June 13, 2011

হরতালনামা-১ : হরতাল, মোবাইল কোর্ট, রাজনৈতিক খোরপোষ

গতকাল, ৩৬ ঘন্টা হরতালের প্রথমদিন সন্ধায় এক ছাত্রদল নেতা জানালেন, সারাদিন সরে সরে থেকেছেন যাতে এরেষ্ট না হন। একসাথে দাঁড়িয়ে আমরা চা খাচ্ছিলাম জনা'চারেক, উনি পাশ হেঁটে থেকে যাচ্ছিলেন, আমাদের দেখে থামলেন আর গল্পে যোগ দিলেন এক পেয়ালা চায়ে চুমুক দিয়ে।

চা শেষ করে সিগ্রেট ধরিয়েছি সবাই, এমন সময় পাশ থেকে হেঁটে ফাঁড়িতে ফিরছিলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনিও জুটে গেলেন। যদিও তাড়া আছে বলে চা চক্রে যোগ দিলেন না। তবে প্রফেশন্যাল মাপা হাসি আর কথাতে আমাদের ছুঁড়ে দেওয়া ছোটো ছোটো কিছু প্রশ্নের জবাব দিলেন।

ওনার মতে, ওনারা সরকারী কর্মচারী, যেভাবে চলতে বলা হচ্ছে সেভাবই চলছেন, নইলে কপালে খারাবি আছে সেটাও জানালেন। লাল ফিতে আর ইচ্ছাকৃত দাপ্তরিক দীর্ঘসূত্রিতার কারনে ক্যারিয়ারের বারোটা কে বাজাতে চায়? এই প্রশ্নটাও রাখলেন আমাদের কাছে। সব মিলে বোঝা গেল, আজকে যে দল ক্ষমতায় তাদের মন রাখতে হবে, কাল যদি অন্য কেউ আসে ক্ষমতায় তখন তাদের মনও রাখতে হবে, নইলে সারাজীবন ভুগবার চান্স আছে। "আমরা হুকুমের চাকর" - বারবার এই কথাটা বলছিলেন উনি।

ওনার কাছে জানলাম, মোড়ে বসা মোবাইল কোর্ট। আর সে কোর্টের সাজা কমসে কম এক মাস, সেই কারনেই নাকি ধরলে নিদেনপক্ষে একমাসের জেল জুটছে যাকে ধরছে তার কপালে। শ'খানেক মাইল দুরে একটা শহরের একজন ছাত্রদল নেতা নাকি তিনমাসের সাজা খেয়েছেন আজকে। আজ সকালে ঢাকাতে কয়েকজনকে ধরেছে, একমাস করে জেল দিয়েছে, এত কেন দিল? ৩৬ ঘন্টা পরে ছাড়লে হতো কি না এসব কথার জবাবেই উপরোক্ত "নিদেনপক্ষে একমাস" আইনটা জানলাম।

পুলিশ কর্মকর্তা চলে যাবার পরে ছাত্রদলের সেই নেতা একটু হেসে জানালেন, এখন জেলে গেলে সমস্যাটা হবে প্রচন্ড গরমের আর জেলখানাতে স্থানসংকটের কারনে গাদাগাদি করে থাকাতেই, নইলে দুমাস জেল খাটলে কোনো সমস্যাই নেই, মাস গেলে একটা নির্দিষ্ট অংকের টাকা পৌঁছে যাবে বাসায়। আর দলের জন্যে জেল খাটা -আলাদা ইমেজ।

চট করে মনে পড়ে গেল "বোম পলাশ(পলাশ নামটুকু ছদ্ম)" এর কথা। মাস তিনেক দেখছি লোকটাকে। বয়েস পয়ঁত্রিশের কম না। সারাদিন ঘুরে আর আড্ডা মেরে কাটায়। সাধারনতঃ কাউকে জিজ্ঞেস করিনা, রুটি-রুজির যোগাড় কিভাবে আসে। তবে খাতির হওয়াতে কৌতুহল বশতঃ প্রশ্নটা করেছিলাম বোম পলাশকে। সে জানিয়েছিলো, লীগের কিছু "বিশেষ কাজ" করতো এক সময়, এখন মামলার কারনে "অর্ডার আছে কিছুদিন চুপচাপ থাকার"। মাস গেলে লীগের দু'টো সোর্স থেকে যা পায় তা এই শহরে খারাপ না, বরং ওর সেই মুফতে পাওয়া টাকার অর্ধেক পরিমান টাকা কামাতে আমার পরিচিত ছেলেদের দেখছি মাসে ছাব্বিশদিন সকাল 'নটা থেকে রাত ন'টা অব্দি রক্তপানি করে কামলা দিতে।

মোড়ের মোবাইল কোর্টের অবস্থান পুলিশ কর্মকর্তার মুখেই জেনেছিলাম, তাই সযত্নে এড়িয়ে ফিরলাম সেটা, আমাদের চারজনের দুজনের পরনে লম্বা খানদানি পাঞ্জাবী, চেহারা সুরৎ ও তেমন সুবিধের না। বলা যায় না, পিকেটার বলে কখন আবার ধরে বসে! তখন মামলা ঠেলতেই জান যাবে!

Disqus for Simple thoughts...