October 5, 2012

এই লোক কান্দে ক্যান? - লুৎফর রহমান রিটন





তিনি ডক্টর সুকোমল বড়ুয়া। কান্তেছেন। কিন্তু এই লোক কান্দে ক্যান?

রামু-পটিয়া-উখিয়ায় বৌদ্ধমন্দিরে এবং বৌদ্ধদের বাসভবনে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দেশের সচেতন মানুষ কাঁদছে। তাদের নিরব অশ্রুপাত আর সরব প্রতিবাদের খবর আমরা প্রতিমুহূর্তে অবলোকন করছি পত্রিকা-স্যাটেলাইট টিভি আর ফেসবুকের ভার্চুয়াল জগতে। আজ, ফেসবুকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শিক্ষক-লেখক-শিল্পী-সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতিবাদ সমাবেশের একটি ছবিতে দেখলাম সুকোমল বড়ুয়াও মাইক্রোফোন হাতে টিভি ক্যামেরার সামনে বক্তৃতা করতে গিয়ে কাঁদছেন। তাঁকে কাঁদতে দেখে এই ধরণের ঘৃণ্য হামলার কারণে বিষণ্ণ এবং বিক্ষুব্ধ আমি খানিকটা নড়েচড়ে বসি। এই লোককে আমি চিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় যে কোনো বড় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই লোক ত্রিপিটক পাঠ করতেন—ওহে মমিনগণ... ।

স্মরণে আনতে পারি, ২০০১ সালের ০১ নভেম্বর বিএনপি-জামাতজোট রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংখ্যালঘুদের ওপর নৃশংস তান্ডব চালিয়েছিলো দেশব্যাপী। সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা-অগ্নিসংযোগ-লুটপাটের পাশাপাশি শুরু হয়েছিলো ধর্ষণের উৎসব। ব্যাপক হারে ধর্ষণ করা হয়েছিলো পূর্ণিমা-মহিমাদের। শাহরিয়ার কবির পূর্ণিমাকে ঢাকায় এনে প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করিয়েছিলেন। কাগজগুলোর রিপোর্টে নির্যাতিত সংখ্যালঘু মেয়েদের কান্নার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়েছিলো। বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিলো। ৪দলীয় জোটের ব্যানারে বিএনপি-জামাতের সেই তাণ্ডবের বর্ণনায় উঠে এসেছিলো ধর্ষকদের প্রতি হিন্দু এক কিশোরীর অসহায় মায়ের করুণ আর্তি—‘‘বাবারা তোমরা একজন একজন করে যাও, আমার মেয়েটা ছোট......’’ 


সেই সময়, এই সুকোমল বড়ুয়া মিডিয়ায় বলেছিলেন—‘‘দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো নির্যাতন নিপীড়ন হয়নি। সংখ্যালঘুরা ভালো আছেন।’’


এই ধরণের মিথ্যা জঘন্য এবং ঘৃণ্য বিবৃতির পর বিএনপি সুকোমলকে পুরস্কার দিতে বিলম্ব করেনি। তিনি পেয়েছিলেন একুশে পদক। এগারো বছর পর সেই সুকোমল বড়ুয়া কাঁদছেন! 


সুকোমল, পূর্ণিমাদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার ছিলাম। বৌদ্ধদের ওপর হামলার ঘটনাতেও আমরা একই ভূমিকায় রয়েছি। আপনার কান্না আমাকেও স্পর্শ করেছে। বৌদ্ধমন্দিরে এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এই দেশ শুধু মুসলমানের নয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান আদিবাসী সবার। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিলো আমাদের। কিছু ঘৃণ্য শিক্ষিত-অশিক্ষিত রাজনীতিবিদ এবং তাদের কিছু ততোধিক ঘৃণ্য শিক্ষিত-অশিক্ষিত সমর্থকের লোভ ও মস্তিষ্কহীনতার কারণে বারবার এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশে সকল নাগরিকের সমান অধিকার চাই। সকল ধর্মের মর্যাদাপূর্ণ সহঅবস্থান চাই।


লুৎফর রহমান রিটন

Disqus for Simple thoughts...