June 20, 2016

হেফাজত-এ-ইসলাম এর রাস্ট্রবিরোধী লিফলেট - যা আমাদের ৫৭ ধারার চোখে পড়ে না


২৫ মার্চ ২০১৩, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সেক্রেটারী জেনারেল মৌলানা নাছির উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছিলো বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অফিসে এবং প্রিন্ট আকারে বিলি করা হয়েছিলো চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে। লিফলেটটি নিম্নরূপঃ

১. কাফের মুশরিক মুনাফিকদের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ এবং সমমনা বামদল গুলোর নিয়ন্ত্রনাধীন বর্তমান সরকারকে প্রতিহত নির্মূল ও উচ্ছেদ করার জন্য আমরা হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ধর্মপ্রাণ বিশ্ব মুসলিম আলেম ওলামা এবং সমমনা দল গুলোর প্রতি আহব্বান জানাচ্ছি। আওয়ামীলীগ ও বামদের মদদ দান কারী সংস্থা সমূহ প্রিন্ট মিডিয়া (দৈনিক জনকন্ঠ, কালের কন্ঠ, যুগান্তর, সমকাল, প্রথম আলো, সংবাদ, ভোরের কাগজ, দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক আজাদী, চট্টগ্রাম মঞ্চ, সুপ্রভাত বাংলাদেশ) ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া (এ,টি,এন. সময়, ৭১টিভি, জি টিভি,) সহ সকল বামপন্থী বুদ্ধিজীবিদের হত্যা ও ধংস করা জরুরী মনে করছি। ইসলামের বিরুদ্ধ বাদীদের হত্যাকরা ঈমানী দ্বায়িত্ব বলে মনে করি। ভারত ও আমিরিকার মদদে চলিত সকল দল ও রাজনৈতিক নেতাদের হত্যাকরা জায়েজ বলে ঘোষণা দিচ্ছি।

২. ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ বর্তমানে কাফের ফাউন্ডেশনে পরিণত হয়েছে। বায়তুল মোকারম মসজিদের খতিব, শোলাকিয়ার ঈমান, সুনিড়ব জামাতের ঈমাম গণ, ক্রিকেট খেলোয়াড়, বল খেলোয়াড় গান ও নাটক সিনেমার মানুষগণ যারা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চকে সমর্থন জানিয়েছেন সেই সব মুসলিম নামধারী ইসলামের দুষমন কাফের মুরতাদ মুশরিকদের হত্যাকরা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ বলে মনে করে। তাই ব্লগার রাজিব হত্যাকারীদের, হেফাজাতে ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয় বীর বলে মনে করে। সুন্নী জামাতের দশ আলেম হত্যা প্রচেষ্টাকারী বীরদের হেফজতে ইসলাম বাংলাদেশ সমর্থন করে। তা ছাড়া ও শাহাবাগকে জারা সমর্থন জানিয়েছে তারাও কাফের। অতএব, তাদের হত্যাকরা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সকল ধর্ম প্রাণ মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব মনে করে। যে সমস্ত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি,আর্মি বর্তমান কাফের সরকারকে সমর্থন জানাচ্ছে কিংবা তাদের টিকিয়ে রেখেছে তাদের হত্যাকরা এবং সকল পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আর্মি ব্যারাক ধংস করা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ফরজ বলে মনে করে।

৩. চিটাগাং ক্লাবের মত দেশের অন্যান্য ক্লাব গুলো যেখানে প্রকাশ্যে পতিতাবৃত্তি চলে, সিনেমা হল সমূহ ,অভিজাত হোটেল সর্মূহ, জাকাতের বিরোধীতা কারি , ট্যাক্স এবং কাস্টম অফিস সমূহ, পতিতালয়ের মত গার্মেন্টস শিল্প সমূহ শরিয়ত আইনের বিরুদ্ধবাদী কোর্ট সমূহ কাফের দের সকল স্থাপনা, আল্লাহর আইনের বিরোধীতা কারী স্কুল কলেজ মাদ্রাসা সমূহ ধংস করে দেয়া হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ অত্যন্ত জরুরী মনে করে।

৪. আওয়ামীলীগ সরকার কিংবা নেতৃবৃন্দ দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত সকল প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির, গির্জা এমনকি মসজিদ সমূহ যেখানে শয়তানি ও বেদাত চর্চা হয় সেই সমস্ত যে কোন মূল্যে ধংস করার জন্য আহব্বান জানাচ্ছি। আগামী ১৭ মার্চ বাংলার কাফের শেখ মুজিবের জন্মদিন থেকে সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত এক নাগাড়ে হরতাল পালন করার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও দেশবাসীর প্রতি আহব্বান জানাচ্ছি।

