May 30, 2016

নেপালের রাজধানী নেপচুন অথবা আই এ্যাম জিপিএ ফাইভ বিষয়ক



এই পোলাপাইনডির (নীচের ভিডিও দ্রষ্টব্য) দোষ, এগো বাপ-মা ভালা না। সিরিয়াসলি কৈতাছি, এদের দেখে যতটা নির্বোধ মনে হৈতাছে তার চাইতে অ-নে-ক বড় নির্বোধ এগো বাপ মা। এইবারে ধরেন এরা সারা দেশের অনেকগুলা সেগমেন্ট এর একটা মাত্র এবং বাকি সব সেগমেন্ট এর ও সেইম অবস্থা। - তাইলে সব মিলায়ে চিত্রটা কি পাইলেন?

যা পাইছেন সেইটা আসলে কিছুই না, যাষ্ট "টিপ অব দ্যা আইসবার্গ"। আসল বিষয়টা এখনো অনেক তলে ডুইবা আছে। আর সেই বিষয়টা আসলে জটিল কিছুই না, বিষয়টা খুব সাধারন "দায়িত্বে অবহেলা" এবং দায়ী আমরা - আপনি, আমি এবং সবাই।

আশেপাশের দুইটা উদাহরন দেই এইখানে।

কেইস নং ১
পোলা ক্লাস এইটের ছাত্র আর এইটা কিন্তু মাসে মে এর শেষ, মানে কি না জেএসসি পরীক্ষার মাত্র কয়েকমাস বাকি। তাই স্বাভাবিক ভাবেই সকাল থেকে দুপুর স্কুলিং, বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় "সেরা প্রাইভেট মাস্টার" আর "সেরা কোচিং", জেএসসি এক্সাম পর্যন্ত সকল প্রকার খেলাধুলা আর "আউট-বই" বন্ধ। ফেল করলে বা জিপিএ "গোল্ডেন এ প্লাস" (গোল্ডেন বিষয়টা এখনতরি আমি বুঝি নাই) না পাইলে কি কি টাইপ "খবর করে দেওয়া হবে" সেই নিয়ে পিতা-মাতার রক্তচক্ষু আর চাহিদা মোতাবেক "গোল্ডেন এ প্লাস" পাইলে "ওমুক মোবাইল" বা "তমুক গেমস সিস্টেম" অথবা "সমুক মডেলের ল্যাপটপ" কিন্যা দেওনের প্রতিশ্রুতি - এইসব মিলা একটা ত্রাহী অবস্থায় থাকার কথা পোলার।

অথচ হৈতাছে উল্টা। পোলা স্কুলে যায়, বাসায় আসে, বিকালে মাঠে খেলতে যায়, বাপে বিকালে বাসায় আসলে বাপের মোবাইল নিয়া "ক্লাশ অব ক্ল্যান" খেলে, সন্ধ্যায় একটা মাস্টার আসে এক ঘন্টা পড়াইতে, তারপর বাপে পোলা বইসা টিভিতে ক্রিকেট থাকলে দেখে আর দুই জনে সমান তালে চিল্লায়। আরো ভয়াবহ বিষয় হৈল পোলা নিয়মিত আউট বই ও পড়ে। এইসব বইয়ের সাপ্লাইয়ার পোলার বাপে স্বয়ং! পোলার একাডেমিক রেজাল্ট এভারেজের একটু ওপরের দিকে থাকলেই বাপে খুশি।

এই পোলার বাপে চায় পোলা ভদ্রস্থভাবে পাশ করুক, মুখস্থ না কৈরা কিছু শিখুক।

ফ্যামিলি উচ্চ-মধ্যবিত্ব, প্যারেন্টিং স্টাইল- দরকারে শাসন, দরকার মতন গাইডেন্স আর কোনোকিছু চাপায়ে না দেওয়া।

কেইস নং ২
ঘটনাটা একটু পুরাতন, মাস খানেক আগের। আলোচ্য স্টুডেন্ট এসএসসি দিয়াছে, "গোল্ডেন এ প্লাস" পাবে কনফার্ম, বেড়াতে আসছে, সম্পর্কে আত্মীয়। সারাদিনে তার মনোযোগ খালি সেলফি, ফেসবুক, এমটিভি আর দোস্তো-বন্ধু। (প্রথমটা আমার নার্সিসিজম মনে হয়)। খাতির জামাইতে গিয়া পড়লাম বিপদে। এমটিভি, ফেসবুক আর সেলফীর বাইরে তার কোনো জগৎ নাই! ফিউচার প্লান ও নাই! কারন রেজাল্ট সব এ প্লাস হৈলে একটা না একটা চাকরী জুইটা যাবে!

