January 14, 2011

বর্ডারে মানুষ কেন মরে? - দায়টা আমাদেরই কিন্তু!

আমরা প্রতিবারই কিছু চোরকে নির্বাচিত করি, যাদের কারো পিঠে আওয়ামী আর কারো পিঠে বিএনপির সিল থাকে।

এই চোরেরা বসে সিংহাসনে, সেই নির্বাচনী খরচটাও যায় শ্রমিকের রক্তপানি করা টাকার ট্যাক্সে - ইনকাম ট্যাক্স থেকে শুরু করে ভ্যাট - সবই।

এরপর তারা ক্ষমতায় গিয়ে শুরু করেন পকেট ভরার ধান্দা।
বিদেশ থেকে ভিক্ষে আনার ধান্দা।

প্রাকৃতিক দূর্যোগে অমানবিক জীবন যাপনে বাধ্য হওয়া মানুষের বাচ্চাগুলোর কষ্টে ক্লিষ্ট ছবি তুলে আনবেন ত্রান - ৮০% নিজে খেয়ে বাকি ২০ ভাগের দলীয় বিলিবন্টন, যৎসামান্য উচ্ছিষ্ট বরাদ্দ তাদের -  যারা মরছে জীবন্ত।

চেয়ারম্যান মানেই দলীয় এমপির ধামাধরা কেউ, যার মূল কাজ সরকারী অনুদানের "ছহিহ" সদ্ব্যাবহার - নিজের আর পার্টির চামচাদের ভরনপোষন।

সবথেকে মজার ব্যাপার, এই পাঁচ বছর যেমন সকল সন্ত্রাসী পাবেন লীগের, তেমনি আগামী ইলেকশনে বিএনপি এলে তখন সব সন্ত্রাসী পাবেন বিএনপি জোটের! বাহ! দেশ চালানোতো পরের কথা, দেশ ধ্বংসের ভাগাভাগিটাও চলছে দেশপ্রেমিক(!) দলের মাঝে - সময়ের ভাগটাই শুধু আসল - ক্ষমতায় থাকা আর না থাকা।

দেশের মানুষের নূন্যতম চাহিদা পূরনের এবং তাদের জন্য একটা স্ট্যান্ডার্ড অভ লিভিং - এদুটো মেইনটেইন করার দায় সরকারেরই। এবং সরকার সেটা পূরনে ব্যার্থ।

গায়ে লাগছে? লীগ সাপোর্টার নাকি? নাকি মজা লাগছে? বিএনপি জোটের সাপোর্টার হলে সরকার ব্যার্থ শুনতে মজা লাগতেই পারে।

আরেকটু ভালোভাবে সরকার শব্দটার মানে বুঝুন - গালিটা দিচ্ছি সরকারকে এবং সেটার প্রতি পাঁচ বছরে মালিকানা হাত বদল হয় লীগ আর দলের মাঝেই!

তাই আপনি যেই দলেরই হোন না কেনো, আপনার দল ব্যার্থ, সেটা বিরোধীদলেই হোক আর বর্তমান ক্ষমতায় থেকেই হোক।

আপনারা কেউই সামান্যতম চেষ্টা করেন নি, দেশের মানুষের জন্য, তাদের নূন্যতম চাহিদা পূরনের জন্য। দু'বেলা ভাত জুটাতে যাদের দেশে ঠাঁই হয় না, তাদের পেরুতে হয় সীমান্ত বেআইনী ভাবেই, দু'মুঠো ভাতের জোগাড়ে।

আমার সীমান্তে তাদের নাম কখনো ধুড়, কখনো মফিজ। হ্যাঁ, এই নামেই জানি আমরা ওদের, যারা সীমান্ত পেরোয় রাতের আঁধারে, ভারতের মাটিতে খুঁজে নেয় দুমুঠো ভাতের যোগাড়ের সন্ধান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে।

শুধু সেদিনকার ফেলানীই নয়, একটু খুঁড়লে পাবেন অমন অনেক ঘটনা, যা চেপে যাওয়া হয় প্রতিদিনই, অথবা হারিয়ে যায় সীমান্তের নিত্যদিনের সাধারন খবর হিসেবেই।

ফেলানীর লাশটা নিয়ে এ ক'দিন কথা চালাচালি কম দেখি নি, মানব বন্ধন সেই একদিনেরই, একেক শহরে একএক দিন। পত্রিকার খবর হচ্ছে ফেলানী, কেউ ছোট্ট করে, কেউ বড় স্পটলাইট ফেলে, কেউ সরকারের ব্যার্থতা নিয়ে, কেউ ভারতের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে।

কিন্তু ক'দিন? ক'দিন চলবে এই বিক্ষোভ? কোন সম্মিলিত চাপ প্রয়োগ চলছে কি সরকারের ওপরে? মিডিয়া তার অসীম ক্ষমতা ব্যাবহার করছে কি নিয়মিত ফলোআপ রেখে জনমত তৈরীতে?

আমরা নিজেরা কি একবারো ভাবছি, এই শেষ, আর চুপ থাকবো না? একবারও ভাবছি কেউ কেন ফেলানীরা বাধ্য হয় ভিনদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হতে?

আমাদের ভারত বিদ্বেষ যেমন শেষ হয় গলাফাটানো বক্তৃতার পরে ঘরে এসে টিভি ছেড়ে ভারতীয় চ্যানেলের লাস্যময়ীর সেক্সবম্বের শরীরের খাঁজে খাঁজে, তেমনই আমাদের এই ক্ষোভ ঝিমিয়ে যায় সময়ের সাথে সাথে। এমনকি আমরা এলাকার এমপিকেও প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে দ্বিধাবোধ করি - "কি করছেন আপনারা?" আর পরবর্তী ইলেকশনে ভোট চাইতে এলে প্রশ্ন করতে ভুলে যাই, "গত পাঁচ বছর কোন কচুটা করেছেন মানুষের জন্য?"

একদল তস্কর ক্ষমতা পেলে নিজ স্বার্থ দেখবেই, তবু আমরা তাদের নির্বাচিত করে যাবো, ফেলানীর লাশের দায়িত্ব লীগের না দলের ব্যার্থতা তাই নিয়ে তর্ক করে যাবো, দেশের মানুষ কেন খেতে পায় না সেটা নয়, বরং আমরা তর্ক করে যাবো সেটা কোন দলের দায়।

আর প্রতি পাঁচ বছরে সিংহাসন হাতবদলে কিছু চোরকে ভোট দিয়ে যাবো।

জনপ্রতিনিধিরা যদি জনগনের নূন্যতম চাহিদা পূরনে ব্যার্থ হয়, নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হয়, তবে সে দায় খানিক আমাদেরও, কারন আমরাই তাদের নির্বাচিত করি, এবং পুনঃ পুনঃ করেই চলি।

তাই পেটের জ্বালায় ভাতের খোঁজে অবৈধ ভাবে ভিনদেশে কামলা খাটতে যাওয়া মানুষের মৃত্যুর দায় আর ভারতের পোষা বিএসএফের গুলিতে খুনের ঘটনাতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যথাযথ উচিৎ জবাব না দেওয়ার দায় কিন্তু আমাদেরই!

তবু আফসোস, রকম ন্যাক্কারজনক খুনের ঘটনা যতবারই ঘটুকনা কেন, জবাবদিহির কোন নোটিশ না পেয়ে ঢাকার বিলাসবহুল দূতাবাসে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নির্বিঘ্নেই অবস্থান করে যায়।

Disqus for Simple thoughts...