮...
রাত দশটা। মফস্বলে রাত দশটা মানে অনেক রাত। রাস্তা সুনসান। স্ট্রীট লাইটের আলোতে সরছে না রাস্তার বুকে জমে থাকা অন্ধকার, কেমন যেনো দলা পাঁকিয়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। মোড়গুলোতে দলা পাকিয়ে জাঁকিয়ে বসে অন্ধকারের দলা। রিকশা টুংটাং আওয়াজে ধীর গতিতে চলছে রাস্তা দিয়ে। কেউ আসছে। আর সেই রিকশাটার অপেক্ষায় এক মোড়ের কাছে অন্ধকারের পেটে অধীর বসে কয়েকজন লোক, লুঙ্গী পরা, চাদরে মোড়া মুখ-মাথা।
রিকশাটা এগিয়ে আসতে থাকে কাছে, টুংটাং শব্দের এগিয়ে আসা থেকে বোঝা যায়। কাছাকাছি হতেই নেতাগোছের একজন রাস্তার ওপরে দাঁড়ায় এসে, রিকশার পথ আটকে। পিছু নেয় তার সাথীরা।
মুহুর্মুহু কয়েকটি গুলির আওয়াজ, এরপরে একটা বোমা চার্জের শব্দ - এরপরই ঝেড়ে দৌড় দেয় ওরা। অপারেশন শেষ, টার্গেট মরলো নাকি বাঁচলো সেটা দেখবার আদেশ নেই, বরং নির্দেশ আছে ম্যাগজিন শেষ করে বোমা চার্জ করে ছুট লাগাতে। অবশ্য টার্গেট লোকটার বাঁচবার প্রশ্নই ওঠে না। গুলিতে কোনোভাবে বেঁচে গেলেও বোমাটা যথেষ্ট শক্তিশালী - টার্গেট বাঁচবে না কোনো ভাবেই।
পেছনে পড়ে থাকে বছর চল্লিশ বয়সী একটা ভারী গড়নের পুরুষের ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ, শরীর ক্ষতবিক্ষত হলেও মুখটা আশ্চর্য্য ভাবে অক্ষত আছে, বড়বড় দুটো চোখ, পুরুষালী মোটা গোঁফ।
২০০৭...
ভর দুপুর। মফস্বলে এসময় মানুষ হয় পেটপুরে ভাত খেয়ে ভাত খেয়ে বিছানা অথবা কোনো কোনা খুঁজে নিয়ে ভাতঘুম দেয়, নইলে ঝিম টেনে টিভি খুলে বসে।
লিকলিকে কালো একটা লোক, মারাত্মক শুকনো শরীর, তবে ক্ষিপ্র আর চটপটে। এদিক ওদিক তাকিয়ে কার্নিশ বেয়ে উঠে পড়ে দোতলার ঝুল বারান্দায়। লিকলিকে শুকনো শরীর নিয়ে সহজেই ঢুকে পড়ে মোটা ফাঁকের শিক গলে।
ঢুকে চট করে এদিক ওদিক তাকিয়ে নেয়। তারপর আনমনে মুচকি হেসে ওঠে। শিকারকে এমন সহজে বাগে পাবে কল্পনাও করেনি লিকলিকে কালো শিড়িঙে লোকটা। তার শিকার তখন এটাচড বাথরুমে, বেসিনে মুখ নীচু করে মুখে পানির ঝাপটা মারছে।
পা টিপে হাঁটা লোকটার অনেক বিশেষত্বের একটা, এই প্রফেশনে আসলে অনেক কিছু আয়ত্ব করতে হয় প্রানের দায়ে। পা টিপে টিপে ঠিক বাথরুমের দরজার চৌকাঠে পা রাখে খুনী। তারপর পিস্তলটা বাগিয়ে আরেকটু এগোয়।
মাথার পেছনে খোঁচা লাগা জিনিষটা কি সেটা বোঝার আগেই ট্রিগার ছোটে, পয়েন্ট ব্লাংক রেঞ্জ থেকে বুলেট মাথার একপাশ চুরমার করে দেয়। লাশটা পড়ার আগেই ধরে ফেলে খুনি, আস্তে করে শুইয়ে দেয় লাশটা বেসিনের নীচে। তারপর ছিটকে আসা রক্ত ধুয়ে ফেলে। ত্রস্ত পায়ে বেরিয়ে আসে, আবারো সেই সার্কাসের প্রাকটিস - শিক গলিয়ে শরীর বের করে তারপর কর্নিশ বেয়ে নেমে আসা। এরপর আর পেছনে তাকায়নি খুনি, সেরকমই "ইন্সট্রাকশন" ছিলো, সোজা হেঁটে ওঠে গলির প্যাঁচগোচের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ীতে।
লাশ, বয়স একুশ, লম্বা স্বাস্থ্যবান শরীর, বড় বড় চোখ, ঠোঁটের ওপরে পাতলা একটুকরো গোঁফ আছে।
২০**...
