April 2, 2010

চাকরী….

দরজার এপাশে:

ভ্রু দু'টো একটু কুঁচকে আসে মীর্জা সাহেবের। এতক্ষন অবশ্য অপেক্ষা করাটা বরং ভালোই লাগছিলো, আসলে "মাল"টা তেমনই, একটু আধটু অপেক্ষা বরং উত্তেজনা বাড়ায়। তবে এখন মেজাজটা একটু খারাপ হচ্ছে। এক ঘন্টা হলো এখোনো আসবার নাম নেই।

যাকগে! আর আধ ঘন্টা দেখবেন, তারপর ফোন করে পরিচিত কোন হাই ক্লাস নিশিকণ্যার সার্ভিস নেবেন। আজকে বিছানায় একটা তরতাজা মেয়ে চাইই চাই।


ভাবতে ভাবতেই কলিং বেল বেজে ওঠে, ক্ষমতা মাখা কামুক হাসি নি:শব্দে ফুটে ওঠে গোলাকার মুখটাতে।

দরজার ওপাশে:

মেয়েটা আবারো ভেবে নেয় একবার, কিছুই করবার নেই এছাড়া। ক'টাদইন পরে না খেয়ে ভিক্ষে করবার পথে নামতে হবে। তিনকুলে কেউ নেই, টিউশনি করে কোনমতে পাশ করেছে, ইদানিং টিউশনিও জুটছে না। নাহ, এছাড়া কোন উপায় নেই সামনে।

রওনা হয়, একসময় পৌঁছোয় গন্তব্যে। নিচের গার্ড ফ্লাটের নম্বর শুনেই সমীহ মাখা কন্ঠে ডাইেরকশন দিয়ে দেয় লিফট এর। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মাথা নীচু করে আরেকবার ভাবে মেয়েটা। তারপর কলিং বেল সুইচে চাপ দেয়।

বেলের শব্দটা যেনো বরফ মাখা একটা হাত হয়ে মেয়েটার কলজে চেপে ধরে।

মুখোমুখি অথবা একান্তে:

দরজাটা খোলার সময়ই হাসিটা উধাও হয়ে সেখানে একটা অদ্ভুত কাঠিন্য ভর করে, মালিক সুলভ গলায় ধমকে ওঠে লোকটা, "ইউ আর লেইট!"

মেয়েটার নীচু মাথা আরো নীচু হয়ে যায়, আস্তে পা বাড়ায় ভেতরে।

ঢুকে সোফায় বসতে বলে লোকটা, এখন গলাটা একটু নরম। "ফ্রেস হতে চাইলে বাথরুম ওদিকে" - আধ খালি গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে জানায় মানুষটা।

মেয়েটা এগিয়ে যায়।

"পেছন থেকে কাঠামোটা দারুন লাগে! দারুন সেক্সি!" - ভাবে লোকটা।

পাক্কা দুমাস ঘোরবার পরে মাগীটা বুঝেছে আসলে কি চাওয়া হচ্ছে ওর কাছে, মনে পড়ে লোকটার, অবশেষে কাল ধরা দিয়েছে, রাজি হয়েছে ওর ফ্লাটে এসে রাতভর একান্তে ইন্টারভিউ দিতে।

মেয়েটা ফেরে, লোকটা এগোয়।

মদের গ্লাসটা হাতে ধরে ভাবে মেয়েটা, এইতো উপায়!

কাল থেকে ভাবছিলো, এই অসহায় ধর্ষনের সময়টা পেরোবে কিভাবে, কিভাবে সহ্য করবে। মদের গ্লাসটা পথ দেখায়।

বমি চেপে একটু একটু করে পেটে চালান হতে হতে বেশ ক'টা পেগ শেষ হয়।

মেয়েটা একটু একটু করে মাতাল হতে থাকে।

লোকটা মেয়েটার মাতাল হওয়া উপভোগ করে।

রাতের বেশি কিছু মনে নেই ওর, শুধু মনে আছে, একটা শরীর ছিলো শরীরের ওপরে, দু'পায়ের ফাঁকে ব্যাথা, ঠোঁটে রক্ত জমা, বুকে দাঁতের ছাপ।

এপাশে:

সকালেও একটু টালমাটাল লাগছিলো ওর, হাতে গুঁজে দেওয়া এ্যাপয়েনমেন্ট লেটারটা বুঝে উঠতে পারছিলোনা - অথচ এর জন্যেই এত কিছু সহ্য করা - দুপুরে হ্যাংওভার কাটা মেয়েটা ভাবে নিজের বিছানায় শুয়ে শুয়ে।

উল্টে পাল্টে দেখে চিঠিটা - দু'দিন পরের ডেট, পাক্কা দশ হাজার টাকা স্যালারি।

সকালেই অবশ্য শুনে এসেছে উন্নতির মূলমন্ত্র - ভালো পার্সোনাল যোগাযোগ রাখা, মাঝে মাঝে সাহেব লোনলি ফিল করলে ডেকে পাঠাবেন এখানে।

ওপাশে:

মীর্জা সাহেব চিন্তামগ্ন, মেয়েটার শরীর কেমন যেনো নেশা ধরিয়ে দিয়েছে, এরকমটা সাধারনত হয়না ওনার। অবশ্য উপায় খুবই সোজা, ভাবছেন কিছুটা বাড়াবেন স্যালারি, ডেস্ক এর বদলে নিজের পিএ করে নেবার আইডিয়াটা খারাপ হবে না। এখনকার পিএ মেয়েটা আর আকর্ষন করেনা আগের মত, ছিবড়ে হয়ে গেছে কেমন যেনো।

ভেবে নিয়ে ফোনটা হাতে তোলেন তিনি, নেইম লিষ্টে ঘুরতে ঘুরতে নির্দিষ্ট নামটার ওপরে স্থির হন।

ওপাশে:

ফোন বেজে ওঠে, ডিসপ্লেতে নামটা দেখে একটু ঘাবড়ে যায় মেয়েটা, "জয়েন করতে মানা করে দেবেন নাকি?" ভয়ে ভয়ে ভাবতে ভাবতে ফোন ধরে মেয়েটা, কাঁপা গলায় বলে "হ্যালো..."

এপাশে:

ফোন নামিয়ে রেখে আবার অপেক্ষা করেন মীর্জা সাহেব। সুরার পেয়ালায় চুমুক দেন।

ওপাশে:

কলিং বেলটা বেজে ওঠে। আজ আর অতটা দ্বিধা কাজ করে না ভেতরে।

হিসেবটা সোজা, নাও আর দাও, গিভ এ্যান্ড টেক।

এই বাজারে এই চাকরীটা খুব দরকার ওর বেঁচে থাকতে।

Disqus for Simple thoughts...