November 22, 2009

কর্পোরেট তর্জনী অথবা আবাসিক ছিঁপি বিষয়ক একখানা রূপকথা

"আলফা রোমিও" এবং "আলফা ব্রাভো" দুজন সুশীল বাঙালী, দেশ ছেড়ে নাস্তিকদের মুলুকে বাস করছেন, আকাংখা "আবাসিক সবুজ পত্র" পাওয়া। প্রত্যহ সেই ইরাদায় দুজনে পদস্থ নাসারাদের পদচুম্বন করিয়া থাকেন, ওনাদের দাসানুদাস রূপে নিজেদের উস্থাপন করেন, ইমিগ্রেশন অপছারের আন্ডুর কালারের পুন: পুন প্রশংসা আর তার মিসেসের জন্যে নিত্য নতুন বহুমূল্য প্যাড সরবরাহ করবার সুযোগ পাইয়া নিজেদের মানব জনম ধন্য বোধ করেন।

যাই হৌক, অবশেষে বেড়ালের ভাগ্যে শিঁকে ছিঁড়লো, হস্থগত হৈল মহামূল্য "আবাসিক সবুজ পত্র"। এবারে প্রয়োজন নাম কামানো।

দুজনা মিলে দেশ প্রেমিক সাজলেন, দেশের বিপুল দুর্ভাগা যুবক যুবতীর কল্যানার্থে দেশে একটা শাখা খুলিলেন ব্যাবসায়ের। আশা, দেশে জুটিবে ঈশ্বরতূল্য মান, বৈদেশে "অন্তর-ন্যাশনাল বিনিয়োগকারীর দূর্লভ স্ট্যাটাস।" শাখা আপিশ থেকে আশা, কোন মতে ব্রেক-ইভেন হৈবে - বাকি যা আসে উপরী। বাংলাদেশের উদ্ধারে গড়িলেন "সাম্যবাদ কর্মক্ষেত্র।"

গোল বাধাইলো চারটি অশিক্ষিত, যাহাদের নিয়োগদান করিয়াছিলেন নেহাৎই কোটা পূরনের উদ্দেশ্যে। উহারা উত্তোরোত্তর প্রবৃদ্ধি ঘটাইয়া মই বাওয়া শুরু করিলো। বৎসরান্তে দেখা গেল, আয় হৈয়াছে মিলিয়ন বৈদেশি নাসারা দেশীয় তঙ্কা, আর সতেজ মূর্খ পদচারনায় নিস্তেজ হৈয়া পিছাইয়া গেছে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনেরা, যাহাদের বড় অংশই আসলে বড় কুটুম্ব গোত্রের এবং তাহাদের রিক্রুট করা হৈয়াছিলো আপিশ ম্যানেজমেন্টের আবাসিক হিসাবে।

নামে বাঙালী কাজে বৈদেশি মালিকগন ক্রাক মিটিং ডাকিলেন। এ কি আস্পর্ধা! উনাদের মত ছাড়াই ব্যাবসায়ে এত কামাই! মত থাকিলে কি হৈত তবে! এই সব অশিক্ষিত নিয়া বড়ই জ্বালা! আরে বেটারা, তঙ্কা আসিবে আসুক, তোদের হস্থ হৈতে কেন!? আমাদের বড়কুটুম্বরা নিস্কর্মা হৈতে পারে, অকর্মা নিশ্চয়ই নয়! অকর্মা হৈলে কি নালিশ আসিতো উহাদের নামে অর্থ আত্মসাৎ এর? নাকি অভিযোগ উঠিতো মহিলা কর্মচারীকে কূপ্রস্তাব দেবার? নাকি অনুযোগ উঠিতো পে-স্কেল অমান্য করিয়া উহাদের উত্তোরোত্তর হিট বৃদ্ধি, থুক্কু, মাহিনা বৃদ্ধির?

তবে কেন এই দু:সাহস! কোন রকম ছাড় নাই!
গর্জাতে গর্জাতে বদলি নোটিশ জারি হৈল, জেনারেল হৈল, থুক্কু ক্ষমতা-হরন হৈল দুরাচারদের, দাসখত চুক্তিতে উল্লেখিত বাৎসরিক মাহিনা বৃদ্ধি স্থগিত হৈল দূর্ভাগাদের। ডাবল-ইনক্রিমেন্ট হৈল আবাসিক তথা বড়কুটুম্বদের।

ব্যাবসার আয় কমিতে থাকিলো জ্যামিতিক হারে। আবার ডাক পড়িলো ম্যানেজমেন্ট সমাবেশের।

কর্তাপক্ষ ততদিনে অভ্যস্থ হৈয়া পড়িয়াছে এই অতিরিক্ত আয়ের ভদকা, স্কচ, টাকিলা আর ক্যনাকে, দামী গাড়ী, বড় ফ্ল্যাট আর নাসারা দেশের অভিজাত বসতিতে - সেই কারনে ব্যাবসায়ের মাসকাবারী হিট, থুক্কু আয় ঠিক রাখা নিতান্ত দরকার। তবে কি কর্পোরেট ঈশ্বরেরা আর মহামহিম আবাসিকেরা নত হৈবেন? কক্ষোনো নহে! তবে উপায়?

