July 15, 2011

একজন মিডিয়া-কৃমির (কল্পিত) সাক্ষাৎকার (ভিকারুন্নেসা বিষয়ক)

পাঠকদের কাছে প্রথমেই জানিয়ে রাখছি একটি অদ্ভুত টেকনিক্যাল ত্রুটি, যতবারই "মিডিয়া-KORMI" শব্দটা লিখতে যাচ্ছি, বার বার সেটা "মিডিয়া-কৃমি" হয়ে যাচ্ছে, এটা একান্তই ভৌতিক কোনো বাগ মনে হচ্ছে।

ভিকারুন্নেসাতে আজকে একজন মিডিয়া-কৃমির সাথে ছাত্রীদের কিছু কথোপকথন আগে জেনে নিন।

এক সাংবাদিক বললেন, "আপনারা ক্লাস বর্জন করলেন কেনো?"।
জবাবে এক ছাত্রী বললেন "আপনার বোন র‍্যাপড হলে আপনি কি করতেন?"

সাংবাদিকঃ দিস ইজ নান অব মাই বিজনেস। আমি হলে ক্লাস করতাম।

ছাত্রীঃ আপনারা আমাদের বারবার একই প্রশ্ন করছেন। আমাদের অবস্থা বুঝেও না বুঝার ভান করছেন। সকাল থেকেই তো নিউজ নিচ্ছেন। কই? পাবলিশ তো করছেন দায়সারাভাবে।

সাংবাদিকঃ তো! আমি কি করতে পারি?
ছাত্রীঃ তো! পাবলিশ হচ্ছে না কেনো? টাকা খেয়েছেন? নাকি উপরের চাপ?

এই কথা শোনার পর রাগ করে বেরিয়ে গেলেন এনটিভি আর দেশটিভির সাংবাদিকরা। যাবার আগে জানিয়ে গেলেন "এখন দেখবা তোমাদের নিউজ কিভাবে যায়। তোমাদের সাহস কমানোর সময় এসেছে"


এই মিডিয়া-কৃমির যদি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় তবে সেটা কেমন হতে পারে সেটা কল্পনা করেই এই পোষ্ট।

আমিঃ হ্যালো জনাব "মিডিয়া-কৃমি", কেমন আছেন?
মিডিয়া-কৃমিঃ জ্বি, ভালো। (বিগলিত সুশিল হাসি)

আমিঃ আজকের দিনটা কেমন কাটালেন?
মিডিয়া-কৃমিঃ ওয়াও! অসাধারন! শুরুতেই সকালে হাজির হই ভিকারুন্নেসাতে। কিছু পলিটিকাল এক্স-ভিকি সরকার পতনের চেষ্টা করছিলো, আচ্ছা করে কড়কে দিয়েছি। ওদের আর কোনো খবর আমরা পাবলিশ করবো না।

আমিঃ কিভাবে বুঝলেন ওরা পলিটিকাল কর্মী?
মিডিয়া-কৃমিঃ এতো সোজা, একদম মুখে মুখে তর্ক করছিলো আমার সাথে, যেটা একমাত্র বিরোধী দলের লোকই করে।

আমিঃ তাহলে আপনি আওয়ামীসমর্থক?
মিডিয়া-কৃমিঃ আরে নাহ! তা কেন হবে? আমি সবসময়ই পিজিপি, মানে প্রেজেন্ট গভমেন্ট পার্টি। (দেঁতো বুদ্ধিজীবি হাসি)

আমিঃ আচ্ছা! ভালো কৌশল! তা, ওরা কি নিয়ে তর্ক করছিলো?
মিডিয়া-কৃমিঃ বললাম তো, সেই সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র আরকি। অধ্যক্ষ নিজেই বলেছেন ওটা মিউচুয়াল ছিলো, ঐ প্রতিষ্ঠানকে উনার চাইতে ভালো কে চিনেন বলেন?

আমিঃ একটা প্রশ্ন করি, "আপনার বোন রেপড হলে আপনি কি করতেন?" এই প্রশ্নটা ছাত্রীরা করেছিলো, আপনি জবাবে বলেছেন, "দিস ইজ নান অব মাই বিজনেস। আমি হলে ক্লাস করতাম।" - আরেকটু পরিষ্কার করে বলবেন কি?

মিডিয়া-কৃমিঃ দেখুন, আপনাকে বুঝতে হবে, সবকিছুরই কোনো না কোনো পজিটিভ দিক আছে। একজন রেপড মেয়ে হয়তো পরে স্টকহোম সিন্ড্রোমে ভুগতে পারে, এটা মনে করুন সেদিক থেকে একটা প্রাকটিকাল সাইকোলজোকাল স্টাডির ম্যাটেরিয়াল হতে পারে। তারপর ধরুন, ধর্ষন যদি হয়েই থাকে, মেয়েটা কতটুকু এনজয় করেছে সেটা সাইকোলজিকাল স্টাডির সাবজেক্ট হতে পারে। আবার ধর্ষনের পরে মেয়েটি কতটুকু মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে সেটাও একটা আদর্শ গবেষনার ফ্যাক্ট হতে পারে। সে সুইসাইড করলেও গবেষনা করা যাবে সে আসলে কেন সুইসাইড করেছে। আবার পরিমল কতটা এনজয় করেছে, এর পরে তার কোনো রকম অপরাধবোধ এসেছি কি না, তার মাসনিক স্টেট এখন কি রকম সেসব নিয়ে পরিক্ষা করা যেতে পারে। এতগুলো পজিটিভ দিক থাকতে রেপড রেপড হবে এত লাফালাফি কেন বলুনতো? শুধু শুধু জিনিষটাকে আপনারা নেভেটিভলি নিচ্ছেন।

আমিঃ দেখুন প্রশ্নটা ছিলো, আপনার মেয়েটা বোন হলে আপনার মত কি হতে পারতো সেটা নিয়ে।
মিডিয়া-কৃমিঃ দেখুন, সেটা আলোচনার বাইরে, কারন আমার কোনো বোন নেই।

আমিঃ ধরুন আপনার একটা বোন আছে, সে এই ভিকটিম, তবে?
মিডিয়া-কৃমিঃ (ক্ষিপ্ত ভাবে দাঁত খিঁচিয়ে) আপনি আমার চাইতে বেশী বুঝেন? এতবার বলতাছি আমার কোনো বোন নাই, তারপর এইসব কথা আনেন ক্যান? দিমু নাকি আন্তঃজেলা ডাকাইত দলের মেম্বার বানায়া? নাকি মলমপাট্টির লিডার বানামু?

আমিঃ আচ্ছা থাক, আমরা সাক্ষাৎকার এখানেই শেষ করি তবে।
মিডিয়া-কৃমিঃ সেইটাই ভালো হবে, আমাদের বিপক্ষে যদি একটা লাইনও যায়, খবর আছে কৈলাম!

মিডিয়া-কৃমির সাথে কল্পিত সাক্ষাৎকার এখানেই শেষ।


ক্যাটরিনার বিকিনি আর কারিনার কোমরের মাপ দিয়ে ব্লগে নিউজ করা কুত্তার বাচ্চা মিডিয়াকর্মীরা কৈ?

Disqus for Simple thoughts...