৫. এ দেশের সংখ্যাগরিস্ট মানুষ মুসলিম। এ দেশের মানুষের ধর্ম ইসলাম। তাই এ দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টানদের বসবাসের অধিকার নেই আওয়ামীলীগারদের এবং কমিউনিস্টরা যদি তারা মুসলমানও হয়ে থাকে তথাপি এ দেশে তাদের বসবাসের অধিকার নেই। তাদের বসত বাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে উচ্ছেদ করার এবং কাফের মুশরিকদের হত্যা করার জন্য আমি ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের আহব্বান জানচ্ছি। শাহবাগের কাফের, মুশরিক, মুরতাদদের বিচারের সম্মখীন করে তাদেরকে ধর্ম দ্রোহীতার জন্য ফাসিঁর কাষ্ঠে ঝোলানোর ব্যবস্থা করার আহব্বান জানাচ্ছি। আল্লামা হযরত দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, গোলাম আযম, কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, আবুল কালাম আজাদ সহ প্রহসনের ট্রাইব্যুনালে বন্দী সকল রাজ বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। যে কোন মুল্যে আওয়ামীলীগ সরকারকে এ মূহুর্তে উচ্ছেদ করার আহব্বান জানাচ্ছি।

৬. এদেশ পাকিস্তান ছিল, পাকিস্তান আছে, পাকিস্তান থাকবে। পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষা ও একীভুত করার জন্য আমি সমগ্র মুসলিম সমাজকে জিহাদের ডাক দিচ্ছি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধবাদী সুন্নী নামক আলেম ওলামা ও কবর পূজা কারীদের আমরা হত্যার আহব্বান জানাচ্ছি।

৭. আলামা শাহ্ আহম্মদ শফি জমানার মোজাদ্দেদ। তিনি বর্তমান ইসলামের যুগ খলিফা এবং ঈমাম মেহেদী ও বটে। তার প্রতি ঈমান আনা, তার আদেশ নিষেদ মেনে চলা সমগ্র বিশ্ব মুসলিমের কর্তব্য। যারা তার বিরোধিতা করবে তার প্রতি কুৎসা করবে তারা কাফের। তাদেরকে হত্যাকরা বিশ্বমুসলিম সমাজের দায়িত্ব।

৮. আল্লামা শাহ্ আহম্মদ শফির উপর ইলহাম হয়েছে আল্লামা সাঈদী একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম এবং ইসলামের ঝান্ডাবাহী একমাত্র সেনাপতি। পৃথিবীতে থাকা অবস্থায়ই তিনি বেহেস্তের স্বাদ লাভ করিবে। তার জন্য যারা যুদ্ধ করিবে তারা বেহেস্ত লাভ করিবে। তার জন্য যারা জান মাল কোরবানী করিবে তারা বেহেস্তে তার লক্ষ্য গুণ পুরুষ্কার ভোগ করিবে। যারা মৌলানা সাঈদীর নামে একজন বিরুদ্ধবাদী হত্যা করবে তজ্জন্য তারা বেহেস্তে ও গাজি হিসেবে অভিষিক্ত হইবে এবং যার তার জন্য শহীদ হইবেন তারা নিশ্চত ভাবে জান্নাতুল ফেরদৌসে গমণ করিবে।

এই নির্দেশ আলামা শাহ্ আহম্মদ শফীর পক্ষ থেকে। তিনি নিশ্চিত ভাবে ঈমাম মেহেদী হবার দাবি রাক্ষে যারা নির্দেশ সমূহ অক্ষরে অক্ষরে পালন করিবে তারা ইহকাল, পরকাল দুই-ই পাবেন। আর যারা অমান্য বা অস্বীকার করিবে তারা ইহকালে যন্ত্রণা ভোগ করিবে এবং পরকালে নিশ্চিত জাহান্নামি। যারা নির্দেশ নামাটি পাইবেন তারা ১০০ (একশত) কপি করে বিতরণ করবেন। আল্লাহ আপনাদের হেফাজত করবে। পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষায় থাকুন।

প্রচারেঃ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষে
মৌলানা নাসির উদ্দিন
সেক্রেটারী জেনারেল
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

লিফলেট এর পিডিএফ কপি

টেক্সট এবং পিডিএফ ফাইলটি ইস্টিশন ব্লগ থেকে আহরিত।

Disqus for Simple thoughts...