February 3, 2015

নেইগ্রামের ইলেকশন…

 

এলাকার নাম ধরে নিন "নেইগ্রাম"। এই "নেইগ্রাম" এর মোড়ল নির্বাচন পদ্ধটা জানতে পেরে টোটালই হাবলা হয়ে গেছি! হাবলা হবার মতই কান্ড সেটা।

"নেইগ্রাম" এর শাসন ব্যাবস্থা এক্কেবারে গনতান্ত্রিক - "ফর দ্যা পিপল, অফ দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল" - আর কি। ফর দ্যা পিপল মোড়ল নির্বাচন হয়, অফ দ্যা পিপল হিসেবে "নেইগ্রাম" এর দুই পালোয়ান জগাই আর মধাই পালাক্রমে মোড়ল হয় একএক বার, বাই দ্যা পিপল স্টাইলে গ্রামবাসীরাই ভোট দিয়ে ওদের কাউকে নির্বাচিত করে মোড়ল হিসাবে। তবে ইলেকশন স্টাইলটা দেখেই টোটালি হাবলা হয়ে গেছি।

ইলেকশনের স্টাইল হলো, নির্ধারিত (মাঝে মাঝে অনির্ধারিত সময়েও হয়, যখন গেল ভোটে হারু পাট্টির সখ হয় তক্ষুনি মোড়ল হবার) সময়ে দুই পালোয়ান জগাই আর মধাই নেংটি পরে পাহাড়ের মড়ন বিশাল শরীরে সর্ষের তেল মেখে বাইসেপ-টাইসেপ ফুলিয়ে সাত সকালে ধম্মের ষাঁড়ের মতন বেরিয়ে পড়ে। সেসময় ওদের কারো সামনে পড়লে রক্ষে নেই! কাউকে এক লাথিতে পটল তোলাবে, কাউকে কিলিয়ে ভর্তা করে মারবে।

সন্ধে নাগাদ ত্রাহি রব উঠে যায় "নেইগ্রাম" এর বাসিন্দাদের। তখন তারা সোজা হিসেবে টালি করে দেখে কোনটা আজকে সব থেকে ভয়ংকর, জগাই নাকি মধাই, শেষমেষ যার খুন-খারাপির পাল্লা বেশী তাকেই সেবছরের জন্যে মোড়ল করে দেয় "নেইগ্রাম" বাসিন্দারা।

এবারে অবশ্য জগাই ক্ষমতায়, এক্কেবারে পর পর দু'বার। কারন গেলবার ইলেকশনের সময় মধাইয়ের গা ম্যাজম্যাজ করছিলো বলে মধাই ইলেকশনেই যায় নি, জগাই চুপচাপ মোড়োল হয়ে গিয়েছিলো। কদিন ধরে মধাইয়ের মনে হয়েছে এক্ষুনি মোড়ল হতে হবে। পাবলিকে যেই বলেছে "ধৈর্য্য ধরো সুনা, ইলেকশন আসুক", ব্যাস! মধাই একেবারে রেগে আগুন তেলে বেগুন! তারপর থেকে যাকেই সামনে পাচ্ছে তাকেই কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে কাবাব বানাচ্ছে মধাই বেটা। তার দাবি একটাই, এক্ষুনি মোড়ল হওয়া চাই!

একটাই ঘটনা বুঝছিনা আমি, আরে বাবা, তোমার যদি মোড়ল হবার খায়েশ এতই থাকে, তবে পাবলিক পুড়িয়ে মেরে লাভ কি! পাবলিক মরে সাফ হলে মোড়লগিরি ফলাবে কার ওপর! তারচে তুমি গিয়ে জগাইয়ের সাথে কুশ্তি লড়োনা কেনো! জগাইকে পদচূত্য করবে তো জগাইকেই পোড়াও গিয়ে, নিরিহ পাবলিক পোড়াচ্ছো কেনো?

Disqus for Simple thoughts...