সাইলেন্ট করে রাখা মোবাইলটা বেজে ওঠে, কানে ঠেকিয়ে রিসিভ বটনে চাপ দিতে ভারী গলায় "গলিতে ঢুকছে" বলেই কেটে যায় কলটা। লোকটা ফোন নামিয়ে পিস্তলের বাঁট শক্ত করে চেপে ধরে। লোকটা জানে, আর মিনিট তিন-চারেকেই এসে যাবে সাইকেল আরোহী - তার টার্গেট। লুঙ্গী কাছা মেরে চাদর দিয়ে মাথা-মুখ আবারো ঢেকে নেয়, যদিও জানে, রাত এগারোটায় এই সুনসান গলিতে বোমা ফাটলেও কমপক্ষে দশমিনিটের আগে কেউ আসবে না, পুলিশ আসতে কমসে কম ঘন্টা লাগবে।
মাথা জোরে ঝাঁকি দেয় লোকটা, আবারো মনে করে নেয় "নির্দেশ" - "পিস্তলের ম্যাগজিন খালি করে ফেলতে হবে টার্গেটের ওপর, তারপর বোমা চার্জ এবং উল্টো ঘুরে দৌড় - গাড়ী অপেক্ষা করবে।" - একটু মুচকি হাসি জমা হয় ঠোঁটের নীচে, এই নিয়ে ওদের তিনটেকে খতম করা হবে, দুবার একই স্টাইলে। মাথার ভেতর অস্পষ্ট ভেষে ওঠে ব্রিফিং এর একটা লাইন "টার্গেট ওর পরিবারের অন্যদের চাইতে আলাদা, নি:শব্দ আর ক্ষিপ্র, কৌশলীও।" এবারে বিদ্রুপের হাসি ভাসে খুনির মুখে, টার্গেট সোজা সাইকেল চালিয়ে আসছে, আবছা আঁধারে দেখা যাচ্ছে - একদম ওর কোলের ভেতর এসে পড়বে একটু পরেই।
সাইকেল আরোহী মধ্যম গড়নের, বয়স একত্রিশ, হাইট পাঁচফুট ছয়, বড় বড় চোখ, নাকের নীচে মাঝারি গোঁফ। সাইকেলে বসে গুন গুন করে সুর ভাঁজে আরোহী - একটু পরেই পৌঁছুবে ঘরে।
মোড়ের কিছু আগে ওৎ পেতে বসে থাকে শিকারী। শরীর শক্ত হয় খুনের নেশায়। এবারে বের হবার প্রস্তুতি নেয় খুনী।
টাশ টাশ করে একটানা অনেকগুলো আওয়াজ।
একটা জোরালো বিষ্ফোরন।
শিকারী নিজেই শিকার হিসেবে ছিন্নভিন্ন শরীরে পড়ে আছে মাটিতে।
ওৎপেতে থাকা ষন্ডা চেহারার লোকগুলো আড়াল ছেড়ে বেরোয়, সবারই হাতে অস্ত্র, একজনের হাতে টু ওয়ে রেডিও।
সাইকেলটা এসে দাঁড়ায়।
খানিক কথা বিনিময় শেষে সাইকেলটা আবার টুংটাং শব্দে চালিয়ে নিয়ে ঘরমুখো হয় মানুষটা। সাইকেল আরোহী মধ্যম গড়নের, বয়স একত্রিশ, হাইট পাঁচফুট ছয়, বড় বড় চোখ, নাকের নীচে মাঝারি গোঁফ।
(শিরোনামহীন সিরিজটার নাম আসলে নিজের অদক্ষতাকে ঢাকতে, গল্পের টাইটেল ঠিক করতে হিমসিম খাওয়া এড়াতেই আরকি। যতদূর মনে পড়ে খান দশ/এগারো লেখা দিলো এই টাইটেলে, শুরু ছিলো "শিরোনামহীন - শূন্য" থেকে। তারপর অনেকগুলোই পরে ড্রাফ্ট করে ফেলি সামহ্যোয়ারইন এবং নিজের অন্যান্য অনলাইন ব্লগে। আজকে আবার টেষ্ট ড্রাইভ দিলাম।
এই লেখাটা আসলে আমার চারটে কুড়িয়ে পাওয়া বোনের একটা, পুতুলকে ওর জন্মদিনের উপহার হিসেবে দিলাম)
রাত দশটা। মফস্বলে রাত দশটা মানে অনেক রাত। রাস্তা সুনসান। স্ট্রীট লাইটের আলোতে সরছে না রাস্তার বুকে জমে থাকা অন্ধকার, কেমন যেনো দলা পাঁকিয়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। মোড়গুলোতে দলা পাকিয়ে জাঁকিয়ে বসে অন্ধকারের দলা। রিকশা টুংটাং আওয়াজে ধীর গতিতে চলছে রাস্তা দিয়ে। কেউ আসছে। আর সেই রিকশাটার অপেক্ষায় এক মোড়ের কাছে অন্ধকারের পেটে অধীর বসে কয়েকজন লোক, লুঙ্গী পরা, চাদরে মোড়া মুখ-মাথা।
