January 19, 2011

ফেলানী, লাশ, কাঁঠাল, হায়েনা, বিএসএফ, বর্ডার কিলিং, আয়োডিন (দেশী পোলা এবং শয়তানের জন্য রূপকথা)

ফেলানী এখন আর কোন মানুষ নেই, সে একটা লাশ, এই দেশের রাজনীতিতে লাশ খুব বড় একটা ফ্যাক্টর, কারন আমজনতা নিজেদের বিবেকবুদ্ধি জমা রেখেছে দুটো দলের দুজন ঝগড়াটে মহিলার কাছে, দু'টো পরিবার আর তাদের চাটুকারদের কাছে।

সবথেকে খারাপ লাগছে, আয়োডিনের অভাবে ভোগা জনগনের মাথার ওপর ফেলানীর লাশটাকে কাঁঠাল হিসেবে ব্যাবহার করছে হায়েনার বাচ্চারা। আমি চাইনা কেউ রাতের আঁধারে অবৈধ ভাবে সীমান্ত পার হোক ভাতের সন্ধানে, আমি চাই মানুষ দু'বেলা পেটপুরে ভাত পাবে নিজের দেশের মাটিতে। আমরা সবাই মিলে পারতাম সব দলকে বাধ্য করতে দেশের জন্য রাজনীতি করতে অথবা গদি ছাড়তে। আফসোস, ফেলানীর লাশটা শুধু একটা "এলিমেন্ট" হয়ে গেল রাজনীতির। একটা দলীয় সরকার দেখান যে বিএসএফের বর্ডার কিলিং রুখেছে, জোর গলায় প্রতিবাদ করেছে চটজলদি, ভারতীয় হাইকমিশনারের পাছায় লাথি মেরে বের করে দিয়েছে, ভারতের মুখে চ্যালেন্জ ছুঁড়ে দিয়েছে, নিষ্ঠ বিচার করেছে, আন্তর্জাতিক ভাবে চাপ দেবার ব্যাবস্থা করেছে ভারতের ওপরে - পারবেন না, কেউ করেনি। তবু ফেলানীরা বারবার মরে রাজনীতির জ্বালানী যুগিয়ে যায় কিছু স্বার্থান্ধের।

লীগ থাকুক আর দলই থাকুক, গরীবের পেট চালাতে সেই আঁধারে বর্ডার পেরুনো, বাজারে ভারতীয় চালের আমদানী, ভারতীয় চ্যানেলের বাংলা সাংস্কৃতিকে প্রতি সেকেন্ড ধর্ষন, ভারতীয় জাকির নায়েকের তোষন আর তাকে যাকাতের টাকা পাঠানো এদেশ থেকে সেই ভারতেই -  কোন শুয়োরেরবাচ্চা এসব দেখে না, খালি তক্কে থাকে কবে একটা মানুষ মরবে, কবে তার রাজনীতির পালে একটু হাওয়া দেবে মৃত লাশটা।

গোল্ড ফিসের স্মৃতি নাকি মোটে ৩ সেকেন্ড স্থায়ী, আমাদের স্মৃতির স্থায়ীত্ব কত সময়?

(দেশী পোলা এবং শয়তানকে)

Disqus for Simple thoughts...