 এইম ইন লাইফ না থাকলেও নিয়ার ফিউচার একটা এইম নিয়া সে চিন্তিত, তা হৈল, এসএসসি এক্সাম দিছে এই উপলক্ষে বাসা থিকা স্যামসং এর একটা বিশাল স্ক্রীন এর ফোন কিন্যা দিছে (এইটা নিয়াই সেলফি/ফেসবুকিং সারা দিন রাইত), "গোল্ডেন এ প্লাস" পাওনের পর কি চাওন যায় সেইটা নিয়া চিন্তায় এখন একটু বিজি আছে।

গান শুনতে পছন্দ করে শুনে একটু আলাপ সেইদিকে নিতে গিয়া আমি এবাউট টার্ন, কারন গানের ভাষা হিন্দি এবং একমাত্র ফেভারিট সিংগার "হানি-সিং"! পহেলা বৈশাখ নিজের শহরে থাকতে না পারায় ভীষন মন খারাপ - মাস্তি হৈল না। তবে সেইটা ঈদে পোষায়ে নিবে "আনলিমিটেড মাস্তি" কৈরা।

রেগুলার লাইফ (পরীক্ষার আগ পর্যন্ত) - স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট টিচার, বাসা। ফ্যামিলি মধ্যবিত্ব, প্যারেন্টিং স্টাইল, টাইপিক্যাল এক্সট্রিমিস্ট (সব সাবজেক্টেই গাছের মাথায় উইঠা নম্বর আনবা, আউট বই পড়লে মাথা পাগল হয়।)

দুইটা বিষয় - দুইটাই নিজের আত্মীয়, প্যারেন্টিং এর দুইটা ভিন্ন পরিবেশ।

এইবার আসি "দায়িত্বে অবহেলা" পার্ট এ। নয়া কি এক কানুন আইছে "সৃজনশীল" নামে তা আমি নিজেই বুঝি না, বাজী ধৈরা কৈতে পারি ম্যাক্সিমাম বাপ-মা ই বুঝে না। জিপিএ/গ্রেডিং সিস্টেম এক্সপ্লেইন করতে কৈলা খালি প্যারেন্ট-রাই না, এইখানেও বাজী ধরতে পারি, যে কোনো রেগুলার স্কুলের ৫০% টিচারও পারবে না।

আমরা খালি আছি "ভালো রেজাল্ট হৈলে ভালো চাক্রি", "বুয়েটে আর মেডিকেলে চান্স না পাইলে জীবন শ্যাষ" ডর দেখাইতে। আমাগো পোলাপাইনের বেসিক আর কমন সেন্স শিক্ষাদানে আমরাইতো আউগাই না, "ক্লাসে ঠিক মতন পড়াইলে আমার কোচিং ব্যাবসার কি হবে?" টাইপের টিচারদের দায় পড়ছে বাচ্চাগুলারে এইসব পড়াইতে? এই অবহেলাটাই আমাদের আর সেইটার ইমপ্যাক্ট হৈল এই ভিডিও। আমরা কোনদিন কৈ নাই, "বাবা মানুষ হইস", আমরা কোনদিন কোনো ভোটপ্রার্থীরে কৈ নাই, "গেলবার তো খালি বোল-চাল ই ঝাড়ছিলেন কামের কামে কিছু দেখি নাই, এলা কন আপনেরে ভুটামু ক্যালা?" আমরা কোনোদিনই মামলা করি নাই "প্রশ্নপত্র ফাঁস" কারনে।

না এই ভিডিও-ই বাংলাদেশ না, এই ভিডিওর পোলাডিই সারা বাংলাদেশের সব পোলাপাইনের প্রতিনিধি না, তবে এরা কিন্তু এই সিস্টেম ফেইলিওরেরই ভিকটিম। বছরেরপর বছর এপার্টমেন্টের খুপচিতে বইসা বাপ-মা, সামাজিক এক্সপেকটেশনের চাপ আর "দরাজ-দিল শিক্ষানীতি"র ভিকটিম হইছে এরা একটু একটু কৈরা, অগোচরেই। আর এই অবস্থা সল্যুশন আসলে আমাদের হাতেই, খালি দরকার আওয়াজ উঠানি আর আমাদের "দায়িত্বে অবহেলা" বিষয়ে নিজেরাই একটু আলোতে আসা।

(ভিডিওটা যাষ্ট স্যাম্পল, বাংলাদেশী সাংবাদিকতার মানের ক্রমশঃ নিম্নগতির নমুনা হিসাবেও এইটা আলোচ্য হৈতে পারে।)

Disqus for Simple thoughts...