রিকশাটা এগিয়ে আসতে থাকে কাছে, টুংটাং শব্দের এগিয়ে আসা থেকে বোঝা যায়। কাছাকাছি হতেই নেতাগোছের একজন রাস্তার ওপরে দাঁড়ায় এসে, রিকশার পথ আটকে। পিছু নেয় তার সাথীরা।
মুহুর্মুহু কয়েকটি গুলির আওয়াজ, এরপরে একটা বোমা চার্জের শব্দ - এরপরই ঝেড়ে দৌড় দেয় ওরা। অপারেশন শেষ, টার্গেট মরলো নাকি বাঁচলো সেটা দেখবার আদেশ নেই, বরং নির্দেশ আছে ম্যাগজিন শেষ করে বোমা চার্জ করে ছুট লাগাতে। অবশ্য টার্গেট লোকটার বাঁচবার প্রশ্নই ওঠে না। গুলিতে কোনোভাবে বেঁচে গেলেও বোমাটা যথেষ্ট শক্তিশালী - টার্গেট বাঁচবে না কোনো ভাবেই।
পেছনে পড়ে থাকে বছর চল্লিশ বয়সী একটা ভারী গড়নের পুরুষের ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ, শরীর ক্ষতবিক্ষত হলেও মুখটা আশ্চর্য্য ভাবে অক্ষত আছে, বড়বড় দুটো চোখ, পুরুষালী মোটা গোঁফ।
২০০৭...
ভর দুপুর। মফস্বলে এসময় মানুষ হয় পেটপুরে ভাত খেয়ে ভাত খেয়ে বিছানা অথবা কোনো কোনা খুঁজে নিয়ে ভাতঘুম দেয়, নইলে ঝিম টেনে টিভি খুলে বসে।
লিকলিকে কালো একটা লোক, মারাত্মক শুকনো শরীর, তবে ক্ষিপ্র আর চটপটে। এদিক ওদিক তাকিয়ে কার্নিশ বেয়ে উঠে পড়ে দোতলার ঝুল বারান্দায়। লিকলিকে শুকনো শরীর নিয়ে সহজেই ঢুকে পড়ে মোটা ফাঁকের শিক গলে।
ঢুকে চট করে এদিক ওদিক তাকিয়ে নেয়। তারপর আনমনে মুচকি হেসে ওঠে। শিকারকে এমন সহজে বাগে পাবে কল্পনাও করেনি লিকলিকে কালো শিড়িঙে লোকটা। তার শিকার তখন এটাচড বাথরুমে, বেসিনে মুখ নীচু করে মুখে পানির ঝাপটা মারছে।
পা টিপে হাঁটা লোকটার অনেক বিশেষত্বের একটা, এই প্রফেশনে আসলে অনেক কিছু আয়ত্ব করতে হয় প্রানের দায়ে। পা টিপে টিপে ঠিক বাথরুমের দরজার চৌকাঠে পা রাখে খুনী। তারপর পিস্তলটা বাগিয়ে আরেকটু এগোয়।
মাথার পেছনে খোঁচা লাগা জিনিষটা কি সেটা বোঝার আগেই ট্রিগার ছোটে, পয়েন্ট ব্লাংক রেঞ্জ থেকে বুলেট মাথার একপাশ চুরমার করে দেয়। লাশটা পড়ার আগেই ধরে ফেলে খুনি, আস্তে করে শুইয়ে দেয় লাশটা বেসিনের নীচে। তারপর ছিটকে আসা রক্ত ধুয়ে ফেলে। ত্রস্ত পায়ে বেরিয়ে আসে, আবারো সেই সার্কাসের প্রাকটিস - শিক গলিয়ে শরীর বের করে তারপর কর্নিশ বেয়ে নেমে আসা। এরপর আর পেছনে তাকায়নি খুনি, সেরকমই "ইন্সট্রাকশন" ছিলো, সোজা হেঁটে ওঠে গলির প্যাঁচগোচের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ীতে।
লাশ, বয়স একুশ, লম্বা স্বাস্থ্যবান শরীর, বড় বড় চোখ, ঠোঁটের ওপরে পাতলা একটুকরো গোঁফ আছে।
২০**...
