February 19, 2009

প্রলাপ : ৮ (আট) : ধোঁকা!!!...

সকাল থেকে অপেক্ষায় রেখেছিলে, ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিচ্ছো? চলে যাওয়া বছরগুলো, সাথে অনন্তকাল দিয়েছি তোমাকে - আমার ধৈর্য্য ভাঙবেনা।

সূর্যাস্তের সময় প্রাসাদের দ্বার খুলে বেরোলে তুমি - রণসাজে। সত্যি বলছি, জমকালো যুদ্ধসাজে অসম্ভব সুন্দর আর পবিত্র লাগছিলো তোমাকে, মন খারাপ হয়েছিলো বিষন্ন মুখটা দেখে। আজ মুখোমুখি সমর দুজনার।

কাছাকাছি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, নরম স্বরে জানতে চাইলে,
"কেমন আছো?"


"যেমন দেখছো।"

চোখে চোখ রেখে ছুঁড়ে ফেললে অস্ত্র, বর্মটাও, ধীর পায়ে এগিয়ে গেলে, বসলে, যেখানে বসতাম একসময়।

আমার চোখের প্রশ্ন পড়ে নিয়ে হাসলে, হালছেড়ে দেওয়া হাসি, বললে,
"হেরেইতো গেছি, লড়ে কি হবে আর, তারচাইতে বরং সন্ধি করি এসো।"
একবুক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে যোগ করলে, "বলো, কি চাও?"

এক নিশ্বাসে জানালাম, "তোমাকে।"

"কি হলো? আজ চুমুটা পাবোনা?" একটু হেসে একটা পা বাড়ালে শূন্যে।

নতজানু হয়ে চুমু এঁকে দিলাম তোমার পায়ে, বরাবরের মতই, প্রতিটি সাক্ষাতে যা দিয়েছি তোমায়।

আলতো করে একটা হাতে চুলগুলো ধরলে আমার, "তোমার চুল এতো বড় দেখিনি কখনো।"

অস্ফুট জানালাম, "নিজের দিকে খেয়াল দেওয়া হয়না আর।"

"শোনো, অমন ছোট করে চুল ছেঁটোনা আর, আদর করা যায়না" - তোমার কোলে আমার মাথাটা টেনে চুল নিয়ে এলোমেলো খেলতে খেলতে বললে।

"দেখো সূর্যাস্তটা! আহ! কতদিন পরে একসাথে আমরা এখানে, তাইনা?"

"হ্যাঁ", বললাম, "অনেক গুলো বছর পরে।"

"মনে আছে? যখন ছোট ছিলাম, দুজনার বিভেদ বুঝতাম না, কতইনা ছুটে বেড়িয়েছি একসাথে, এইখানে?" - গলায় সেই আগের চপলতা তোমার।

'হ্যাঁ', দীর্ঘশ্বাস বের হয় বুক চিরে, "যদি ফিরে যেতে পারতাম সেই সব দিনে!"

"ধুর! কিসের হতাশা এতো?" জলতরঙ্গ বেজে ওঠে রিনিঝিনি, "চাইলেই হারানো যায়, দেখবে?" ছুটে চলে গেলে বাগানের দিকে, গোলোক ধাঁধার রাজ্যে, "আসো, ধরতে পারো কিনা দেখি..."

ছেলেবেলার মতই পিছু নিলাম তোমার, গোলোক ধাঁধায়, তোমার হাসির শব্দে পথ চিনে।

একটা সময়, বাঁক ঘুরে দেখি তুমি দাঁড়িয়ে প্রাচীরে পিঠ দিয়ে, চুপটি করে।
আমাকে দেখে মুখে হাসি ফোঁটালে, সমর্পনের, দুহাত বাড়িয়ে হাতছানি দিলে, স্বপ্নমাখা স্বরে, "কাম অন, টাচ মি..."

একটু দাঁড়ালাম, শ্বাস নিতে, তাকালাম তোমার মুখটাতে, মায়াময় মুখটা! দৃষ্টি আঁটকে গেলো তোমার চোখদুটোতে! মুখটাতে সমর্পনের হাসি, অথচ চোখে বিজয়ের উল্লাস!

তবে কি....!?

চটকরে আড়াল নিতে ঝাঁপ দিই এক পাশে। মূহুর্ত পরেই মাথা তুলে দেখি, ছুটন্ত তোমার পেছনে বন্ধ হয়ে আসছে গুপ্তদ্বার।

ধোঁকা!!!

তোমার সহচরী নিশানাভেদে অব্যার্থ। গুপ্তঘাতকের প্রতিটা শর এসে বিঁধেছে লক্ষ্যে। তবু ছুঁতে পারেনি আমার হৃদয়। সেটা এ বুকে থাকলে তো!

ভুলে গেছো দেবী?
অনেক বছর আগেই, নিজের বুক চিরে তাজা হৃৎপিন্ডটা উপড়ে এনে সঁপেছিলাম তোমার পায়ে - আমার প্রথম অর্ঘ্য তোমাকে।

পা দিয়ে ঠেলে দুরে ফেলেছিলে তুমি সেটা, উচ্চারন করেছিলে দু:সাহসের দন্ড - আজীবন নির্বাসন।

আর হৃৎপিন্ডটা?
পড়ে আছে আজও তোমার প্রাসাদের অন্ধকার কোনো কোণে,
যেখানে রোদ্দুরেরা পৌঁছোয়না কখনো.....

Disqus for Simple thoughts...