January 21, 2011

ফারজানার জন্য প্রশ্নপত্র

ফারজানা, আপনার বাসাটা আমরা ঘিরে ফেলবো। আপনার সন্তান আছে? কোলে নিয়ে আদর করা যায় এমন শিশু? থাকলে তাকে আমরা কেউ কোলে তুলে নেব, তারপর শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে বেয়নেটে গেঁথে লুফে নেব আপনার সামনেই। আপনার স্বামীকে, ভাইকে আর বাবাকে খুন করবো একটু একটু করে, একটু একটু করে কেটে তাদের শরীর, তারপর হাত-পা কাটা মৃতপ্রায় আপনার স্বামী-ভাই-বাবাকে পেট্রল ঢেলে জ্যান্ত পোড়াবো, আপনার মাকে বেয়নেট চার্জ করে ফেলে রাখবো কোনে। আপনার কোন বোন আছে? থাকলে আপনার সামনেই তাকে গনধর্ষন করবো এক এক করে সবাই, শেষ পালা আপনার। আপনাকে অত্যন্ত কেয়ার নিয়ে টর্চার করবো, যখন প্রানটা আপনার গলায় এসে ঠেকবে, আমরা আপনার উপর উপগত হবো, এক এক করে। ধর্ষিতা আপনার প্রানটা যখন গলা থেকে একেবারে ঠোঁটে এসে ঠেকবে, তখন চুলের মুঠি ধরে আপনার মাথাটা চারদিক ঘুরিয়ে দেখাবো আপনার নিজের ঘরে জমে থাকে তিন ইন্চি পুরু মানুষের রক্তের পরত।

তারপর আপনাকে প্রশ্ন করবো, আপনার পিতা একাত্তরে রাজাকার আর তার দল জামাত ঠিক এভাবেই টর্চার করেছিলো আমাদের স্বজনকে, তখন মানবতা কোথায় ছিলো? একটা প্রতিবাদ করেছেন সেই জানোয়ারদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত? করেন নি, বরং সবসময়ই কৌশলে কলম ধরেছেন জামাতের পক্ষে।

ফেলানীর নামটা আপনার অপবিত্র মুখে শোভা পায় না, যতক্ষননা আপনি আপনার বাবার বিরুদ্ধে কলম ধরছেন। ফেলানীর লাশটা আমাদের অক্ষমতার প্রকাশ, আমরা শুধু তারই নয়, আরো অনেক সীমান্তবাসীর মুখে দুমুঠো ভাতের জোগাড় দিতে ব্যার্থ। তবে সেটা নিয়ে আওয়ামিলীগ বা বিএনপিকে কোন সুযোগ দেবনা রাজনীতি করার, আর জামাতকে তো প্রশ্নই ওঠে না। এই দেশটা মানুষের, আপনার বাবার মতন শুয়োর আর আপনার মতন শুয়োরের বাচ্চার না।

আর আপনি ভুলে গিয়ে থাকলে মনে করিয়ে দেই, "১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি আবু তাহের ছিলো ফ্যাসিস্ট আলবদর বাহিনীর কুখ্যাত সংগঠক। তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামের নন্দনকাননস্থ 'ডালিম ভবন' এ স্থাপিত হয় চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম মূল নির্যাতন ও হত্যাকেন্দ্র। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষসহ স্বাধীনতা প্রত্যাশী মানুষকে ২০-২২টি কক্ষে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। প্রতিটি পাড়ার ইসলামী ছাত্র সংঘের গোয়েন্দারা রিপোর্ট পাঠাতো আর রাতে বাড়ি ঘেরাও করে আলবদর বাহিনী ডালিম হোটেলে নিয়ে আসতো সাধারণ মানুষকে। লিস্ট অনুযায়ী তৈরি হতো তাদের জন্য আলাদা আলাদা ফাইল। ফাইল অনুযায়ী নির্যাতন চলতো।

ওই যুদ্ধাপরাধী ৩০ সেপ্টেম্বর '৭১ এ ইসলামী ছাত্রসংঘের (বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির) বার্ষিক সম্মেলনে যোগদানের নামে পাকিস্তানে গিয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের সহি তালিম নিয়ে আসে। পাকিস্তানী হানাদারদের পদলেহী এ শয়তান '৭১ এর ১১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জামাত আহূত 'হিন্দুস্তান খতম কর' দিবসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দৈনিক আজাদীতে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের দালাল আখ্যায়িত করে তাদের খতম করার মাধ্যমে পাকিস্তান রক্ষার আহবান জানায়।

কুখ্যাত এই যুদ্ধাপরাধী দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম মহানগর জামাতের আমীর ছিল। বর্তমানে জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের অন্যতম উদ্যোক্তা। উল্লেখ্য, তার এক কন্যা ব্লগে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধাপরাধীদের সপক্ষে সুকৌশলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাকে তার পিতার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার আহবান জানাই।" সূত্র : ব্লগে এক যুদ্ধাপরাধী-কন্যার বিষাক্ত বিচরণ : পিতার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হোন - ফিউশন ফাইভ

-------------------------------------------

ফুটনোটঃ ফারজানা, আপনি আর তায়েফ একই যোগসূত্রে গাঁথা, আপনাদের মিশন অভিন্ন, চালিকা শক্তি অভিন্ন, আপনার এই কুমিরের কান্না ঘৃনা ভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

ফারজানার পোষ্ট

সেভড কপিঃ
এমএইচটি

পিডিএফ

Disqus for Simple thoughts...