June 28, 2011

মুর্খ কথন ২ - তেল-গ্যাস, কনোকো ফিলিপস, প্রতিরোধ

আপনার ঘর-জমি বিক্রি করে পাবেন এক কোটি টাকা, আমি কিনলাম। আমি আপনাকে ২০ লাখ ধরিয়ে দিলাম, বাকি ৮০লাখ আমারই থাকলো, কেমন হবে ব্যাপারটা? মজার, তাই না? কারন শর্তটা, "'Where Petrobangla has installed necessary facilities to transport and use gas to meet domestic requirements, Petrobangla shall be entitled at its option to retain in kind any natural gas produced up to Petrobangla's share of profit gas, but in no event more than 20% of the total marketable natural gas.''
তাহলে এই ধারায় কী বলা হলো? যদি পেট্রোবাংলা গ্যাস পরিবহণ করে আনতে পারে, সেই গ্যাস আভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারে তাহলেই কেবল সে তার লভ্যাংশের গ্যাস পাবে। সেই লভ্যাংশের পরিমাণ কিছুতেই ২০ ভাগের বেশি হবে না।" (মডেল পিএসসি ২০০৮ এর ১৫.৫.৪ ধারা)

অত মারপ্যাঁচ বুঝি না, খালি বুঝি আমার তেল গ্যাস তুলে তুমি ৮০% এর মালিক বনে যাইবা আর আমি ভিক্ষে পাবো ২০%, দরকার নেই সোনা, রাস্তা মাপো।

"তেল গ্যাস মাটির নীচে রে লাভ কি? তুলে আনলেই তো আমাদের কাজে লাগবে" - অনেক পলিটিকাল সুশিল চামুচ এসব ছড়াচ্ছে অনলাইনে।

একমত, তুলে আনলে আমারই লাভ। তবে সেটা নিশ্চয়ই মোটে পাঁচভাগের এক ভাগের মালিক হয়ে নয়, নাকি? যেখানে আমরা যথেষ্ট নিশ্চিত আমাদের মজুদ আমাদের কাজে লাগানোর মতই, এতবেশী উদ্বৃত্ত নয় যে তুলবো আর বেচবো। সেখানে সেধে বর্গী দাওয়াত করে এনে নিজের সম্পদ তার হাতে তুলে দেবার মানে কি?

মানছি আমাদের বাপেক্স অত দক্ষ নয়। কিন্তু কেন নয়? কেনো তারা দক্ষ নয় এতগুলো বছর পরেও? শতভাগ মালিকানা হাতে রেখে আমরা কনোকো ফিলিপস বা অন্য যে কাউকেই নিয়োগকৃত ঠিকাদার হিসেবে কাজে লাগাতে পারতাম, সেটা কেনো করা হচ্ছে না?

৩ তারিখের হরতাল যারা করবে তারা সরকার ঘোষিত টোকাই। দেশের সম্পদ আমরা দেশ রাখতে চাইলে, বেনিয়ার হাতে তুলে দিতে না চাইলে যে সরকার আমাদের টোকাই ঘোষনা করে তার এটুকু বোঝা উচিৎ, তাদের এই দাম্ভিকতা আর স্পর্ধা সরাসরি দেশদ্রোহীতা। দেশ চালাতে তোমাদের পাঠানো হয়েছে, দেশ বিক্রি করতে নয়।

আরিফ জেবতিকের নোট থেকে কপি করছি, "আমার সাধ্যে যদি না কুলোয়, তাহলে সম্পদটুকু মাটির নিচেই থাক, আমি কিনে খেয়ে দিন গুজরান করব, কিন্তু আমার মেয়ে নিশ্চয়ই একদিন এই সম্পদ তুলে আনতে পারবে মাটির উপর। আমি আমার মেয়ের জন্য এই সম্পদগুলো রেখে যেতে চাই।"

হ্যাঁ, আমিও তাই চাই। আমরা আজ না পারলেও ওরা কাল বা পরশু দক্ষতা অর্জন করবে দেশের গ্যাস-তেল খুঁড়ে তোলার। সেজন্যে আমি আজ আঁধারে থাকতে রাজী।

শেষ কথা, আমরা নাইজেরিয়া হতে চাই না, আমরা বরং ভেনিজুয়েলা হবো, কনোকো ফিলিপস লাথি খেয়ে ভেগেছিলো যে দেশ থেকে।

শুয়োরের বাচ্চারা পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে

আমরা প্রতিবাদ করছি, থাকছেনতো সাথে? আপনার হাতে দুটো উপায় আছে,

১। সুশিল বনে গুয়ে চুপ থাকা, আর ত্রিশ বছর পরে আত্মহত্যা করে ফেলা, ছেলে-মেয়ে বা নাতি-নাতনিকে মুখ দেখাতে পারবেন না আজকের প্রতিরোধে শামিল হননি বলে।

২। এগিয়ে আসুন, বুক ফুলিয়ে দাঁড়ান। ঠেকিয়ে দিন বেনিয়াদের, গন আন্দোলন পারবে এই দাসখৎ পাল্টে দিতে। সরকার বাধ্য হবে পথে আসতে। আজকে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী অথবা সমর্থক হিসাবে না, পথে নামুন একজন গর্বিত নাগরিক হিসেবে, দেশের মালিকদের একজন হিসেবে, এক কাতারে।

সরকারের লেলিয়ে দেওয়া ঠোলাদের হাতের লাঠি কেড়ে নিয়ে পাল্টা লাঠি চার্জ আমরাও করতে পারি, ভুলে গেছেন আগের সব গন-আন্দোলন আর গন-অভ্যুত্থানের কথা?

Disqus for Simple thoughts...