June 5, 2016

এসপি বাবুল আক্তার - পুলিশ যখন সন্ত্রাসের শিকার



এসপি  বাবুল আক্তার বেশ পরিচিত একটি নাম পত্রিকা কল্যাণে। বিপদে পড়লেই সাধারণ মানুষ দ্বারস্থ হয় তাঁর। সহযোগিতা চায়। বাবুল আক্তার নিরাশ করেন না, বরং সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন।

সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা আর সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন বলেই অল্প সময়ের এ চাকরিজীবনে একবার পুলিশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল-বিপিএম (সাহসিকতা), দু’বার প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম), একবার আইজি ব্যাজ ও চারবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার নির্বাচিত হয়েছিলেন বাবুল আক্তার। ২৪তম বিসিএস থেকে পুলিশ বিভাগে যোগ দিয়ে ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে সাহসী অফিসার হিসেবেই সুনাম কুড়ান বাবুল আক্তার। 'আইকন' বাবুল আক্তারকে নিয়ে গর্ব করে বাংলাদেশ পুলিশ। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে রাজারবাগ প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কার তুলে দেওয়ার আগ মুহূর্তে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বাবুল আক্তারকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন এই বলে, 'বাবুল আমাদের সবচেয়ে সাহসী অফিসার।'

এছাড়াও, দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তি মিশনেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মেধাবী এই পুলিশ কর্মকর্তা মাত্র দুই মাস আগে, গত ৫ এপ্রিল পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পান।

২০০৫ সালে জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মোজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সিরিজ বোমা হামলায় কেঁপে উঠেছিল সারা দেশ, চট্টগ্রামে জেএমবির উত্থান এবং সেটা ঠেকানোর জন্য বাবুল আক্তারের ভূমিকা ২০১৫ সালের শেষদিকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে সারা দেশের গণমাধ্যমে স্থান পেয়েছিল।

হাটহাজারী এবং কক্সবাজারে কর্মরত থাকার সময়ও বারবার গণমাধ্যমে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন বাবুল আক্তার। কক্সবাজারে জলদস্যু দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০১৩ সালে বেশ কয়েকজন শীর্ষ জলদস্যুকে গ্রেপ্তারের পর কক্সবাজারের এলাকায় এলাকায় জেলেরা মিষ্টি বিতরণ করেছিল।

কক্সবাজারে বৌদ্ধমন্দিরে হামলার ঘটনা তদন্ত এবং সেখানকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার অন্যতম অবলম্বন হয়ে উঠেছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। হাটহাজারীতে দরিদ্র, অসহায় ‍মানুষ বিশেষ করে নারীদের আইনগত সহায়তা দিয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বাবুল আক্তার। অবস্থা এমন হয়েছিল, হাটহাজারী এবং কক্সবাজার থেকে বাবুল আক্তারের বদলি ঠেকাতে জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল।

আজ এই সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসার বাবুল আক্তার এর স্ত্রী মাহমুদা খাতুন ওরফে ‍মিতু আক্তারকে চট্টগ্রামে ছয় বছরের শিশু সন্তানের সামনে ছুরিকাঘাত ও মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে মোটরসাইকেলে আসা তিন দুর্বৃত্ত প্রথমে তাকে (বাবুল আক্তার এর স্ত্রী মাহমুদা খাতুন ওরফে ‍মিতু আক্তারকে) মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা মারে। এরপর উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে এবং সবশেষে মাথার বাম পাশে কপালের কাছে গুলি করে।

মা হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ছয় বছর বয়সী ছেলেটি বলছে, মোটরসাইকেলে যারা এসেছিল, তারা প্রথমে তাকে একপাশে সরিয়ে নিয়ে যায়। এরপর একজন তার মাকে ছুরি মারে এবং পরে গুলি করে।

এই মুহূর্তে মাথায় কিছু আসছে না। বাবুল আক্তার পূর্ন বয়ষ্ক মানুষ, তার পক্ষে শোক হয়তো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে, সম্ভব হবে ঐ নৃশংস খুনীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা। কিন্তু ঐ ছোট্টো ছেলেটা? বয়স মাত্র ৬ বছর! ওর চোখের সামনে, ওকে ধরে রেখে ওর মাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা, তারপর গুলি করে মেরে ফেলা - ছেলেটা কি কোনদিন কাটিয়ে উঠতে পারবে এই জঘন্য ঘটনাটি?



আমরা কবে নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করতে পারবো আমাদের জন্যে নিজের জীবন বাজী ধরা, পরিবারকে স্যাক্রিফাইস করা বাবুল আক্তারদের মতন ল' অফিসারদের জন্য?

এ বিষয়ে সিনিয়র এ এসপি মাশরুফ হোসেইন এর ফেসবুক স্ট্যাটাস



এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা
মিতুর শ্বশুরবাড়িতে চলছে বিলাপ
মিতু হত্যার পিছনে জঙ্গিরা, ধারণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
Police officer Babul Aktar’s wife shot dead near home in Chittagong
Bangladesh: Wife of senior police officer killed
কেন সারা দেশে আলোচিত বাবুল আক্তার?

Disqus for Simple thoughts...