January 24, 2011

ভাঁড়তান্ত্রিক জটিলতা জনিত রূপকথা

একদা এক রাজ্য ছিলো, নাম ধরা যাক "নাই দেশ"। নাই দেশের রানীমাতা রাজ্য পরিচালনায় ঘোষনা করিলেন গনতন্ত্র, তবে প্রশাসন রাজতন্ত্রের। কি আর করা! এখন যুগটা যে গনতন্ত্রের! তবে রাজ্য চালাতে রাজতন্ত্রের কোন বিকল্প নাই। তাই এই হিপোক্রেসী।

দলে দলে নাগরিক জুটিলো। তাহারা সদানন্দ। সর্বদাই আমুদে পরিবেশ করে রাখে রাজ্য ময়। মুহুর্মুহু ধ্বণিত হয় "মহারানীর জয়হোক"। রাজপাট সাজিয়া উঠিলো, মহারানীর হৈল মতিভ্রম।

মহারানীর বোধ হৈল, কিছু ভাঁড় পুষবার।

যেই মত সেই কাজ! আমদানী হৈল কিছু ভাঁড়। তাহারা রাজ্য আর রাজরানী সবাইকেই মাতিয়ে রাখে নিয়মিত হাস্যরসে। খুশি হৈয়া মহারানী ভাঁড়দের সিপাহসালারের পদমর্যাদায় উন্নীত করিলেন। রাজ্যের ঈশানকোনে একটুকরো কালোমেঘ জমিলো, তাহা মহারানীর নজরে পড়িলোনা। সবার অগোচরে যাত্রা শুরু করিল ভাঁড়তন্ত্র।

ভাঁড়েরা সিপাহসালারের সমমর্যাদা পাইয়া যারপর নাই খুশি! তাহাদের আনন্দ বিতরন বাড়িলো, তবে সে সাময়িক। নূতন ক্ষমতার জোরে তাহারাও একদিন "পলিটিক্স" খেলিয়া বসিলো।

তাহারা মহারানীকে বুঝাইলো, আপনার প্রয়োজন লোকসমাগম, যাহাতে আমরা কহিতে পারি ইহাই সর্বাপেক্ষা বৃহৎ রাজ্য, অন্য সব এই এত্তটুকুন পুঁচকে।

মহারানী ভাবিলেন, তাই তো!

ভাঁড়দের কহিলেন, "ওক্কি, তোমরা প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা কর।"

ভাঁড়েরা প্রত্যুত্তররে প্রশংসা গাহিয়া কহিলো, "জো হুকুম মহারানী, কনসিডার ইট ডান, খালি ইমিগ্রেশনের ভারটা আমাদিগের হস্থে ছাড়িয়া দিন, আপনি আঁখি মুদিয়া থাকুন।"

মহারানী জানাইলেন, আচ্ছা বেশ। আর স্বপ্নে দেখিতে লাগিলেন সর্ববৃহৎ রাজ্যের মালকিন হিসেবে তিনি কতইনা নাম আর হিট, থুক্কু, ইমিগ্রান্ট কামাইবেন!

ভাঁড়েরা একদল ইমিগ্রান্ট আনিলো, তাহারা আসিবামাত্রই কিছু পুরাতন অধিবাসী শোরগোল করিয়া রানীর দরবারে হাজির হইলেন।

পেন্নাম হই রানীমা, আপনার ভাঁড়েরা যাহাদিগকে জামাতা স্নেহে প্রতিপালন করিতেছে উহারা আমাদিগের জন্ম শত্রু, আপনারও, ইহাদের এখনই বিতাড়ন করিলে রাজ্য উপকৃত হইবে - জানাইলো তাহারা করজোড়ে।

রানীমাতা ঈষৎ উষ্মা সহকারে একটু ঘুরিয়া বসিয়া জানাইলেন তাহার কিছু মনে পড়িতেছে না।

নাগরিকবৃন্দ তখন রানীমাতাকে ফ্লাশব্যাক দেখাইবার ব্যাবস্থা করিলেন, ইতিহাস ঘাঁটিয়া উত্থাপন করিলেন।

এইবারে রানীমাতাকে যথেষ্টই বিরক্ত দেখাইলো, উষ্মা এবারে কন্ঠে ঝরিয়া পড়িলো, কহিলেন, "দেখো বাপু, আমি প্রজাপালিকা, আমার ওসব দেখতে গেলে চলে না, আমি সবার মহৎ পালনকারী রানী, তোমাদের জীর্ন ইতিহাস বইয়ের বদলে উহাদের উপঢৌকন পাঁতিহাসের রোষ্ট অনেক বেশী ইয়াম্মী! এইবার নাও, বিদেয় হও।"

