November 16, 2010

যোজন যোজন অতীতের প্রথমা তুমি

ঠিক দু'বছর আগের কুরবানীর ঈদটাতে একসাথে ছিলাম আমরা, সবাই মিলে- আবার সবার মাঝে আমরা দুজন যেনো আলাদা, অনেকটাই একা - মনে আছে কি?

সারাদিন সবাই ব্যাস্ত থাকতো ঈদের ঠিক দু'দিন পরের সেই অনুষ্ঠানটার জন্য, ফারিহার বিয়ে নিয়ে।
আর তুমি আর আমি ব্যাস্ত থাকতাম কখন সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে খুনসুটি শুরু করবো একটুক্ষনের জন্য।


তুমি শাড়ী পরতে পারোনা, অন্ততঃ তখন পারতে না, তবু আমি এলে শাড়ী পরে আনাড়ীর মত চলতে ঘরের মধ্যে। সবার চোখ বাঁচিয়ে টুক করে তোমার খোঁপা খুলে দিয়ে হাসিতে ফেটে পড়তাম নিঃশব্দে, তুমি চোখ পাকাতে আবার খোঁপা বাঁধতে বাঁধতে। অথচ মজা হলো, সবাইই জানতো আর প্রশ্রয় দিতো!

রাত হলে আমি চুপিসারে উঠে চলে যেতাম ছোট্ট বারান্দাটাতে, তুমিও এসে হাজির হতে নুপূর খুলে -পাছে কেউ টের পায়!

পাশাপাশি হেলান দিয়ে বসে দু'জনেই ফিসফিসিয়ে কত আবোলতাবোল বলতাম!
আমি ক'দিন পরে চলে আসছি দূরে সেটা না, তোমার চোখ ছলছলিয়ে উঠেছিলো পরদিন সকালে এত্তো কিউট ছাগলটাকে জবাই করা হবে ভেবে! বলেছিলে গরুটাকে আগে জবাই করতে, তোমাকে নাকি শিং দেখিয়ে তাড়া করতে গিয়েছিলো সন্ধায়!

তোমার পিঠ ছিলো আমার বুকে, আমার একটা হাত তোমার পিঠ বেষ্টন করে তোমার একটা হাতের ওপর, আরেকটা হাত চোখের পানি মুছছিলো তোমার।

শাড়ীটা ছিলো সুতির - দিব্যি মনে আছে আমার।

সেদিন মনে হয়েছিলো ভালোবাসা ছিলো সেটা, আজ বুঝি, সেটা ছিলো নিখাদ অভিনয়।

তবু কষ্ট নেই, আজ রাত জাগবো আরেকজনকে পাশে নিয়ে।
আজ আর বারান্দা নয়, বাসার সামনের উঠোনে হাঁটবো।
গিয়ে বসতেও পারি বেঞ্চিতে, কালোশাড়ী খুব পছন্দ ওর।
কাজল, নূপূর আর কাঁচের চুড়ি।

পাশাপাশি বসে খুনসুটিতে খোঁপা খুলে দেব, হয়তো একটা চুড়িও ভাঙবো, হয়তো কাজল লেপটে দেব চোখের চারপাশে।

আজ তোমাকে লিখছি, কারন আমি তাকে কথার চাইতে লিখে বোঝাতে পারি অনেক বেশি।
কোন কিছুই লুকোইনা কারো থেকে সেটাতো জানোই তুমি। তোমার কাছে এই চিঠি আসলে তার কাছে আমার স্বীকারোক্তি, তারই উৎসাহে।

আশা করি নিঃসঙ্গ ঈদটা তোমার ভালোই কাটছে এবার, প্রথমা।

মন খারাপ করো না এসব নিয়ে, তুমি দায়মুক্ত হয়েছো আগেই, আর আমি বাঁচতে শিখেছি বর্তমানকে নিয়ে।

ছবি কৃতজ্ঞতা : গুগল
টাইটেল কৃতজ্ঞতা : আইরিন সুলতানা

Disqus for Simple thoughts...