July 1, 2015

ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধে চতুর্থ পক্ষ জুলাই ১, ২০১৫

বেশ কয়েক মাস, প্রায় বছর-ই বলা যায়, বেশ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি বেশ কয়েকজন মানুষ। সবথেকে বড় সমস্যা, আমরা হঠাৎই যেনো শিকারের "ওপেন সিজন" ঘোষনার স্বীকার আমরা। বিষয়টা বেশ মজার-ই হবে বোধ হয়, ধাঁ করে কিছু ধর্মান্ধ-ধর্মব্যাবসায়ী একটা নামের লিষ্টি বানালো, পত্রিকাগুলি তা ছাপা শুরু করলো, আর শুরু হলো খুন, কুপিয়ে, জবাই করে, রড দিয়ে পিটিয়ে - যার যেমন খুশি মারতে পারে আমাদের।

জিডি করতে গেলে থানা জিডি নেয় না, কেউ খুন হয়ে গেলে পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে, হিজড়েরা খুনীদের ধরে দিলে পুলিশ পরবর্তী সূত্র হারিয়ে ফেলে - এরপর আবার আরেকজনকে কুপিয়ে মারা হয়, আবার সেই চক্কর শুরু - চক্কর চলছে তো চলছেই।

আমরা যেনো কিছু অদ্ভূত জীব - যে জীবদের নাম ঐ ধর্মান্ধ-ধর্মব্যাবসায়ীরা ঘোষণা করেছে "নাস্তিক" নামে। যেসব খুনিরা ধরা পড়েছে, তারা কেউই হিট লিস্টে খুন হতে অপেক্ষায় থাকা কারো লেখা পড়েনি, শুধু শুনেছে "ওরা নাস্তিক, ওদের কতল করলে বেহেস্ত নিশ্চিত, ওদের কতল করা ধর্মের পবিত্র জেহাদের সমতূল্য" - কখনো সেই অদৃশ্য বক্তা কোনো "বড় ভাই", কখনো সেই অদৃশ্য বক্তা কোনো "বড় হুজুর"।

এমনকি, এইসব হত্যাকান্ডের দায় প্রাথমিক ভাবে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামক একটা আন্ডারগ্রাউন্ড জঙ্গী দল নিলেও, পরবর্তীতে আল-কায়েদার মতন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদল তাদের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়। অর্থাৎ, জঙ্গীবাদ ও খুনও এখন বিদেশ থেকে আউটসোর্স হচ্ছে এদেশে।

আইন তার পুরোনো চক্করে পড়ে চক্কর কাটতে থাকে, অদৃশ্য "বড় ভাই" আর "বড় হুজুর" ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থাকে - একটা করে খুন হতে থাকে, আমরা একটা করে দিন পার করতে থাকি।

এইরকম একটা সময়ে আজকে হঠাৎ করেই একটা জিনিষ আবিষ্কার করে স্তব্ধ হয়ে পড়লাম - আমরা আসলে ত্রিপক্ষীয় একটা যুদ্ধ ক্ষেত্রে পড়ে গেছি।

একপক্ষে ধর্মান্ধ-ধর্মব্যাবসায়ীরা, যাদের ধর্মান্ধতা ছড়ানো আর ধর্ম-ব্যাবসার বিপক্ষে আমরা দাঁড়িয়ে।

একপক্ষে সুবিধেভোগীর দল, এরা যেখানে সুবিধে পাবে সেখানেই নিজেকে বিকিয়ে দেবে, আজ ওরা ধার্মিক সাজছে- কাল এথিস্ট কান্ট্রির ভিসা পেতে নিজেই নিজের এত প্রিয় ধর্মকে ছেড়ে নাস্তিক লিস্টে নাম লেখিয়ে নিজেকে অরক্ষিত-নিপিড়িত দেখাবে।

আরেকপক্ষে, অত্যন্ত আশ্চর্য্যজনক ভাবেই, আমাদেরই সমমনা কমরেডরা! যারা দূরে বসে এখানকার পানি ঘোলা করছে, বুঝতে চাইছে না যে তাদের এই উৎকট নিম্ন-রুচীর রসিকতার পরিনতিতে আমাদের বিপদটা আরো বাড়বে, কমবে না। এদের বোঝানো সম্ভবই না যে যুদ্ধক্ষেত্রে একজন বেকুবের বেকুবিতে পুরো দলটাই ছত্রখান হয়ে যেতে পারে। এদের বোঝানো সম্ভব না, কারন এরা গায়ের জোরে বুঝবে না, তারাতো উন্মাদগুলির হাতের নাগালের বাইরে আছেন, অতএবঃ আমরা এখন মরি আর বাঁচি - তাতে তাদের কিছু না।

অস্ত্রধারীকে বোঝাবার উপায় দুটো,
১/ তাকে প্রশ্ন করতে শেখানো
২/ নিজেও অস্ত্রধারন করা, তারপর অস্ত্রের জোরে শেখানো

প্রথমটিতে প্রয়োজন প্রচুর ধৈর্য্য, প্রচুর কৌশল আর প্রচুর সাধনা। দ্বিতীয়টিতে কষ্ট কম, রেস্ত প্রয়োজন ব্যাপক।

তাই দিনশেষে এখন নিজেকে এই ত্রিপক্ষীয় দাবা বোর্ডের চতুর্থ একলা "বোড়ে" মনে হচ্ছে, যেখানে একলা বোড়েটিকেই লড়তে হবে অসম যুদ্ধে তিনটি ধর্মান্ধ, সুবিধেবাদী আর পেছন থেকে ছুরি মারতে অভ্যস্ত কমরেডদের বিরুদ্ধে।
ছবিঃ গুগল করে পাওয়া, কিছুটা এডিটেড


Disqus for Simple thoughts...