সাইলেন্ট করে রাখা মোবাইলটা বেজে ওঠে, কানে ঠেকিয়ে রিসিভ বটনে চাপ দিতে ভারী গলায় "গলিতে ঢুকছে" বলেই কেটে যায় কলটা। লোকটা ফোন নামিয়ে পিস্তলের বাঁট শক্ত করে চেপে ধরে। লোকটা জানে, আর মিনিট তিন-চারেকেই এসে যাবে সাইকেল আরোহী - তার টার্গেট। লুঙ্গী কাছা মেরে চাদর দিয়ে মাথা-মুখ আবারো ঢেকে নেয়, যদিও জানে, রাত এগারোটায় এই সুনসান গলিতে বোমা ফাটলেও কমপক্ষে দশমিনিটের আগে কেউ আসবে না, পুলিশ আসতে কমসে কম ঘন্টা লাগবে।
মাথা জোরে ঝাঁকি দেয় লোকটা, আবারো মনে করে নেয় "নির্দেশ" - "পিস্তলের ম্যাগজিন খালি করে ফেলতে হবে টার্গেটের ওপর, তারপর বোমা চার্জ এবং উল্টো ঘুরে দৌড় - গাড়ী অপেক্ষা করবে।" - একটু মুচকি হাসি জমা হয় ঠোঁটের নীচে, এই নিয়ে ওদের তিনটেকে খতম করা হবে, দুবার একই স্টাইলে। মাথার ভেতর অস্পষ্ট ভেষে ওঠে ব্রিফিং এর একটা লাইন "টার্গেট ওর পরিবারের অন্যদের চাইতে আলাদা, নি:শব্দ আর ক্ষিপ্র, কৌশলীও।" এবারে বিদ্রুপের হাসি ভাসে খুনির মুখে, টার্গেট সোজা সাইকেল চালিয়ে আসছে, আবছা আঁধারে দেখা যাচ্ছে - একদম ওর কোলের ভেতর এসে পড়বে একটু পরেই।
সাইকেল আরোহী মধ্যম গড়নের, বয়স একত্রিশ, হাইট পাঁচফুট ছয়, বড় বড় চোখ, নাকের নীচে মাঝারি গোঁফ। সাইকেলে বসে গুন গুন করে সুর ভাঁজে আরোহী - একটু পরেই পৌঁছুবে ঘরে।
মোড়ের কিছু আগে ওৎ পেতে বসে থাকে শিকারী। শরীর শক্ত হয় খুনের নেশায়। এবারে বের হবার প্রস্তুতি নেয় খুনী।
টাশ টাশ করে একটানা অনেকগুলো আওয়াজ।
একটা জোরালো বিষ্ফোরন।
শিকারী নিজেই শিকার হিসেবে ছিন্নভিন্ন শরীরে পড়ে আছে মাটিতে।
ওৎপেতে থাকা ষন্ডা চেহারার লোকগুলো আড়াল ছেড়ে বেরোয়, সবারই হাতে অস্ত্র, একজনের হাতে টু ওয়ে রেডিও।
সাইকেলটা এসে দাঁড়ায়।
খানিক কথা বিনিময় শেষে সাইকেলটা আবার টুংটাং শব্দে চালিয়ে নিয়ে ঘরমুখো হয় মানুষটা। সাইকেল আরোহী মধ্যম গড়নের, বয়স একত্রিশ, হাইট পাঁচফুট ছয়, বড় বড় চোখ, নাকের নীচে মাঝারি গোঁফ।
(শিরোনামহীন সিরিজটার নাম আসলে নিজের অদক্ষতাকে ঢাকতে, গল্পের টাইটেল ঠিক করতে হিমসিম খাওয়া এড়াতেই আরকি। যতদূর মনে পড়ে খান দশ/এগারো লেখা দিলো এই টাইটেলে, শুরু ছিলো "শিরোনামহীন - শূন্য" থেকে। তারপর অনেকগুলোই পরে ড্রাফ্ট করে ফেলি সামহ্যোয়ারইন এবং নিজের অন্যান্য অনলাইন ব্লগে। আজকে আবার টেষ্ট ড্রাইভ দিলাম।
এই লেখাটা আসলে আমার চারটে কুড়িয়ে পাওয়া বোনের একটা, পুতুলকে ওর জন্মদিনের উপহার হিসেবে দিলাম)
Labels:
শিরোনামহীন