নাগরিকগন ব্যার্থ হইয়া ফিরিলেন।
কেউ কেউ অন্য খানে যাইবার বাসনা ব্যাক্ত করিলেও, বেশিরভাগই চুপচাপ রহিয়া গেলেন মহারানী একদিন সুস্থ হইয়া উঠিবেন এই কামনায়।

এইবারে শুরু হৈল খেল, একেবারে ভানুমতির খেল! ‌নাগরিকেরা যেখানে হাজারো মৃত দেহের বিচার চাইতে উৎসুক সেখানে ভাঁড়সম্প্রদয় একটিমাত্র মৃতার বিচারে ঝাঁপ দিয়া পড়িলেন। শোডাউন হৈল দূরের দেশে। রানীমাতা ভাবিলেন, এইবার যজ্ঞ নিজের রাজ্যে করাইবো, নাম ফুটিবে বেশ।

‌নাগরিকেরা সংঘবদ্ধ হইল, তাহারাও কিন্তু ইনসাফেরই পক্ষে।
তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে, যাকে বলে একাদশতম ঘটিকায়, আয়োজক তাহার শ্বেতপত্র কিঞ্চিৎ বদল করিয়া তাহার ডাঁয়ে উজির আর বাঁয়ে উজির পদে যেই মহারথীদের আমদানী ঘটাইলেন, সকলে স্তব্ধ হইয়া গেল তাহাদের কুখ্যাতিতে।

কেউ কেউ বিদ্রোহ করিয়া বসিলো, মানি না।

মালকিনের পেটোয়া বাহিনি ঝাঁপাইয়া পড়িয়া প্যাট্রিয়টিজমের চূড়ান্তসীমা বাঁধিা দিলেন তাহাদের কর্মসূচীতে একমত হইবার, নইলে গর্দান যাইবে শত্রুপক্ষের চর হিসাবে। প্রতিবাদীরা কিছু বলিতে গিয়া দেখে, তাহাদের গলা অলরেডী জেলখানায় আটক।

ছিন্নবিচ্ছিন্ন কেউ কেউ কিছু বলিয়া ফেলিবেন ভাবিয়াও চুপ থকিলেন, কারন মহারানী কদিন আগেও দূতমারফৎ জানাইয়াছেন, উহারা চাইলে অন্যত্র মাইগ্রেট করিতে পারেন, তাহার কনসার্ন শুধু তাহার ভাঁড় বাহিনীই, অন্য কিছু নহে।

পেটোয়া বাহিনীর কথা রানীমাকে যিনি পৌঁছাইলেন তাহার পত্র হইলো ডিলিট, পেটোয়াবাহিনীর বিপক্ষে যিনি
হাত উঁচাইলেন তিনি হইলেন কয়েদ, নোটিশ মারফৎ জানানো হইলো কারো গায়ে হাত তোলা মহারানী বরদাশত করেন না। কয়েদ বেচারীরা হতবাক হৈয়া কহিলো, "আমাকে কেউ পিটলে আমি পাল্টা হাত তুললে সেইটার জন্য সাজা, তবে যে পিটছিলো তার কি?"

মহারানী নিশ্চুপ।

মহাসমারোহে প্রতিবাদ যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হৈল ভাঁড়েদের তত্তাবধানে। আফসোস, কোন লাশ জীবিত হৈল না। বরং নূতন রাজ্যের আশু আবির্ভাবের শংকা দেখা দিলো।

এখন টনক নড়িলো মহারানীর। তাহার রাজ্যের নামতো দূরের কথা, যজ্ঞ হৈয়াছে নূতন দলের, নূতন দেশের! শুধু তাহাই নহে, আমদানিকৃত নাগরিকেরা হাবেভাবে তাহাকেও ধমকি দিয়া চলিতেছে। গনতন্ত্রের মোড়কে ভাঁড়তন্ত্র চালাইবার হিপোক্রেসীর উপযুক্ত সাজা মিলিলো।

শেষ পর্যন্ত খবর পাইয়াছি, মহারানী দিকে দিকে দূত পাঠইতেছেন পত্রহাতে, তবে স্বেচ্চানির্বাসনে যাওয়া নাগরিকেরা মিষ্টি হাসিয়া নাগরিক সনদের রিনিউ কপি ফিরাইয়া দিতেছেন।

পরিশিষ্ট: ছোটপরিবার,  সুখীপরিবার।

Disqus for Simple thoughts...