প্রস্তাব গৃহিত হৈল, সেই অশিক্ষিত চারটিকে আবাসিকত্ব প্রদানের, শর্ত - আম-চাকরদের পক্ষাবলম্বন বন্ধ করিতে হৈবে। আশা ছিলো উহারা নিজেদের ধন্য বোধ করিবে কারন প্রথম থেকেই সর্বাত্মক সচেষ্ট থাকিয়াছে মালিক আর আবাসিকদের, বাদবাকি চাকরদের মেরুদন্ড খুলিয়া ফেলিবার জন্যে।

তবু! একি! এ কি হেরিলো তাহারা! পত্রপাঠ ভেটো প্রদান করিলো দুরাচার অশিক্ষিত হাফ-প্যান্ট চাকরের হালি! বরং পাল্টা প্রস্তাব পাঠাইলো আবাসিকদের নির্বাসন এবং কর্তাপক্ষের পক্ষ সাধারন চাকরবৃন্দের প্রতি হৈতে ক্ষমা চাহিয়া পত্র!

হায়! একি কলিকাল! এ যে মেক্সিকান দেশীয় মুখোমুখি অবস্থান গ্রহন! তবে উপায়!

ম্যানেজমেন্ট হাফপ্যান্টুল চাকরদের ঘাঁটাইতে সাহস না পাইয়া নিরিহ আম-চাকরদের প্রতিবাদ প্রতিরোধের পন্থা নিলেন।

একজনকে জানানো হৈল তিনি নিস্কর্মা। চাকরী নাই।
আরেকজনকে বলা হৈল তিনি দালাল। চাকরী নাই।
একজনকে বলা হৈল তিনি বেশ্যা। চাকরী নাই।
আরেকজনকে জানানো হৈল চাকুরি করিতে হৈলে কর্তাপক্ষের বড়কুটুম্বদের সাথে উপুর্যপুরি ছায়াছবি দর্শন শেষে কোনএক আবাসিকের গৃহগমন ও মনোরঞ্জন না করিলে তাহাকে জবাব দেওয়া হৈবে।

তবু বিদ্রোহ কমে না, কর্তাপক্ষ ও আবাসিকেরা হাফপ্যান্টুল চাকরদের কিছু বলিবার সাহস পান না।

অবশ্য বেশিদিন টিকিলো না এই প্রতিরোধ, চার জনে চারদিকে ছড়াইয়া পড়িলো, নতুন কর্মক্ষেত্রে যোগদান করিয়া নিজেদের অবস্থান শক্ত করিবা মাত্র পুরাতন কর্মস্থল "সাম্যবাদ কর্মক্ষেত্র" এ অবস্থানরত প্রাক্তন সহকর্মী/সহকর্মীনিদের নিজেদের ছত্রছায়ায় আনিলেন, কাউকে রেফার করিলেন পরিচিত অন্য আপিশে।

অবশেষে হাঁফ ছাড়িয়া বাঁচিলো "সাম্যবাদ কর্মক্ষেত্রের" মালিক ও আবাসিকবৃন্দ। আপিশ কলেবর ছাঁটিয়া পূর্বের একচতুর্থাংশ করিলেন - এখানে "আমরা সবাই আবাসিক" নীতি প্রচলন করিলেন। আয় ধীরে ধীরে শূন্যে নামিবার কথা স্বাভাবিক ভাবেই, তবু কমিলো না, কারন সুনাম কামইয়ে প্রলুব্ধ রাজনীতিবিদ কম নেই, বৈদেশি বিনিয়োগ স্ট্যাটাস লোভে নিজেদের অন্ধকারাচ্ছন্ন অর্থ দুহাতে ঢালিলেন তারা। তাহাদের নামেরই দরকার মাত্র - আয়ের নহে। আর কর্তাপক্ষের প্রয়োজন অর্থের, সেটি সফেদ আর কৃষ্ণ - কি আসে যায় তাতে?

শেষ খবর পাওয়া মোতাবেক, মাসিক হিট, থুক্কু কামাই আগের মত প্রচুর না হওয়াতে কর্তাপক্ষ "আবাসিক ছাঁটাই কার্যক্রম" গ্রহন করিয়াছেন যাহার ফলে দূর্বল লেখনীর, থুক্কু আইলসা আবাসিক ফায়ার হৈবেন, আর সারভাইভাল ফর দ্যা ফিটেস্ট হিসাবে "মোস্ট তৈলাক্ত জিহ্বার অধিকারী আবাসিক" টিকিয়া থাকিবেন।

তাই নিজেদের ভেতরে আজ প্রচন্ড প্রতিযোগিতার সম্মুখীন আবাসিকেরা আজকাল একটা তর্জনী অন্যের পেছনেই গুঁজে রাখেন।

আরেকটা তর্জনী? ওহ! বলতে ভুলে গেছি, সেটা নিজেদের পেছনেই রাখেন, সতর্কতা হিসাবে, ছিঁপি হিসাবে।


(এটি নিতান্তই একটি রূপকথা মাত্র।)

Disqus for Simple thoughts...