| Reactions: |
January 18, 2012
বিএসএফ যখন ঈশ্বর, অথবা ভারত যখন আইনের শাসনহীন একটি শুয়োরের খোঁয়াড় মাত্র
এনডি টিভি, ভারত
বিডিনিউজ২৪
বিএসএফ যখন ঈশ্বর, অথবা ভারত যখন আইনের শাসনহীন একটি শুয়োরের খোঁয়াড় মাত্র - প্লিওসিন অথবা গ্লসিয়ার
Labels:
বিএসএফ
| Reactions: |
January 16, 2012
১৫-০১-২০১২ : বিচ্ছিন্ন দিনলিপি (কৌতুক এবং একটি পাগলামির খতিয়ান)
ডিজিটাল এক্সপো, সাদা ভাষায় "কম্পিউটর মেলা", জুনিয়র এক কলিগ বায়না ধরেছে লাঞ্চ ব্রেকে যাবে এবং আমাকে সাথে নিয়ে যাবে। তাই গিয়ে হাজির হলাম আজ দুপুরে। কলিগের বয়স টেনেটুনে ২২/২৩, আমাকে মেলাতে ঢুকিয়ে দিয়ে কিছুক্ষন আশেপাশেই ছিলো, আমি যখন একটা সফটওয়র ফার্মের স্টলে গিয়ে একটা কাস্টমাইজড সফটওয়র নিয়ে ক্যাঁচাল শুরু করেছি, বেটা ওমনি গায়েব। কিছুক্ষন পরে দেখে বাছাধন আসছে, চোখদুটো পারলে ৩৬০ ডিগ্রী ঘোরাতে ঘোরাতে। ঘটনা কিছু না, বয়সের দোষ আরকি ;) স্টলে স্টলে বসা সুন্দরীদের দিকে রসগোল্লা সাইজের চোখ নিয়ে দেখছে। এরপরে এগোলাম আরেক স্টলে, কিছু কেনাকাটা করতে।
"দেখেন দেখনে ঐ মেয়েটা! কি সুন্দর দেখেন!" - কলিগের উত্তেজিত স্বর।
"বয়স নাই রে ভাই, বুড়া বয়সে এত সৌন্দর্য্য দেখতে গেলে হার্ট এটাক খাওনের চান্স আছে" - ফাজলামি করে গম্ভীর গলায় জবাব দিলাম।
ফিক ফিক করে একটা চাপা হাসির শব্দ, দেখি এক মেয়ে আমাদের ঠিক পাশের স্টল থেকে মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসিতে ফেটে পড়েছে আমাদের দিকে তাকিয়ে। বোঝা গেলো, শুনেছে সবটাই।
মুখে একটা বিরস ভরিক্কি ভাব নিয়ে সোজা হন হন হাঁটা দিলাম কলিগের হাত টেনে।
"আপনার সাথে মেলায় আসা ফুল লস প্রজেক্ট" - ভচকা মুখ করে সিগ্রেট ধরাতে ধরাতে কলিগের মন্তব্য, মেলার বাইরে, সিগ্রেটের দোকানে এসে।
দুপুরের একটু পরে, একটা মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে কয়েকজন, শেঁকলে আঁটোসাঁটো করে বেঁধে। না, আসামী নয়, আমাদের ভাষায় "পাগল", বিশেষজ্ঞদের ভাষায় "মানসিক ভাবে অসুস্থ্য" একজন মানুষ। লোকটা এক নাগাড়ে খিস্তি খেউড় করছে, যতটা সম্ভব যুঝছে এঁটে বসা বাঁধনের সাথে, মুক্ত হতে চায়।
ঘটনা খুব সিম্পল, টাকার শোকে "পাগল" বেচারা। কেউ টাকা মেরেছে? না। সম্পত্তি হাতছাড়া? তাও না। তবে ঘটনা কি? কৌতুহল জাগে।
