August 1, 2017

ওবায়দুল কাদের রাজনৈতিক বেশ‌্যাবৃত্বিক দলের বড় পদে অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক বেশ্যা মাত্র - অবাক হবার কি আছে?



বেশ আগের কথা, বাংলাদেশের একটি বিভাগীয় শহরের আওয়ামীলিগ এর প্রেসিডেন্ট, সারা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ মহলে প্রচন্ড ক্লিন ইমেজধারী এবং এলাকার সাধারনের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় লোকটি খুন হয়ে যান, সেখানে শেখ হাসিনা স্বয়ং আসেন শোকগ্রস্থ পরিবারটিকে শান্তনা দিতে।

তবে শেখ হাসিনার সাথে আসা ঐ শহরেরই কয়েকজন রাজনীতিবিদকে দেখে খুন হয়ে যাওয়া ভদ্রলোকটির দুই ছেলেই তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন, সরাসরিই প্রশ্ন করে বসেন, "আপনি কেন বাবার খুনীদের নিয়ে এখানে এসেছেন?" অনেক আশ্বাস দিয়ে তাদেে সেদিন থামিয়েছিলেন, সেইসব আশ্বাস হালে পানি পায়নি, বরং বর্তমান আওয়ামীলিগ এমপি লিস্ট-এ সেই সব খুনিরাই নির্বাচিত - বিচার হয় নি, সেটা বলা বাহুল্য।

সেই একই শহরে, বিএনপির কোন এক শাখা দলের এক নেতা ছিলো, মানে ক'বছর আগেও বিএনপির সেই শাখা দলে ছিলো আর কি। হর সন্ধ্যে বাংলা গিলে শেখ হাসিনাকে "বেশ্যা/খানকি/মাগী" ইত্যাদি গাল পাড়তো, বছর কয়েক আগে সেই লোক রাতারাতি ভোল পাল্টে মুজিবের একনিষ্ঠ সৈনিক হয়েছে, রাতারাতি এবারে আওয়ামীলিগের এক শাখা দলের বড় পদে অধিষ্ঠিত।

গণজাগরন মঞ্চের সময়ে জাতীয় দৈনিকেই খবর এসেছিল, পুলিশ রাজাকার গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলে আওয়ামীলিগ নেতা কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে জামিন করায়, আওয়ামী নেতা পিটিয়ে মুক্তিযোদ্ধার হাড় ভাঙে, সম্পদ দখল করে।

যে কোন শহরে গিয়ে খোঁজ নিলেই পাওয়া যাবে, ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে আওয়ামী-বিএনপি-জামাত এখন বেয়াই-বেয়াই। আর জামাতের নেতারা আওয়ামীলিগে যোগ দিলে তাদের বুকে টেনে নিয়ে ফুল দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয় - পত্রিকায় নজর দিলে এরকমটাই দেখি সচিত্র।

ফেসবুকে সুশান্তদা'র পোস্টেই দেখেছি, ছাত্রলীগের পান্ডাগুলো এসে সরাসরি বলে যায় ছাত্রলীগ নিয়ে কিছু বলার আগে তাদের সভাপতি-সাধারন সম্পাদকের পারমিশন নেওয়া বাধ্যতামূলক মনে করে তারা।

অনেকেরই অপ্রিয় প্রসঙ্গঃ জামাতের সাথে জোট বাঁধার পরে শেখ হাসিানরই বক্তব্য ছিল, তিনি জোটের নেত্রী হিসাবে জামাতেরও নেত্রী!

অতি অল্প কিছু উদাহরন - নিজের পাশে খোঁজ নিন পাঠক, এরকম কোটি উদাহরন পাবেন নিজের পাশেই।

আর ওবায়দুল কাদের? সেই একই রাজনৈতিক বেশ‌্যাবৃত্বিক দলের বড় পদে অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক বেশ্যা মাত্র। তার দল যখন রাজাকার পুনর্বাসনে ব্যাস্ত, সে কিভাবে দলদাসত্ব ছেড়ে প্রতিবাদ করবে? তাই সে গলা ছেড়ে ববিনা দ্বিধায় জামাত নেতার ছেলে-মেয়েদের পক্ষে সাফাই গায়।

বরং আজকের বেশ্যাবৃত্বিক রাজনীতিতে ছাত্রলীগের ঐ বহিষ্কৃত ৫ টা ছেলেই আসলে রাম ছাগল। ওদের এটা মেনে নিয়ে সরেই যাওয়া উচিৎ, সারা দেশে ছাত্রলীগ যখন অদম্য সন্ত্রাসী-ধর্ষক-খুনি-চাঁদাবাজ-দখলবাজ এবং ধর্মান্ধ হিসাবে নিজেদের সফল ভাবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে, তখন সেই সিস্টেমের ভেতরে বসে অক্ষম প্রতিবাদ না করে নিজের নিজের জীবন নিয়ে সরে থাকাই ভালো, ভবিষ্যতে ঐ পাঁচটা ছেলে নিজের সন্তানের সামনে নিজেকে ছোটো হতে দেখবে ন।

আর আওয়ামীলিগ? - বর্তমানে এই দলটি যেভাবে রাজাকার-জংগীদের বুকে টেনে নেওয়া আর নিজেদের জনশত্রু হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার নীতি নিয়ে এগোচ্ছে - পরিনতিটা কি হবে তা সহজেই অনুমেয়।

Disqus for Simple thoughts...