June 21, 2012

জুন ১৯, ২০১২

আমার আশেপাশে ইদানিং ফেরীওলাদের আনাগোনা বেড়েছে
দুপুর-সন্ধে হুট করে এসে দাঁড়ায় সামনে।
বিরক্ত হই, মাঝে মাঝে বলেও ফেলি, "চাইনে ওসব..."
তখন ফেরীওলারা স্মিত হেসে বয়ান শুরু করে উপকারিতার-
সমাজিকতা থেকে শুরু করে ধর্ম অব্দি বকে যায় ওরা।

ওরা হামলে পড়ে পণ্যের ক্যাটালগ নিয়ে,

কোনোটা ফর্শা, কোনোটা শ্যামলা, কেউ কোনোটা লম্বা, কোনোটা বেঁটে,
কোনোটা স্লিম, কোনোটা দোহারা আর কোনোটা একটু মোটা,
কোনোটা মেজাজী, কোনোটা নরম,
কোনোটাকে দেখলে নাকি "চোখ ফেরানো যাবে না"
কোনোটা সংসারী, কোনোটা অপস্সরী,
কোনোটা ভার্জিন, কোনোটার দু'একটা প্রেমিক ছিলো,
কোনোটা ঘর ভাঙা, কোনোটা ঘর আলো করে জুড়ে বসে-
এসব চটকদার কথার মারপ্যাঁচে এগিয়ে দেয় বিজ্ঞাপন আর ছবি।

বিজ্ঞাপনে পন্যের নামটুকুর সাথে

শ্লীল শব্দের মারপ্যাঁচে অশ্লীল সব বর্ননা।
শরীর, চুল, চোখ-
আর বাকি দিস্তাভর ছাপা থাকে পন্যের চৌদ্দগুষ্টির ইতিহাস,
পরদাদা, দাদা, বাবা, চাচা, খালু, ফুফা - শালার হাঁপ ধরে যায় পড়তে।

ফেরীওলাদের সাথে তাল দেয় নিজের লোকেরাও,

প্রাথমিক বাছাই শেষে ওরা বিজ্ঞাপনগুলো মেলে ধরে চোখের সামনে,
একবার বুঝতেও চায় না, কতটা ক্লান্ত আমি-
চামড়ার রং আর পকেটের ওজনের এই নির্লজ্জ বিকিকিনির চেষ্টা দেখে।

আজ শেষমেষ একটা ফেরীওলার কপাল খুললো,

মায়ের ঘ্যান ঘ‌্যানঘ্যানানিতে অতিষ্ট হয়ে-
দুটো পাসপোর্ট সাইজ ছবি ছুঁড়ে দিয়েছিলাম টেবিলের ওপরে,
চকচক করে ঝিকিয়ে উঠেছিলো ফেরিওলাটা,
কালথেকে ওর পন্যের পোর্টফলিওতে আমিও থাকবো-
একটা ছবিওলা বিজ্ঞাপন হয়ে,
যাকে দেখিয়ে ফেরীওলাটা সম্ভাব্য কাষ্টমারকে বলবে,
"অশিক্ষিত হলেও ছেলে ভালো, চেহারা খারাপ তাতে কি? মনটা তো ভালো!
আরো আছে, নিজের বাড়ী, আপনার মেয়ে পা ছড়িয়ে বসে বসে খাবে...."

আজকে খুব ঘেন্না লাগছে কেনাবেচার এই বাজারের ওপর,

নিজের ওপর...

Disqus for Simple thoughts...