আত্মীয়দের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, লোকটা কৃষান। একটা মোবাইলও আছে তার। মোবাইলে কয়েকদিন আগে ফোন এসেছিলো। যে লোকটা ফোন করেছিলো সে ঐ কৃষানকে জানায় ঐ কৃষান নাকি বাংলালিংক এর লটারীতে ১৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জিতেছে, পেতে হলে রেজিস্ট্রেশন হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা এক্ষুনি টপআপ করে দিতে হবে (ওদের ভাষায় "ফেলেকজি" করতে হবে)। প্রমান হিসেবে লটারিওলা লোকটা নাকি কৃষানকে তার ঠিকানা আর এলাকার নামধাম সবই বলেছে (আত্মীয়দের কথা, বাংলালিংকের লোক না হলে এসব জানলো কোথায়?)।
টাকা "ফেলেকজি" করার কয়েকদিন পরেও যখন লটারির টাকা পাওয়া যায় নি, লোকটা হঠাৎ করেই "পাগলামো" শুরু করে। গোপালগঞ্জ থেকে তাই বেঁধে এখানে আনা হয়েছে, ডাক্তার দেখাতে।
(এরকম একটা ঘটনা আমারো আছে, এক মামীকে ফোন করে প্রায় কনভিন্স করে ফেলেছিলো, আমি মামীর ফোনটা হাতে নিয়ে লোকটাকে কিছু প্রশ্ন শুরু করার পর লাইন কেটে যায়, পরে নম্বরটাও বন্ধ হয়ে যায়। ঐ লোকটা মামীকে এবং আমাকে মামীর কানেকশনের ডিটেইল হিস্ট্রী, এফএনএফ, ঠিকানা, কোন দোকান থেকে নম্বরটা কেনা, কত সালে কেনা, গত কায়েকমাসে কবে কত বিল দেওয়া হয়েছে এই সবই বলেছিলো ঠিক ঠিক।)
"দেখেন দেখনে ঐ মেয়েটা! কি সুন্দর দেখেন!" - কলিগের উত্তেজিত স্বর।
"বয়স নাই রে ভাই, বুড়া বয়সে এত সৌন্দর্য্য দেখতে গেলে হার্ট এটাক খাওনের চান্স আছে" - ফাজলামি করে গম্ভীর গলায় জবাব দিলাম।
ফিক ফিক করে একটা চাপা হাসির শব্দ, দেখি এক মেয়ে আমাদের ঠিক পাশের স্টল থেকে মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসিতে ফেটে পড়েছে আমাদের দিকে তাকিয়ে। বোঝা গেলো, শুনেছে সবটাই।
মুখে একটা বিরস ভরিক্কি ভাব নিয়ে সোজা হন হন হাঁটা দিলাম কলিগের হাত টেনে।
"আপনার সাথে মেলায় আসা ফুল লস প্রজেক্ট" - ভচকা মুখ করে সিগ্রেট ধরাতে ধরাতে কলিগের মন্তব্য, মেলার বাইরে, সিগ্রেটের দোকানে এসে।
দুপুরের একটু পরে, একটা মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে কয়েকজন, শেঁকলে আঁটোসাঁটো করে বেঁধে। না, আসামী নয়, আমাদের ভাষায় "পাগল", বিশেষজ্ঞদের ভাষায় "মানসিক ভাবে অসুস্থ্য" একজন মানুষ। লোকটা এক নাগাড়ে খিস্তি খেউড় করছে, যতটা সম্ভব যুঝছে এঁটে বসা বাঁধনের সাথে, মুক্ত হতে চায়।
ঘটনা খুব সিম্পল, টাকার শোকে "পাগল" বেচারা। কেউ টাকা মেরেছে? না। সম্পত্তি হাতছাড়া? তাও না। তবে ঘটনা কি? কৌতুহল জাগে।
