April 7, 2011

ছোট হয়ে আসছে শ্রমবাজার, তার মানে এই নয় যে আমরা ঘরের মেয়েদের যৌনদাসী করে পাঠাতে চাই, আমরা তা চাই না।

দিন দিন আমাদের বাংলাদেশীদের জন্য ছোটো হয়ে আসছে বিশ্বের শ্রম বাজার, রেমিট্যান্স আয় কমছে। পর্যাপ্ত দক্ষতাহীনতা, দূতাবাসগুলির ক্রমাগত অসহযোগীতা, এদেশের রাজনৈতিক অস্থিতি, আরব বিশ্বের রাজনৈতিক ওলটপালট এসব মিলে একেরপর শ্রম বাজারের এক দরজা বন্ধ হয়ে আসছে আমাদের সামনে। তাই বোধকরি সৌদী আরবে প্রতি মাসে দশ হাজার নারী শ্রমিক (খাদেমা) পাঠাবার পারমিটকে সুবর্ন সুযোগ ভাবছেন আমাদের হাসিনা বানু জান এ্যান্ড এসোসোয়েটস

তা লোভনীয়ই বটে, সংসদে যখন বিরোধীদল যায় কেবল সদস্যপদ রক্ষার্থে আর ক্ষমতাসীন দলের নিত্যনৈমত্যিক কাজ হয়ে ওঠে জনপীড়ন আর দলীয় নেতাকর্মীদের উদরপূর্তি, আমজনতার কিসে ভালো তা কেউই বুঝে না, দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব, জীবনযাত্রান ক্রমশঃ নিম্নমান এসব নিয়েআমাদের প্রানপন ত্রাহি চিৎকার দুটো দলই চোখ কান বুঁজে ক্রমাগত অস্বীকার করতে থাকে, মাওলানারা দল বেঁধে নাবালক কচি বাচ্চাগুলোকে পুলিশের রাইফেলের সামনে ফেলে ক্ষমতার লোভে, তখন দেশের মানুষকে বুঝ দেবার আর কিছু বৈদেশিক মূদ্রা রেমিট্যান্স হিসাবে আনবার এই সুযোগটাকে আপনারা সকলে সুবর্ন হিসাবেই দেখতে পারেন। তবে দুঃখিত, আমরা অনেকেই পারছি না।

কারন জানতে চাইবেন না দয়া করে, জানতে চাইলে সোজা বলে দেব "শুয়োরের বাচ্চা, কোন দেশে থাকিস?" হ্যাঁ, এটাই বলবো, কারন প্রতিটা ঘরেই আমরা জানি কিরকম রক্তপানি করা পরিশ্রমের পরে আসে এসব টাকা, আর খাদেমা? খাদেমা নারীদের ওপর আরবীদের অকথ্য যৌন নির্যাতনের কাহিনীও কম নেই। যে শুয়োরের বাচ্চা এসব জানে না, সে চাইলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে পারে। খুব কম সংখ্যকই রিপোর্ট হয় এসব। যৌন অত্যাচারে বিধ্বস্ত নারী কোনো মতে প্রান নিয়ে দেশে ফিরলেও ঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান কমই, সে সংসার তাকে আরবে পাঠায় খাদেমা হিসেবে, যে নারীর পয়সায় খেয়ে পরে বাঁচে পরিবার, সেই তখন হয়ে ওঠে তাদের ধর্মীয় আর সামাজিক নষ্ট নীতিতে ভ্রষ্টা-পতিতা-নষ্টা, তাকে ঘরে না উঠতে দিয়ে পূন্য করি আমরা।

দুটো পয়সা কামাই করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ধর্ষিতা আর গনধর্ষিতা নারী মুফতে উপহার পান গনরিয়া থেকে এইডস - সবই।

আমি দুঃখিত প্রধানমন্ত্রী, এই তথাকথিত "সুবর্ন সুযোগ" আমি প্রত্যাখ্যান করতে চাই, দেশের নারীদের আরবের লম্পটদের ব্যাক্তিগত হারেমের যৌদাসী করে পাঠানোর এই নষ্ট চিন্তা দ্রুত ঝেড়ে ফেলুন। তার চাইতে নারী-নীতিতে এমন কিছু আনুন যাতে দেশেই এসব নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারেন, তাদের জন্য কর্মসংস্থান করা আপনার দায়িত্ব, আপনাকে আপনার বাপের নাম খোদাই করতে পাঠানো হয়নি ক্ষমতায়। যাদের ভোটে আপনি আজকে ক্ষমতায় তাদেরকে যৌনদাসী করে আরব হারেমে পাঠাতে আপনার লজ্জা করে না? নাকি লাজলজ্জা ধুয়ে খেয়েছেন গদিতে বসার আগে? যেখানে অন্য সব দেশ সৌদী আরবে নারী শ্রমিক সরবরাহ থামিয়ে আনছে, সেখানে আপনার পোষা ঐ কুত্তার বাচ্চা মিনিষ্টার  নিজের পাছা থাবড়াইতে থাবড়াইতে এই চুক্তির কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে কেন?

নাকি বলবেন আপনি এসব জানেন না, আরব পবিত্র দেশ, এমন হবে না? সেক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত শুয়োরেরবাচ্চাদের সাথে সাথে আপনিও আপনার মন্ত্রীসভার সবগুলো রামছাগলকে নিয়ে নীচের লিংক গুলোতে ঢুঁ মারুন (কমেন্টস সহ পড়তে হবে)।

সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে আরেকবার ভাবুন সবাই - ফাতেমা আবেদীন নাজলা (ফেসবুক নোটস)

এটাকে সামহ্যোয়ার ইন ব্লগে প্রকাশ করেছেন ব্লগার রাগ ইমন

বাংলাদেশ হতে এমন ব্যাপক হারে সৌদি আরবে নারী গৃহ কর্মী নেয়ার সংবাদটি নিয়ে ভাবনা এসে যায় - লাল দরজা


 অবমাননাকর গৃহকর্মীর পেশায় নয়, অন্য পেশায় রফতানি করা হোক নারী জনশক্তি - নেটপোকা

প্রসংগঃপ্রধানমন্ত্রী যদি জানতেন উওরঃ প্রধানমন্ত্রী জেনেই মেয়েদের ধর্ষিতা হতে পাঠাচ্ছেন - চলমান কলম

আর নেহাতই যদি কোনো ইংরেজি জ্ঞান সম্পন্ন রামপাঁঠা থেকে থাকে আপনার মন্ত্রনাসভাতে, তার জন্য এই লিংক


(লিংক আপডেট করা হবে, পাঠকেরা আর্টিকেল লিংক দিয়ে সহায়তা করুন।)

Disqus for Simple thoughts...