February 6, 2013

খুলনার জনগনের প্রতিরোধ-প্রতিবাদ-বিক্ষোভ

আমরা যারা আজ রাজপথে, শাহবাগে, চট্টগ্রাম-সিলেটে, খুলনায় এবং অনলাইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে লড়ে চলছি তাদের জন্য শহীদ জননী জাহানারা ইমামের শেষ চিঠি হতে পারে উৎসাহের উৎস।

প্রিয় সহযোদ্ধারা,

গত তিন বছরে ধরে তোমরা একাত্তরের যুদ্ধাপারাধী গোলাম আযম ও তার সহযোগী রাজাকারদের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছো। বাঙ্গালী জাতি হিসেবে আমাদের একতা এবং সাহস নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। আমাদের সংগ্রামের শুরু থেকেই আমি আপনাদের সাথে ছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিলো উদ্দেশ্য সফল না হওয়া পর্যন্ত লড়ে যাওয়া । ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আমি এখন মৃত্যুশয্যায়। আমি আমার কথা রেখেছি। রণাঙ্গন ছাড়িনি। কিন্তু মৃত্যুপথের এই যাত্রায় আমি নিরুপায়। তাই লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবার শপথটি আমি তোমাদের মনে করিয়ে দিতে চাই আবারো। তোমাদের অবশ্যই এই অঙ্গীকারটি পূরণ করতেই হবে। যদিও আমি থাকবো না, তবু তোমাদের অবশ্যই একাতাবদ্ধ থাকতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। তবেই আমি জানবো , আমার লাখো বাঙালি ছেলেরা মুক্ত স্বাধীন সোনার বাংলায় তাদের সন্তানদের নিয়ে বাস করতে পারবে শান্তিতে।

আমাদের এখনো পাড়ি দিতে হবে এক দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য পথ। সকল পথ ও মতের মানুষরা আজ যোগ দিয়েছে এই যুদ্ধে। বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংঘটন, মুক্তিযোদ্ধা, নারী, ছাত্র, যুবক সবাই আজ অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে এই যুদ্ধে। আর আমি জানি, সাধারণ জনগণের মত প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সচেষ্ট আর কেউই নয়। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। তাই গোলাম আযমসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার এই দায়িত্বটি দিয়ে আমি যাচ্ছি তোমাদের উপর - এই বাংলাদেশের নাগরিকদের উপর। নিশ্চয়, বিজয় আমাদের হবেই।

জাহানারা ইমাম

----------
শহীদ শফী ইমাম রুমীর মাতা, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সোচ্চার বিমূর্ত এক প্রতীকের নাম। ১৯৯২ সালে তার করা গণআদালতের প্রেক্ষিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিটি সর্বপ্রথম দেশব্যাপী এক গণআন্দোলনে পরিণত হয়। তৎকালীন বিএনপি সরকার এই আন্দোলনের কারণে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয় এবং এই মামলা কাঁধে নিয়েই ক্যান্সারের ফলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।







খুলনার জনগনের প্রতিরোধ-প্রতিবাদ-বিক্ষোভ
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৭, ২০১৩ সকাল ১০টা
হাদিস পার্ক, খুলনা

Disqus for Simple thoughts...