আত্মীয়দের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, লোকটা কৃষান। একটা মোবাইলও আছে তার। মোবাইলে কয়েকদিন আগে ফোন এসেছিলো। যে লোকটা ফোন করেছিলো সে ঐ কৃষানকে জানায় ঐ কৃষান নাকি বাংলালিংক এর লটারীতে ১৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জিতেছে, পেতে হলে রেজিস্ট্রেশন হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা এক্ষুনি টপআপ করে দিতে হবে (ওদের ভাষায় "ফেলেকজি" করতে হবে)। প্রমান হিসেবে লটারিওলা লোকটা নাকি কৃষানকে তার ঠিকানা আর এলাকার নামধাম সবই বলেছে (আত্মীয়দের কথা, বাংলালিংকের লোক না হলে এসব জানলো কোথায়?)।
টাকা "ফেলেকজি" করার কয়েকদিন পরেও যখন লটারির টাকা পাওয়া যায় নি, লোকটা হঠাৎ করেই "পাগলামো" শুরু করে। গোপালগঞ্জ থেকে তাই বেঁধে এখানে আনা হয়েছে, ডাক্তার দেখাতে।
(এরকম একটা ঘটনা আমারো আছে, এক মামীকে ফোন করে প্রায় কনভিন্স করে ফেলেছিলো, আমি মামীর ফোনটা হাতে নিয়ে লোকটাকে কিছু প্রশ্ন শুরু করার পর লাইন কেটে যায়, পরে নম্বরটাও বন্ধ হয়ে যায়। ঐ লোকটা মামীকে এবং আমাকে মামীর কানেকশনের ডিটেইল হিস্ট্রী, এফএনএফ, ঠিকানা, কোন দোকান থেকে নম্বরটা কেনা, কত সালে কেনা, গত কায়েকমাসে কবে কত বিল দেওয়া হয়েছে এই সবই বলেছিলো ঠিক ঠিক।)
Labels:
দিনলিপি
| Reactions: |
January 10, 2012
চীরকুট - শান্তনু বিশ্বাস
চীরকুটে দেখি ছোট্ট করে লেখা
"সন্ধায় হবে চারুকলায় দেখা"
আমি জানি সে আসবেই, নেই কোনো ভুল
সেই পথ জুড়ে ছাতিম গাছের ফুল।
ও যাই ভাবুক, হাত দুটো ধরবো,
আমি আজ তাকে সব কথা খুলে বলবো...
রঙহীন ছিলো বাদাম গাছের পাতা
গান ছিলো শুধু ছিলোনা গানের খাতা।।
দ্বিধায়-দ্বন্দে নিশ্চুপ ছিলো যতো কথা
সেই কথা সব আজ তাকে খুলে বলবো...
সে যদি বলে কিভাবে নতুন ঘর বাঁধে?,
ভাইবোন মিলে পুরো সংসার তার কাঁধে,
দিন-রাত্রী কাটে জীবনের সংঘাতে,
তাকে নিয়ে তার সংসারে হারাবো...
চীরকুটে দেখি ছোট্ট করে লেখা
"সন্ধায় হবে চারুকলায় দেখা"
আমি জানি সে আসবেই, নেই কোনো ভুল
সেই পথ জুড়ে ছাতিম গাছের ফুল...
চীরকুট - শান্তনু বিশ্বাস
এ্যালবাম : চীরকুট
গান ডাউনলোড : ৫.২০ মেগাবাইট
| Reactions: |
January 3, 2012
শালার বাঙালী, ফেসবুক বন্ধ হৈলে আন্দোলন হয়, চবি আর জগন্নাথে নিরিহ পোলাপাইন মাইর খাইলে কিছু না!
হ্যালো গোল্ডফিশ বীর বাঙালী! তিনসেকেন্ডেই সব ভুলে যাও তোমরা, তাই না? গায়ে লাগছে? তাই?
বেশ, মনে করো দেখি চবির সেই তান্ডব, হঠাৎ করেই স্বেচ্ছাচারীতামূলক বেতন বৃদ্ধি আর প্রতিবাদ করাতে নিরস্ত্র সাধারন ছাত্রছাত্রীদের ওর হায়েনা লেলিয়ে দেওয়ার সেই ঘটনা গুলো?
মনে পড়ে না? হা হা হা, এ আর নতুন কি!
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: দিন বদলের দিচ্ছে হাওয়া, বেতন ফি বৃদ্ধি পাওয়া! - দিনমজুর
ছবি ব্লগ: কৃষ্ণক্রোধে পুড়ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়! চবি প্রশাসনের কি এই ছবিগুলো দেখে উত্তর দেয়ার নৈতিক সাহস আছে? - দিনমজুর
আমরা আরো কতক্ষন ঘরে বসে থাকব? - রাহিদুল সামান্না রকি
পড়া শেষ? এবারে একটু এটা পড়ো এবার
"প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যা আশ্বাস এবং প্রতারনার শিকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উপরে সরকারী পেটোয়াবাহিনী ছাত্রলীগের আক্রমন! আমরা কোন দেশে বাস করছি? - আসিফ মহিউদ্দীন"
কি? কিছু বোধে আসছে না? তাই না? হঠাৎ করে এসব আবার কি, তাই না? নাহ, এটা ঘটনা বেশ পুরোনো, এখানে একটু খোঁচা দিয়ে দেখতে পারো "ছবি ব্লগঃ জবিতে ফুঁসে উঠেছে ছাত্ররা। ছাত্র আন্দোলন এবং গনবিক্ষোভ।” এবং "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো আইনের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনসমাবেশ- আজকের আন্দোলনের আপডেট। [ছবি সহ]”
চবি, জগন্নাথ - এতো কেবল শুরু, পরবর্তী টার্গেট কোন ক্যাম্পাস, কেউ জানে না। আমিও না, তবে এটা ঠিক জানি, ফেসবুক বন্ধ থাকলে যাদের গন আন্দোলনের ডাক দেবার চুলকানি থাকে, সারা দেশের দেশের শিক্ষার্থীদের এক হতে আহ্বান জানায়, তারা কিন্তু এখন ফেসবুকে লুলাইতে বিজি, যাকনা ক্যাম্পাস জানোয়ারের হাতের মুঠোয়, ফেসবুক ঠিক থাকলেই সব ঠিক। অথচ ওরা আজ সবাই মিলে একজোটে গলা তুললে হাসিনার চৌদ্দপুরুষের সাহস নেই পাল্টা কথা বলার।
৫২, ৬৯, ৭১ বা ৯০ এর মতন সোজা নেই আজ ছাত্রদের মেরুদন্ড, তারা আজ এক হতে জানে খলি ফেসবুকে হট গার্ল দেখে লুলাইবার জন্যে, দৃপ্তকন্ঠে বলবার মতন কেউ নেই "গদি ছাড়ো হাসিনা, দেশ শাসনের উপযুক্ত তুমি নও।"
শালারা সব পাতকুয়োতে ডুবে মরো গিয়ে। হাতে চুড়ি পরে বসে থাকতে বলতে পারছি না, চুড়ি পরা ছোট্টো ছোট্টো মেয়েগুলোও ভিকারুন্নেসাতে প্রমান করে দিয়েছে, মিডিয়া আর হাসিনার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে ওরা জিততে জানে, ওরা জানে চোখরাঙানীর বদলে পাল্টা চোখরাঙানী দিতে। আর তোমরা শালা আদ-ধামড়া বেটামানুষগুলো চুপ করে বসে থাকছো যখন তোমাদের ভাইয়ের অধিকার আদায়ের মিছিলে হামলা করে হাসিনার পোষা ছাত্রলীগের শুয়োরের দল।
আবারো বলছি, শালারা সব পাতকুয়োতে ডুবে মরো গিয়ে।
| Reactions: |
December 26, 2011
তিতাসঃ ২০০৮ এবং ২০১১
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অপ্রকাশিত
আসবেন নাকি আমাদের দলে?ট্রানজিটের পয়লা মাশুল: তিতাস একটি খুন হয়ে যাওয়া নদীর নাম! - দিনমজুর
জাগো বাহে , কুন্ঠে সবাই ??? তিতাস অভিমুখে কোদাল মিছিল - আরিফ রুবেল
৩০শে ডিসেম্বর তিতাসের খণ্ডিত দেহ দেখতে যাবো, কে কে যাবেন? - কৌশিক
Labels:
তিতাস একটি মৃত নদীর নাম
| Reactions: |
December 24, 2011
Subscribe to:
Posts (Atom)

